স্টাফ রিপোর্টার : আশুলিয়ায় একটি বন্ধ ঘর থেকে স্বামী-স্ত্রীসহ সদ্যভূমিষ্ঠ নবজাতকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে সাভার উপজেলার আশুলিয়া থানা এলাকার ইয়ারপুর ইউনিয়নের মধ্যজামগড়া এলাকার হাজী হযরত আলীর মালিকানাধীন চারতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া নবজাতকসহ স্বামী-স্ত্রীর লাশের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। নিহত নাজমা বেগমের বড় বোন শাপলা ঘটনাস্থলে এসে তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন, দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আলমগীর হোসেন (৪০), তাঁর স্ত্রী নাজমা বেগম (৩৩) এবং তাঁদের সদ্য ভূমিষ্ঠ নবজাতক।
স্থানীয়রা জানান, ওই কক্ষের দরজা-জানালা সবসময় বন্ধ থাকত। নিহত নারী ও পুরুষ স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে এক মাস আগে বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন। শুক্রবার রাতে কক্ষ থেকে তীব্র পচা দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে ঘরের দরজা খুলে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয়রা আরও জানান, নিহত আলমগীর হোসেন পান বিক্রি এবং নাজমা বেগম গার্মেন্টসে চাকুরী করতো।
পুলিশ জানায়, পুরুষের গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় মরদেহ পাওয়া গেছে। আর নিহত মহিলা গর্ভবতী ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে হত্যার সময় ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে গর্ভের সন্তান ভূমিষ্ট হয়। পরে সে মারা যায়। এ কারণে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক দিন আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ডিউটি অফিসার এসআই রাসেল হোসেন জানান, তিনজনের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্তের পর জানা যাবে।
ঘটনার পর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও আশুলিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘নিহত নাজমা বেগমের বড় বোন শাপলা ঘটনাস্থলে এসে তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। আলমগীরের গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় ছিল। পারিপার্শ্বিক আলামত দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ময়নাতদন্তের জন্য লাশগুলো হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।’
