সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
হরিরামপুরে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল
daily-fulki

হরিরামপুরে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল


মানিকগঞ্জ  প্রতিনিধি  : মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মো. মোল্লা শাহীনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমি দখল, লুটপাট ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ তুলে ঝাড়ু মিছিল ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সাধারণ মানুষ। এ সময় মিছিলকে ঘিরে বিকট শব্দের ঘটনা।


সোমবার (২৪ আগস্ট)  দুপুর ১২ টারদিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীরা ঝাড়ু ও ব্যানার হাতে এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে হরিরামপুর থানার দিকে এগিয়ে যায়।


বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, যুবদল নেতা মো. মোল্লা শাহীন এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে চাঁদাবাজি, জোরপূর্বক জমি দখল, লুটপাট এবং সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষকে নানাভাবে হয়রানি করে আসছেন। এসব অভিযোগের প্রতিবাদেই তারা ঝাড়ু মিছিল ও মানববন্ধনের আয়োজন করেন।


মিছিলটি পদ্মা নদীর ঘাটের দিকে যাওয়ার পথে কিছুদূর অগ্রসর হলে হঠাৎ বিকট শব্দ শোনা যায়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, এ সময় মিছিলে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। পরে মিছিলটি কিছু সময়ের জন্য ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলেও আবার একত্রিত হয়ে উপজেলা পরিষদের সামনে গিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেয়।


বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ওই ঘটনায় মোল্লা শাহীন ও তার অনুসারীরা জড়িত থাকতে পারেন। তবে এ অভিযোগের সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আফজাল হোসেন বলেন, থানার আশপাশে একটি শব্দ শোনা গেলেও সেটি ককটেল বিস্ফোরণ ছিল না; চকলেট পটকা হতে পারে। থানার এক থেকে দেড়শ গজ দূরে একটি বোতলের ভেতর থেকে এ ধরনের কয়েকটি চকলেট পটকা উদ্ধার করা হয়েছে।


ওসি আরও বলেন, দুই পক্ষ কর্মসূচি পালন করলেও তা শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।


বিক্ষোভ মিছিল শেষে উপজেলা পরিষদের সামনে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন- মিরাজ হোসেন মেম্বার, বাদল শিকদার, হরিরামপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম শিকদার, যুবদল নেতা মোতালেব হোসেনসহ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলন ও চ্যানেল চার্জ আদায়কে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষ—বিল্লাল খান ও মোল্লা শাহীন পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের হয়ে পৃথক মামলা হয়েছে। মামলা দুটি নৌ পুলিশ তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।


মামলার প্রতিবাদে মোল্লা শাহীনের পক্ষ থানায় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে। অন্যদিকে শাহীনের বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণের ব্যানারে ঝাড়ু মিছিল ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন অপর পক্ষের লোকজন। মিছিলটি বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে থানার দিকে পৌঁছালে সেখানে বিকট শব্দ ও গুলির মতো শব্দ শোনা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরে মিছিলটি উপজেলা পরিষদের সামনে গিয়ে শেষ হয়।


স্থানীয়দের দাবি, দুই পক্ষের রাজনৈতিক অবস্থানকে কেন্দ্র করেই মূলত এ বিরোধের সূত্রপাত। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মোল্লা শাহীন স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মইনুল ইসলাম খান শান্তর অনুসারী এবং বিল্লাল খান মন্ত্রী আফরোজা খান রিতার অনুসারী। তবে এ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।


দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, সংঘর্ষ ও বিস্ফোরণের শব্দকে কেন্দ্র করে হরিরামপুরে নতুন করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।


তবে মোল্লা শাহীনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত চাঁদাবাজি, জমি দখল, লুটপাট ও হয়রানির অভিযোগের বিষয়ে ফোনে জানতে চাইলে  তিনি ফোন কেটে দেন।

সর্বাধিক পঠিত