মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
পবিত্র আল-আকসা মসজিদের ইতিহাস
daily-fulki

পবিত্র আল-আকসা মসজিদের ইতিহাস


ফুলকি ডেস্ক : মসজিদুল আকসা বা বাইতুল মুকাদ্দাস হলো জেরুজালেমের পুরোনো শহরে অবস্থিত ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদ । মসজিদ আল-আকসা কাবাঘর নির্মাণের ৪০ বছর পর নির্মাণ করা হয়। একই প্রাঙ্গণে কুব্বাত আস সাখরা, কুব্বাত আসসিলসিলা ও কুব্বাত আন নবী নামক স্থাপনাগুলো অবস্থিত। এই পুরো স্থানটিকে হারাম আল শরিফ বলা হয়। এছাড়া স্থানটি ইহুদি ধর্মে পবিত্র বলেও বিবেচিত হয়। ইসলামের বর্ণনা অনুযায়ী, হজরত মুহাম্মদ (সা.) মিরাজের রাতে মসজিদুল হারাম থেকে আল-আকসা মসজিদে এসেছিলেন এবং এখান থেকে তিনি আল্লাহর সঙ্গে দেখা করার জন্য ঊর্ধ্বাকাশের দিকে যাত্রা করেন। হাদিসের বিষয়ে অভিজ্ঞরা এ বিষয়ে একমত যে, সম্পূর্ণ উপাসনার স্থানটিই নবী সুলাইমান (আ.) তৈরি করেছিলেন, যা পরবর্তী সময় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। মুসলমানরা বিশ্বাস করে, নির্মাণের পর থেকে এটি ঈসা-সহ (আ.) অনেক নবীর দ্বারা আল্লাহকে উপাসনার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে। এই স্থান মুসলিমদের প্রথম কিবলা (প্রার্থনার দিক)। হিজরতের পর কোরআনের আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার কারণে নতুন কিবলা হয় কাবা। বর্তমানে ‘আল-আকসা’ মসজিদ বলতে বোঝায় কিবলি মসজিদ, মারওয়ানি মসজিদ ও বুরাক মসজিদের (তিনটি মসজিদ) সমন্বয় যা ‘হারাম আল শরিফ’-এর চার দেয়ালের মধ্যেই অবস্থিত।

মুসলিম জাহানের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.) বর্তমান মসজিদের স্থানে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। পরবর্তীকালে উমাইয়া খলিফা আবদুল মালেকের যুগে মসজিদটি পুনর্নির্মিত ও সম্প্রসারিত হয়। এই সংস্কার ৭০৫ খ্রিষ্টাব্দে তার পুত্র খলিফা আল ওয়ালিদের শাসনামলে শেষ হয়। ৭৪৬ সালে ভূমিকম্পে মসজিদটি ধ্বংস হলে আব্বাসীয় খলিফা আল মনসুর এটি পুনর্নির্মাণ করেন। এর কয়েক বছর পরে আব্বাসীয় খলিফা আল মনসুর উত্তরসূরি আল মাহদি মসজিদটি পুনর্নির্মাণ করেন। ১০৩৩ সালে আরেকটি ভূমিকম্পে মসজিদটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ফাতেমীয় খলিফা আলি আজ-জাহির আবার মসজিদটি নির্মাণ করেন, যা বর্তমান সময় অবধি টিকে রয়েছে।

বিভিন্ন শাসকের সময় মসজিদটির গম্বুজ, মিম্বর, মিহরাব, আঙিনা এবং অভ্যন্তরীণ কাঠামো নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়। ১০৯৯ সালে ক্রুসেডাররা জেরুসালেম দখল করার পর তারা মসজিদটিকে একটি প্রাসাদ এবং একই প্রাঙ্গণে অবস্থিত কুব্বাত আস সাখরাকে গির্জা হিসেবে ব্যবহার করত। সুলতান সালাহউদ্দিন জেরুসালেম আবার জয় করার পর মসজিদ হিসেবে এর ব্যবহার পুনরায় শুরু হয়। বর্তমানে পুরোনো শহর ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে মসজিদটি জর্দান-ফিলিস্তিন নেতৃত্বাধীন ইসলামি ওয়াক্‌ফের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

মসজিদুল আকসা অর্থ ‘দূরবর্তী মসজিদ’।

 

সর্বাধিক পঠিত