স্টাফ রিপোর্টার : সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে কড়া নিরাপত্তাবলয়ের মাঝেই প্রকাশ্যে ঝটিকা মিছিল করেছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর ১টারদিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারমুখী লেনে জোরপুল দরবার শরিফের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। তবে স্থানীয় পুলিশ বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
শনিবার সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের ভিআইপি প্রটোকলে শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচি ছিল। এ উপলক্ষে স্মৃতিসৌধের আশপাশে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা বজায় রাখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এরমধ্যেই সাভারমুখী লেনে পরপর তিনটি বাস দাঁড় করিয়ে প্রথমে কয়েকজন এবং পরে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন নেতাকর্মী ‘প্রত্যাবর্তন ২.০’ ব্যানার নিয়ে সড়ক অবরোধ করে মিছিল শুরু করেন।
মিছিলে সাভার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম রুবেলের অনুসারীদের অংশ নিতে দেখা যায়। রুবেল সাভার থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজীবের শ্যালক। মিছিলকারীরা শেখ হাসিনার ছবি-সম্বলিত ব্যানার ও কাঠের লাঠি হাতে মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন সরকারবিরোধী স্লোগান দেন। এরপর মিছিলটি মাত্র ৫০০ মিটারের মতো এগিয়ে অতি দ্রুত সটকে পড়ে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত চারজন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলে এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জোড়পুল এলাকার দুই স্থানীয় দোকানদার ও ওয়ার্কশপ কর্মী বলেন, হঠাৎ জোহরের আজানের কিছু আগে তিনটি গাড়ি এসে থামে। গাড়ি থেকে ব্যানার ও লাঠি হাতে নেমে তারা দ্রুত মিছিল শুরু করে। মিছিল নিয়ে কিছুদূর গিয়েই তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
এ ছাড়া স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়ী জানান, মিছিলের সময় পেছনে থাকা যানবাহন আটকে মহাসড়কে সাময়িক যানজটের সৃষ্টি হয়। অতিদ্রুত কর্মসূচি শেষ করে মিছিলকারীরা এলাকা ত্যাগ করে। তারা সবাই বাসে এসেছিল। যাওয়ার সময় অধিকাংশ বাসে চলে গেছে।
তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও মহাসড়কে কড়া নিরাপত্তাবলয়ের মাঝে বাস থামিয়ে মিছিল করার বিষয়টি পুলিশ অস্বীকার করেছে।
ট্যানারি ফাঁড়ির ইনচার্জ মহিদুল ইসলাম দাবি করেন, ‘আজ বিকেল ৩টা পর্যন্ত ভিআইপি নিরাপত্তার কারণে আমরা মেইন রোডেই ডিউটিতে ছিলাম। আমাদের এলাকায় এমন কোনো মিছিলের খবর জানা নেই।’
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম ‘এটা ফেক নিউজ’ দাবি করে বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি নিজে সরজমিনে জোড়পুল এলাকায় গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখেছি সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। প্রচারিত ফুটেজটি অন্য কোনো সময়ের হতে পারে।’
