মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার কর্মকর্তাকে পিটিয়ে হত্যা, আটক ১
daily-fulki

আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার কর্মকর্তাকে পিটিয়ে হত্যা, আটক ১


স্টাফ রিপোর্টার : সাভার উপজেলার আমিনবাজার ইউনিয়নের বড়দেশি এলাকায় একটি অটোরিকশা ও প্রাইভেটকার রাখাকে কেন্দ্র করে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) এক কর্মকর্তাকে শনিবার রাতে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় পুলিশ কর্মকর্তার ছোট ছেলে আরিফুর রহমানকেও মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। পুলিশ প্রধান আসামী জহুরুলকে আটক করেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় ১৫ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।


নিহত এসবি কর্মকর্তার নাম মোঃ আলতাব হোসেন (৫৮)। তিনি ঢাকার মালিবাগ কার্যালয়ে উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঘটনার পর নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আহত তাঁর ছোট ছেলে আরিফুল ইসলামকে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আলতাব হোসেন সিরাজগঞ্জ জেলার এনায়েতপুর থানার সাধুপাড়া গ্রামের মরহুম জুরাইন আলী শেখের ছেলে। পরিবার নিয়ে তিনি আমিনবাজারের বড়দেশি মদিনা সিটি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। এঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন।


এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড়দেশীর মদিনা সিটি এলাকায় আবুল কালামের অটোগ্যারেজের সামনে অজ্ঞাতনামা এক অটোচালক সংযোগ সড়কে অটো রাখাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রাইভেটকার মালিক কাম চালক জহুরুল (৩২) এর সাথে অটোগ্যারেজ মালিক আবুল কালামের তর্ক-বিতর্ক হয়। এসময় প্রাইভেটকার মালিক গাড়ী থেকে নেমে গ্যারেজ মালিক আবুল কালামকে থাপ্পর মারেন। এমন সময় পুলিশের বিশেষ শাখার (এসআই)উপ-পরিদর্শক আলতাফ হোসেন প্রতিবাদ করলে প্রাইভেটকারের মালিক কাম চালক জহুরুলসহ তার সহযোগীরা আলতাফের উপর চওড়া হয়। তখন পুলিশ কর্মকর্তা আলতাফ জীবন বাঁচানোর জন্য তার ছেলে শরীফুলের মালিকানধীন এড্রইট ফ্যাশন এর দিকে ছুটে যায়। 
এসময় প্রাইভেটকারে থাকা জহুরুল, মজিবর, কাশেম, আলমগীরসহ তার সহযোগীরা আলতাফের পিছনে দৌঁড়ে যায়। সেই সাথে তাদের মোবাইলে অন্যান্যদের সাথে নিয়ে দেশীয় অস্ত্র পাইপ, ধারালো চাক্কু, হাতুড়ি, বাঁশ ও কাঠের লাঠি নিয়ে এড্রইট ফ্যাশনের ভিতরে প্রবেশ করে জহুরুল পুলিশ কর্মকর্তাকে তার হাতে থাকা কাঠের লাঠি দিয়ে মারতে থাকলে রক্তাক্ত জখম হন তিনি। এসময় বাঁচার জন্য আলতাফ হোসেন চিৎকার দিলে তার ছোট ছেলে আরিফুর রহমান এগিয়ে আসলে তার উপরও আঘাত করে। 


পরে স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় পুলিশ কর্মকর্তা আলতাফ ও তার ছেলেকে উদ্ধার করে শনিবার রাতে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পুলিশ কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে তার ছেলে আরিফুর রহমান গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 
এ ঘটনার পর থানা পুলিশ ভোরে মামলার প্রধান ও মূল হোতা প্রাইভেটকারের মালিক জহুরুলকে বড়দেশী এলাকা থেকে গ্রেফতার করেন। জহুরুল স্থানীয় মুসলিমের ছেলে। এঘটনার পর পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। 


এ ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনের স্ত্রী মোছাঃ শিউলি পারভীন বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।  
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, মামলার প্রধান আসামী জহুরুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামীদের সিসিটিভি ফুটেজ আমরা চিহ্নিত করেছি। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলমান রয়েছে।
 

সর্বাধিক পঠিত