মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
সাভারে একাধিক অপহরণকারীচক্র সক্রিয় অপহৃত হচ্ছে শিক্ষার্থী, সহজ সরল মানুষ
daily-fulki

সাভারে একাধিক অপহরণকারীচক্র সক্রিয় অপহৃত হচ্ছে শিক্ষার্থী, সহজ সরল মানুষ

 


স্টাফ রিপোর্টার : সাভারে একাধিক অপহরণকারীচক্র সক্রিয় রয়েছে। তারা হরহামেশাই টার্গেটকৃত শিশু-কিশোর, শিক্ষার্থী ও সহজ সরল মানুষকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করছে। মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে এসেছে এমন কয়েকটি পরিবারের সাথে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য। 


অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার পৌর এলাকার ডগরমোড়ার বাসা হতে কোচিংয়ে যাচ্ছিল সাভার বাসস্ট্যান্ডের জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থা শপিং কমপ্লেক্স মার্কেটের ব্যবসায়ি মুকুল আলীর ছেলে মাহাদির আল মুবিন। সে সাভারে বিপিএটিসি স্কুল এন্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সাভার বাসস্ট্যান্ডের ভ্যাট অফিসের নিকটে কোচিং সেন্টারের নিকট পৌঁছানোর পূর্বে আর এস টাওয়ারের সামন থেকে ৫/৬ জনের একদল যুবক তাকে নানা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এক পর্যায়ে জানায় ভিডিও দেখে তোমাকে সনাক্ত করেছি। তুমি আমাদের ছেলেদেরকে মেরেছ। মাহাদির আল মুবিন এ সব কথা অস্বীকার করলে বলে, আমাদের বাসায় চলো তোমাকে ভিডিও দেখাব। এ কথা বলে জোরপূর্বক একটি অপেক্ষমাণ অটোরিক্সায় তুলে নেয়। পরবর্তীতে ৮/১০ কিলোমিটার দূরত্বে তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের রাজাঘাটে ধলেশ্বরী নদীর তীরবর্তী স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে যাওয়ার পর মুবিনের মোবাইল ফোন দিয়ে তার পিতার নিকট ফোন করে অপহরণকারী দল জানায়, আপনার ছেলে আমাদের গাড়ি ভেঙেছে। আমরা তাকে ধরে নিয়ে এসেছি। ৫০ হাজার টাকা দিলেই কেবল ছেড়ে দেয়া হবে। স্বল্প সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে যেকোন ধরণের দুর্ঘটনা ঘটে যাবে বলে হুমকি দেয় এ চক্রটি।  মুকুল আলী জানান, মোবাইল ফোনে হুমকির কথা শুনে তিনি অপহৃত মুবিনকে যেন মারধর না করা হয় এজন্য ১০ হাজার টাকা তাদের দেয়া বিকাশ নম্বরে পাঠিয়ে দেন। টাকা সংগ্রহ করতে অপহরণকারীদের নিকট হতে কিছুটা সময় চেয়ে নেন তিনি। পরবর্তীতে মুকুল আলী সাভার মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এক পর্যায়ে বিষয়টি আঁচ করতে পেরে ঐদিন সন্ধ্যায় মুবিনকে ছেড়ে দেয় অপহরণকারীদল। 


প্রায় একই স্থান হতে গত বুধবার (১২ আগস্ট) পৌর এলাকার শাহীবাগের অটোরিকশা চালক কবিরুলকে ভাড়ার কথা বলে তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের হরিণধরা এলাকায় নিয়ে যায় ৪/৫ যুবক। পরবর্তীতে তাকে অটোরিকশা চোর অপবাদ দিয়ে তার পরিবার থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিকাশের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা নিয়ে যায় কবিরুলকে অপহরণকারী দল। কবিরুলের ভাই মনিরুল ইসলাম জানান, অপহরণকারীদল আমার ভাইকে টাকার জন্য বেদম প্রহার করেছে। 


অপর ঘটনায় ব্যাংক কলোনির বি ব্লকের বাসিন্দা গার্মেন্ট কর্মকর্তা আরিফুর রহমানকে প্রাইভেটকার যোগে অপহরণ করে ৪ দুষ্কৃতকারী।  ঢাকা যাওয়ার জন্য গত সোমবার (১০ আগস্ট) বাসে ওঠতে পাকিজা এলাকায় দাড়িয়ে ছিলেন তিনি। এ সময় একটি প্রাইভেটকার তার সামনে এসে থামে এবং চালক ও চালকের আসনের পাশে বসা অপর একজন জানান তিনি ইচ্ছে করলে ২শ’ টাকা ভাড়া দিলে তাদের সাথে মতিঝিল পর্যন্ত যেতে পারবেন। সরল মনে প্রাইভেটকারে ওঠে বসার পর আরও দুই ব্যক্তি ওঠে তার দুই পাশে বসেন। আরিফুর রহমান জানান, চালক দ্রুত গতিতে গাড়ি চালিয়ে মিরপুরের টোলারবাগের দিকে নিয়ে যান। পথে আগ্নেয়াস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে নড়াচড়া না করতে নির্দেশ করে দুর্বৃত্তরা। টোলারবাগে পৌঁছার পরে একটি পরিত্যাক্ত বাড়িতে নেমে তার নিকটে থাকা ৪৫ হাজার টাকা এবং আত্মীয় স্বজনের নিকট হতে বিকাশের মাধ্যমে আরও প্রায় দুই লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া নেয় চক্রটি। রাতে ১১টার দিকে তাকে সাভারের বলিয়ারপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের নির্জন স্থানে চোখ বাধা অবস্থায় অপহরণকারী দল ফেলে চম্পট দেয়।


এ সকল ঘটনার মধ্যে একমাত্র স্কুল ছাত্র মুবিনের পিতা মুকুল আলী সাভার মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে থানার তদন্ত কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত না করে এবং তার নিকট হতে অভিযোগ প্রত্যাহারের করা হয়েছে মর্মে, সাদা কাগজে  লিখিত নেন। 


অভিযোগ প্রত্যাহারের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট নাজিম উদ্দীন বলেন, যেহেতু মামলার জন্য অভিযোগ দেয়া হয়েছিল তাই পুলিশ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে পারতো। এ ঘটনায় প্রমাণ হচ্ছে,  অপরাধীচক্র আরও উৎসাহিত হবে। 


এ বিষয়ে সাভার মডেল থানায় ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, বিষয়গুলো আমার জানা নেই। তবে অপরাধের এ বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে দেখা হবে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

 

সর্বাধিক পঠিত