স্টাফ রিপোর্টার : সাভারের রানা প্লাজা নির্মাণে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে করা মামলায় ভবনটির মালিক সোহেল রানাসহ আট আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার তারিখ পিছিয়ে আগামী ১ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করেছেন আদালত।
রোববার (১৬ আগস্ট) ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ বি এম তারিকুল কবীর রায় ঘোষণার নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। আজই মামলাটির রায় ঘোষণার কথা ছিল। তবে রায় প্রস্তুত না হওয়ায় আদালত তা পিছিয়ে দেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রায় ঘোষণার জন্য আজ সোহেল রানাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। জামিনে থাকা অন্য আসামিরাও আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার অপর আসামিরা হলেন—সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র রেফাত উল্লাহ, সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, সাবেক উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান রাসেল, সাবেক টাউন প্ল্যানার ফারজানা ইসলাম এবং লাইসেন্স পরিদর্শক মো. আব্দুল মোত্তালিব। তাঁদের মধ্যে মাহবুবুর রহমান ও ফারজানা ইসলাম মামলার শুরু থেকেই পলাতক। অন্য আসামিরা জামিনে রয়েছেন।
রানা প্লাজা ধস
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ১০তলা রানা প্লাজা ভবন ধসে দেশের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনা ঘটে। ভবনটিতে কয়েকটি পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ছিল। ধসের সময় প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক ভবনের নিচে চাপা পড়েন।
উদ্ধার অভিযানে ধ্বংসস্তূপ থেকে ১ হাজার ১৩৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জীবিত উদ্ধার করা হয় ২ হাজার ৪৩৮ জনকে। আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করেন প্রায় দুই হাজার শ্রমিক।
ঘটনার পাঁচ দিন পর, ২৯ এপ্রিল ভারত পালিয়ে যাওয়ার সময় যশোরের বেনাপোল সীমান্ত এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
১৮ আসামি থেকে এখন ৮
রানা প্লাজা নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শেষে ২০১৪ সালের ১৫ জুন সাভার থানায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পরে অধিকতর তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি সোহেল রানাসহ ১৮ জনকে আসামি করে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে আটজনকে অব্যাহতি দিয়ে ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। বিচার চলাকালে সোহেল রানার বাবা-মা মারা যাওয়ায় বর্তমানে আট আসামির বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম চলছে।
২০১৭ সালের ২১ মে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচার শুরু হয়। মামলায় ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৯ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
নকশায় তথ্য গোপনের অভিযোগ
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০৬ সালে ছয়তলা ‘রানা প্লাজা’ শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণের নকশা অনুমোদন দেয় সাভার পৌরসভা। পরে অতিরিক্ত চারতলা নির্মাণের অনুমোদন চাওয়া হলেও আগের নথির তথ্য গোপন করে নতুন নথির মাধ্যমে ১০তলা ভবনের নকশা অনুমোদন নেওয়া হয়।
এ ছাড়া শপিং কমপ্লেক্স হিসেবে অনুমোদন নেওয়া ভবনটিতে পরে পাঁচটি পোশাক কারখানা পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়। ভবন মালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে বেআইনিভাবে ভবনটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় সোহেল রানার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে আরও দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
