শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
মানিকগঞ্জে যমুনার ভয়াবহ ভাঙন, আতঙ্কে নদীতীরের বাসিন্দারা
daily-fulki

মানিকগঞ্জে যমুনার ভয়াবহ ভাঙন, আতঙ্কে নদীতীরের বাসিন্দারা


মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে একের পর এক বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। জিয়নপুর ইউনিয়নের বড় লাউতারা ও ছনপাড়া এলাকায় গত কয়েক দিনের ভাঙনে অন্তত ১০ থেকে ১২টি পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে চলে গেছে। ভিটেমাটি হারিয়ে অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

 

স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক দিনে প্রবল বৃষ্টি হওয়ায় যমুনা ও এর শাখা নদীর পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি স্রোত বেড়েছে। ফলে ভাঙনের তীব্রতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। অনেক পরিবার বাড়িঘর ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। আবার কেউ কেউ শেষ সম্বলটুকু রক্ষার আশায় নদীতীরেই অবস্থান করছেন।

 

ভাঙনে বসতভিটা হারানো সিরাজ আলী বলেন, চোখের সামনে বাপ-দাদার রেখে যাওয়া ভিটেমাটি, ঘরবাড়ি ও গাছপালা যমুনার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। মুহূর্তেই সব হারিয়ে পরিবার নিয়ে এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন তিনি। কোথায় আশ্রয় নেবেন এবং কীভাবে আবার ঘুরে দাঁড়াবেন—তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তার।

 

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বড় লাউতারা ও ছনপাড়া গ্রামের প্রায় ২০০ পরিবার বসতভিটা হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে হুমকির মুখে রয়েছে এলাকার প্রধান সড়কসহ মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল ও বাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

 

গত বছরই দৌলতপুর উপজেলায় নদীভাঙনের কবলে পড়ে নিজভারেঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিনতলা ভবনটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এবারও নতুন করে ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ শত শত পরিবারের বসতভিটা।

 

জিয়নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতোয়ার রহমান বলেন, নদীভাঙনের ভয়াবহ পরিস্থিতির বিষয়টি ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবহিত করা হয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলার পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানে টেকসই নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

 

ছনপাড়া এলাকার বাসিন্দা সাচ্চু সরদার বলেন, ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত প্রায় ৫০০ ফুট ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলতে হবে। সময়মতো এ উদ্যোগ নেওয়া না হলে আরও অনেক পরিবার বসতভিটা হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়বে। পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগের সংলগ্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও নদীভাঙনের কবলে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান জানান, ভাঙন ঠেকাতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ৭৮০ মিটারজুড়ে জিও ব্যাগ ফেলার জরুরি কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি জেলার অন্যান্য ভাঙনপ্রবণ এলাকাতেও নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, যমুনার ভাঙন নিয়ন্ত্রণে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বড় নদীশাসন প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দৌলতপুরসহ জেলার ভাঙনকবলিত উপজেলাগুলোর দীর্ঘদিনের নদীভাঙন ও মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

সর্বাধিক পঠিত