শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
ধামরাইয়ে অবৈধ কোন ইটভাটা চলতে দেওয়া হবে না : ঢাকা জেলার ডিসি
daily-fulki

ধামরাইয়ে অবৈধ কোন ইটভাটা চলতে দেওয়া হবে না : ঢাকা জেলার ডিসি


ধামরাই প্রতিনিধি : ধামরাইয়ে অবৈধ কোন ইটভাটা চলতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম। তিনি বলেন, ঢাকার জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইটভাটা রয়েছে ধামরাই উপজেলায়। তবে চলতি বছরে এখানে কোন প্রকার অবৈধ ইটভাটা চলতে দেওয়া হবে না। পরিবেশ অধিদপ্তরে ছাড়পত্র নেই এমন কোন ইটভাটাকে কোনক্রমেই কার্যক্রমে আসতে দেওয়া হবে না। তবে স্বল্প পরিসরে হলেও কিছু ইটভাটার অনুমিত দেওয়া তবে সেটা খুব যাচাই বাছাই করে। বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী ধামরাই উপজেলায় বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম।  


বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা কুল্লা ইউনিয়নের রুপনগরের বেদে পল্লীর ৬৩ পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবার, ১২জনকে ঢেউটিন, ৬ হাজার করে নগদ টাকা, ১শ ১৩ জনকে শাড়ী ও থ্রিপিস এবং ২শ শিশুদের মাঝে খেলনা বিতরন করেন জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। এসময় বেদে সম্প্রদায়কে আধুনিক ও মূলধারার সমাজে যুক্ত করতে সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও প্রণোদনা পৌঁছি দেওয়ার আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক। শিশু শিক্ষা,স্বাস্থ্যসেবা ও আইনী সহায়তা বিষয়ে বেদে পল্লী বাসিন্দাদের সচেতন করা হয়। শিক্ষা, চিকিৎসা, নিরাপদ বাসস্থান ও স্বাভাবিক জীবন যাপনে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। এসময় তিনি বেদেদের জীবনমান উন্নয়নে ৫ লাখ টাকা অনুদানের ঘোষনা দেন। 


এছাড়া তাদের বাসস্থানের জন্য ১০ দিনে মধ্যে খাস জমি থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে সেখানে বেদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার ঘোষনা দেন তিনি। আধুনিক সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী বেদে সম্প্রদায় স্বাভাবিক জীবনযাপন, আচার অনুষ্ঠান কিংবা মৌলিক চাহিদা পূরণের আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক। 


এর আগে উপজেলা পরিষধ মিলনায়তনে শিক্ষার মানোন্নয়নে উপজেলার ৫২টি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের সাথে মতবিনিময় ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা সভায় জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে। শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, ঝরে পড়া রোধ, শিক্ষার্থীরা যাতে নিয়মিত স্কুলে আসে সে ব্যাপারে অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ ও শিক্ষার্থীদের মনোযোগসহকারে পড়াশুনার ব্যাপারে শিক্ষকদের আন্তরিকভাবে নজর দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন তিনি। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি পরীক্ষায় ১৮৬জন জিপিএ-এ প্লাস প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, এই সাফল্য তাদের ভবিষ্যৎ পথচলার অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। শুধু ভালো ফলাফল নয় জ্ঞান, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহবান জানান তিনি।


এ সময় তিনটি প্রতিবন্ধী স্কুলে শিক্ষা উপকরণ, ছয়জন উদ্যোক্তা ও আত্মকর্মীদের মাঝে আট লাখ ২০ হাজার টাকা ঋণ বিতরণ এবং একজন প্রতিবন্ধীকে চার লাখ টাকার চেক প্রদান করেন জেলা প্রশাসক। উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ওস্পোর্টস ক্লাবসহ ৪০টি প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী, ১৫জন সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের জন্য পরিচালিত স্কুলে খেলনা সামগ্রী ও শিক্ষা উপকরণ, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন (প্রতিবন্ধী) ১০জন ব্যক্তিকে হুইল চেয়ার ও ৪২জন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ড্রেস, স্কুল ব্যাগ ও জুতা, গ্রাম পুলিশের মাঝে পোশাক বিতরন করেন জেলা প্রশাসক।


এছাড়া ‘হ্যালো অ্যাপে’ ডিসি আবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক অবস্থা যাচাইয়ান্তে অন্ধ, থ্যালাসেমিয়ার রোগী, প্রতিবন্ধী ও শিক্ষার্থীসহ ১৫জন প্রকৃত দুস্থ,অসহায় ও দরিদ্রকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। পরিশেষে ধামরাই পৌরশহরের আব্দুস সোবহান মডেল হাই স্কুল পরিদর্শন শেষে সাতশত শিক্ষার্থীর মাঝে ফলদ-বজন ও ওষধী গাছের চারা বিতরন করা হয়। 


উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। এসময় বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক সামছুল ইসলাম,কুশুরা আব্বাস আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম ও জালসা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন।  
 

সর্বাধিক পঠিত