বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
পে স্কেলের গেজেট সেপ্টেম্বরে, ১ জুলাই থেকে কার্যকর
daily-fulki

পে স্কেলের গেজেট সেপ্টেম্বরে, ১ জুলাই থেকে কার্যকর


স্টাফ রিপোর্টার : বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট আগামী সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে প্রকাশের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রস্তাবটির চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতি দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে অর্থ বিভাগ।


সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাসংক্রান্ত অবশিষ্ট জটিলতাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করে আগামী মাসের শুরুতেই প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় তোলা হতে পারে।

অর্থ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে গেজেট প্রকাশ করা সম্ভব হতে পারে। এর আগে আগস্টের মধ্যে গেজেট জারির আলোচনা থাকলেও বেতন বৃদ্ধির হার, বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা, জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে পর্যালোচনার কারণে সময়সূচিতে পরিবর্তন এসেছে।


বর্তমানে অবশিষ্ট বিষয়গুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সম্প্রতি বলেছেন, সংশ্লিষ্ট কমিটির কাজ শেষ হলেই বিষয়টি মন্ত্রিসভায় যাবে এবং চলতি বছরের মধ্যেই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে।

১ জুলাই থেকেই কার্যকরের প্রস্তুতি

সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল কার্যকর করার নীতিগত সিদ্ধান্ত ধরে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখনো পুরনো কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন।


সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, গেজেট জারি হওয়ার পর ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরে বকেয়া বেতন-ভাতা সমন্বয়ের সুযোগ রাখা হতে পারে। তবে সরকারের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দুই ধাপে বাস্তবায়ন করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে সংশোধিত মূল বেতন কার্যকর করা হতে পারে। পরবর্তী ধাপে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বাস্তবায়ন করা হবে।


সরকারি সূত্রগুলো বলছে, জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশে বিভিন্ন গ্রেডে ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশের বেশি বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব থাকলেও বাস্তবায়নের আগে কিছু ক্ষেত্রে হার পুনর্বিবেচনার সুপারিশ করেছে সচিব কমিটি।


বাজেটে বরাদ্দ প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর বাইরে পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ মোট বরাদ্দের পরিমাণ আরো বেশি। তবে জাতীয় বেতন কমিশনের পূর্ণ সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে। এ কারণে বাস্তবায়নের ধরন ও সময়সূচি নিয়ে অর্থ বিভাগে ব্যাপক পর্যালোচনা চলছে।

আইএমএফের নজরে আর্থিক সক্ষমতা

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। জুলাই মাসে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) প্রতিনিধি দল ঢাকায় বিভিন্ন বৈঠকে রাজস্ব আহরণ, বাজেট ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি ব্যয় নিয়ে আলোচনা করে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, তার সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আইএমএফ প্রতিনিধি দল নতুন পে স্কেলের সরাসরি বিরোধিতা করেনি। তবে অর্থ বিভাগ বিষয়টি বাস্তবায়নের আগে সামগ্রিক আর্থিক প্রভাব গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে।

জুডিশিয়ারি কাঠামোতে সমন্বয়

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল জুডিশিয়াল সার্ভিস, সশস্ত্র বাহিনী ও প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে বেতনগত সমন্বয়। জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনীর জন্য প্রস্তাবিত কাঠামো সমন্বয়ের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন আলোচনা চলে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এসংক্রান্ত বেশির ভাগ জটিলতা এরই মধ্যে সমাধান করা হয়েছে।

উদ্বেগে সরকারি কর্মচারীরা

দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন বেতন কাঠামোর অপেক্ষায় রয়েছেন প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগী। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতির কারণে তাদের মধ্যে নতুন পে স্কেল নিয়ে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

 

সর্বাধিক পঠিত