বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
বোনের অভিযোগ হত্যা! সিংগাইরে শিক্ষিকার লাশ উদ্ধার, স্বামীর দাবি আত্মহত্যা
daily-fulki

বোনের অভিযোগ হত্যা! সিংগাইরে শিক্ষিকার লাশ উদ্ধার, স্বামীর দাবি আত্মহত্যা


সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের সিংগাইর পৌর সদরের আঙ্গারিয়া মহল্লার বেপারীপাড়ায় নিজ বাসার শয়নকক্ষ থেকে সেলিনা আক্তার (৪২) নামে এক স্কুলশিক্ষিকার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ৯টারদিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


নিহত সেলিনা আক্তার শিবালয় উপজেলার উলাইল ইউনিয়নের রুপসা ওয়াহেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি দুই সন্তানের জননী। তার স্বামী জাহাঙ্গীর আলম সিংগাইর গ্রীন স্ট্রিট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক।


বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।


তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—এ মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। পরিবারের পক্ষ থেকেও এখনো কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি।
এরআগে মঙ্গলবার রাত ৯ টারদিকে নিজ বাসা আঙ্গারিয়া মহল্লার বেপারীপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে। 


নিহতের বড় বোন রামেসা বেগম অভিযোগ করে বলেন, মোবাইল ফোনে বোনের অসুস্থতার খবর পেয়ে বাসায় এসে দেখি তার স্বামী জাহাঙ্গীর আলম সেলিনার মৃতদেহ একটা ভ্যান গাড়িতে উঠানোর চেষ্টা করছে। এ সময় বোনের জামাইকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে। রামেসার ধারণা, পরিকল্পিতভাবে তার বোনকে হত্যা করা হয়েছে। 


নিহতের আরেক বোন আনিসা বেগম অভিযোগ করে বলেন, সেলিনার স্বামী জাহাঙ্গীর আলম পরকীয়ায় আসক্ত ছিলেন এবং তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্বামী- স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।
নিহতের স্বামী জাহাঙ্গীর আলম এমন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,  তার স্কুলের প্রধান শিক্ষক সফি উদ্দিন মহি’র সঙ্গে সেলিনার পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। ঘটনার আগে টেলিফোনে ওই প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে ঝগড়ার একপর্যায়ে অভিমান করে গলায় ফাঁস দিয়ে সেলিনা আত্মহত্যা করেছে। 


এদিকে, রুপসা ওয়াহেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সফি উদ্দিন মহি’র বক্তব্য নিতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। 
জাহাঙ্গীর আলমের মা রাশেদা বেগম বলেন


থেকে সেলিনা বাড়ি ফেরার পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এর কিছুক্ষণ পর সেলিনা নিজ শয়নকক্ষে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেন বলে দাবি করেন তিনি। পরকীয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে রাশেদা বেগম বলেন, তার ছেলের এমন সম্পর্কের কথা আগে শুনেছিলেন, তবে এখন নেই।


এ বিষয়ে সিংগাইর থানার এসআই রেজাউল করিম বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে নিহতের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। পরে রাতেই ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।


নিহত সেলিনা আক্তারের মৃত্যু নিয়ে একদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ, অন্যদিকে স্বামীর পক্ষ থেকে আত্মহত্যার দাবি ওঠায় ঘটনাটি নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে।

 

সর্বাধিক পঠিত