মাসুম বাদশাহ, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) থেকে : মানিকগঞ্জের সিংগাইরে বিএনপি একাধিক গ্রুপে বিভক্ত। তাই
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সিংগাইরে তিন দিনে পৃথক তিনটি কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
১ সেপ্টেম্বর মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মইনুল ইসলাম খান শান্তর নেতৃত্বে, ২ সেপ্টেম্বর সাবেক উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মিঠুনের নেতৃত্বে এবং শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সাবেক উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবিদুর রহমান খান রোমানের নেতৃত্বে পৃথকভাবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি পালন করেন দলটির নেতাকর্মীরা।
একই দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে টানা তিন দিনে তিনটি কর্মসূচি হওয়ায় স্থানীয় বিএনপিতে বিভক্তির চিত্র আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে পৃথক কর্মসূচি ঘিরে এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
সর্বশেষ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রোমানের নেতৃত্বে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করেন। সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা উপজেলা চত্বরসংলগ্ন পুরোনো বাসস্ট্যান্ডের বটতলায় জড়ো হন। দুপুর ১২টার দিকে সেখান থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়।
র্যালিটি পৌর এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় সংক্ষিপ্ত সমাবেশ। উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ডা. জামাল উদ্দিন আহাম্মেদের সভাপতিত্বে এবং সহসভাপতি আসাদ উল্লাহ খান আজাদের পরিচালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন - উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবিদুর রহমান খান রোমান।
বক্তব্যে রোমান বলেন, ‘মানিকগঞ্জ ধানের শীষের এলাকা।’ আগামী দিনে ধানের শীষের রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
স্থানীয় সংসদ সদস্যকে উদ্দেশ করে রোমান অভিযোগ করেন, বিপুল ভোটে নির্বাচিত হলেও তিনি প্রকৃত ধানের শীষের ভোট পাননি। এ সময় তিনি বিতর্কিত ভাষায় ‘চিটার ধানের ভোটে নির্বাচিত’ হওয়ার অভিযোগ করেন। নির্বাচনে জয়ী হয়ে বড় কিছু হয়ে গেছেন—এমন ধারণা ভুল মন্তব্য করে তিনি বলেন, আগামী দিনে ধানের শীষের ‘পরিচর্যা’ করতে হবে।
এ ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নৌকা ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন রোমান। সংসদ সদস্যের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিএনপির অনেক নেতাকর্মী তাঁর সঙ্গে নেই এবং তাদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। তাঁর বাবা বিগত সময়েও একই ধরনের আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদরুল আলম খান বাদল, চান্দহর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজী আব্দুল লতিফ, জয়মন্টপ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান বাচ্চু, উপজেলা মহিলা দলের নেত্রী নিলুফার ইয়াসমিন, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুল হক মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হকসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পৃথক কর্মসূচি আয়োজনের কারণে দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভক্তির বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। তবে কর্মসূচিগুলো শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে এবং এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
