স্টাফ রিপোর্টার : দীর্ঘ নয় বছরের আইনি প্রক্রিয়া শেষে সাংবাদিক অপু খন্দকারের বিরুদ্ধে দায়ের করা ১৫ কোটি টাকার মানহানি মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ইসমাইল হোসেন শুনানি শেষে মামলাটি খারিজের আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত ও গ্রহণযোগ্য ভিত্তি না থাকায় আদালত মামলাটি খারিজের আদেশ দেন।
আদালত সূত্র জানায়, সিআর মামলা নং-১২৯৪/২০১৭ দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন ছিল। ২০১৭ সালে মামলাটি দায়েরের পর প্রায় নয় বছর ধরে এর আইনি কার্যক্রম চলতে থাকে। অবশেষে সোমবার শুনানি শেষে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য এম এ মালেকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার করা হয়। এসব সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিক অপু খন্দকারের বিরুদ্ধে ১৫ কোটি টাকার মানহানি মামলা দায়ের করেন এম এ মালেকের স্ত্রী এবং বাংলাদেশ মহিলা যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেত্রী মিনা মালেক।
মামলায় সংবাদ প্রকাশ ও প্রচারের মাধ্যমে মানহানি করার অভিযোগ আনা হয়। তবে সাংবাদিক মহলের একটি অংশ শুরু থেকেই মামলাটিকে ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক বলে দাবি করে আসছিল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের আদেশে মামলাটি খারিজ হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা।
সাংবাদিক অপু খন্দকার ২০১৩ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নাইন-এর জেলা প্রতিনিধি হিসেবে সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই এলাকায় দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি ওইসব এলাকার বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, জনদুর্ভোগ এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার করেন।
আদালতের আদেশের পর সাংবাদিক অপু খন্দকার বলেন, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রকাশের কারণে তাকে দীর্ঘ সময় ধরে মামলার আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে সত্য ও জনস্বার্থের বিষয় তুলে ধরা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। দীর্ঘদিন পর আদালতের আদেশে তিনি ন্যায়বিচার পেয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন।
বর্তমানে অপু খন্দকার দেশের একটি জাতীয় দৈনিকের মাল্টিমিডিয়া বিভাগে ঢাকা বিভাগের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাংবাদিকতা জীবনে তিনি সাভার, আশুলিয়া, ধামরাইসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, অনিয়ম, দুর্নীতি ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন।
এ বিষয়ে সাংবাদিক অপু খন্দকারের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম শিহাব বলেন, তৎকালীন সংসদ সদস্য এম এ মালেকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর এ মামলা দায়ের করা হয়েছিল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন। আদালতের এ আদেশে তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা হলে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া তাদের পেশাগত কাজে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই এ ধরনের মামলার দ্রুত ও ন্যায়সংগত নিষ্পত্তি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
