সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
ইরানি মুদ্রার রেকর্ড পতন, ডলারের দাম ছাড়াল ২০ লাখ রিয়াল
daily-fulki

ইরানি মুদ্রার রেকর্ড পতন, ডলারের দাম ছাড়াল ২০ লাখ রিয়াল


ফুলকি ডেস্ক : ইরানের মুদ্রা রিয়ালের দর গতকাল রবিবার খোলাবাজারে নতুন রেকর্ড পরিমাণ কমেছে। তেহরানের মুক্তবাজারে এক মার্কিন ডলারের দাম প্রথমবারের মতো ২০ লাখ রিয়াল ছাড়িয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা থমকে যাওয়ার মধ্যে রিয়ালের এই বড় দরপতন হলো।

 

মুদ্রার দামের ওপর নজর রাখা বিভিন্ন চ্যানেলের তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের মুক্তবাজারে এক ডলারের দাম ২ লাখ তুমানের বেশি হয়েছে। এক তুমান সমান ১০ রিয়াল। অর্থাৎ এক ডলারের দাম ২০ লাখ রিয়ালের ওপরে উঠেছে।

 

সংবাদ সংস্থা শাফাকও রিয়ালের এই রেকর্ড দরপতনের খবর জানিয়েছে। আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রকাশিত বাজারদর অনুযায়ী, আগের সপ্তাহের শুরুতে এক ডলারের দাম ছিল প্রায় ১৮ লাখ ৬৫ হাজার রিয়াল। অর্থাৎ এক সপ্তাহেরও কম সময়ে ডলারের দাম রিয়ালের বিপরীতে ৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

 

রিয়ালের এই দরপতনের পেছনে বিদেশি মুদ্রার বাড়তি চাহিদার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের আরও অর্থনৈতিক চাপের আশঙ্কাও কাজ করছে।

 

ইরানের তেল রপ্তানি, বৈদেশিক মুদ্রার মজুত ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেন নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ায় বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। ইরানের মুক্তবাজারের মুদ্রার দর খুব গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হয়। কারণ দেশটির সরকারি মুদ্রাবাজারগুলো সরকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে এসব বাজারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষ যে দামে ডলার কিনছেন, তা সব সময় প্রকৃত চাহিদা ও বাজার পরিস্থিতির পুরো চিত্র তুলে ধরে না।

 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সও রিয়ালের রেকর্ড দরপতনের খবর জানিয়েছে।

 

গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া একটি সমঝোতা স্মারকের আওতায় নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর এই দরপতন হয়েছে। ওই সময়ে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং দেশটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে বড় কোনো চুক্তি হয়নি। সমঝোতা স্মারকে একটি চূড়ান্ত চুক্তির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল। এমন চুক্তি হলে ইরানের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তেল রপ্তানির সুযোগ বাড়ানো এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানের অর্থ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারত। কিন্তু সেই পথে অগ্রগতি না হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ আরো বেড়েছে।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আবার চালু করেছে। একই সঙ্গে ইরানের তেল খাতের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা থেকে দেওয়া কিছু ছাড়ও বাতিল করা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা আরও পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। জবাবে ইরান জানিয়েছে, ওয়াশিংটন অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। তেহরান তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার দাবিও জানিয়েছে। রিয়ালের দর কমে গেলে বিদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের দাম স্থানীয় মুদ্রায় বেড়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে খাবার, ওষুধ, শিল্পের কাঁচামাল ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতির দামে।

এতে মূল্যস্ফীতি আরো বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে রিয়ালের দর আরো কমতে পারে-এমন আশঙ্কায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা ডলার, সোনা এবং অন্যান্য সম্পদ কেনার দিকে আরো বেশি ঝুঁকতে পারেন। এতে রিয়ালের ওপর আরো চাপ তৈরি হতে পারে। অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে ইরান সরকার জ্বালানির দাম বাড়ানোর সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে। এরই মধ্যে খাবারসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে। এতে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ আরো বাড়তে পারে এবং নতুন করে অসন্তোষ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

ইরানের নির্বাসিত সাবেক যুবরাজ রেজা পাহলভিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রিয়ালের দরপতনের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তিনি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে সরকারি কর্মচারীসহ ইরানিদের সরকারকে দুর্বল করার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে রেজা পাহলভির বক্তব্য দিয়ে রিয়ালের বিনিময় হারের তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায় না। রিয়ালের দর আবার ডলারের বিপরীতে ২০ লাখ রিয়ালের নিচে নামবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করবে ইরান কতটা বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করতে পারে তার ওপর। এর মধ্যে তেল বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের কূটনৈতিক সম্পর্কে কোনো পরিবর্তন আসে কি না, সেটিও রিয়ালের দামের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিশ্বাসযোগ্য কোনো পথ তৈরি না হলে বা ইরানে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়লে রিয়ালের আরো দরপতনের ঝুঁকি থাকবে। এখন মূল নজর আজকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা এবং এর জবাবে ইরান কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকে।
 

সর্বাধিক পঠিত