সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জামির্ত্তা ইউনিয়নের সুদক্ষিরা দক্ষিণপাড়া গ্রামে মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ জানিয়েও প্রত্যাশিত প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ তুলে সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সুদক্ষিরা দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদের সামনে থেকে স্থানীয় যুব সমাজের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি এলাকার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা প্রদক্ষিণ করে বাস্তা-মানিকনগর সড়কের বঙ্গবন্ধু মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবাদ সভায় স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, সুদক্ষিরা গ্রামের একটি বড় অংশের মানুষ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। এতে এলাকায় সামাজিক অস্থিরতা বাড়ছে এবং তরুণ সমাজ মাদকের ঝুঁকিতে পড়ছে। মাদক প্রতিরোধে তারা দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন বলেও জানান বক্তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রোববার বিকেলে এলাকায় চিহ্নিত কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীকে ডেকে মাদক ব্যবসা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। এ সময় মসজিদে শপথ পড়ানো হয় বলেও তারা দাবি করেন। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আব্দুস সামাদের ছেলে রাসেলের বিরোধের সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ঘটনার পর রাসেল এবং তার বাবা সামাদ চাচা খালেক ও মা রাশেদা আক্তার মসজিদের ভেতরে গিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন এবং হামলার চেষ্টা করেন।
পরে এলাকাবাসী সন্ধ্যায় সিংগাইর থানায় গিয়ে অভিযুক্ত পরিবারসহ এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, পুলিশকে বিষয়টি জানানোর পরও প্রত্যাশিত ব্যবস্থা না পাওয়ায় তারা প্রকাশ্যে বিক্ষোভে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে। অভিযুক্ত পরিবারসহ এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন বক্তারা।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন-স্থানীয় বাসিন্দা হাজী রফিকুল ইসলাম, ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্বাস উদ্দিন, বিএনপি নেতা হাজী শহিদুল ইসলাম, জামায়াত নেতা মাহমুদুল্লাহ, যুবদল নেতা মনির হোসেন, রায়হান রহমান, রিয়াদুল ইসলাম, মেহেদী হাসান, ডা. রিয়াজুল ও মিলন মাহমুদসহ স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও দাবি করেন, সম্প্রতি রাসেলের ছোট ভাই আরমান ও তার সহযোগী দিপু ইয়াবাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন এবং বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন। তাদের অভিযোগ, পরিবারটির আরও কয়েকজন সদস্য মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
অভিযোগের বিষয়ে রাসেলের মা রাশেদা খাতুন বলেন, তার ছোট ছেলে মাদক মামলায় আটক হয়ে কারাগারে থাকার বিষয়টি সত্য। তবে রাসেল ও পরিবারের অন্য সদস্যরা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত—এমন অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, জসিম নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তা দিপুকে মাদকাসক্ত করেছেন। পাশাপাশি পূর্বশত্রুতা ও জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এলাকাবাসীর একটি পক্ষ তাদের পরিবারকে এলাকা থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, “পুলিশ সবসময় মাদকের বিরুদ্ধে।” এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে ওই পরিবারের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে অভিযানে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান ওসি।
