বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
শূন্য পাসের ৩১২ প্রতিষ্ঠান নিয়ে তদন্ত, বাতিল হতে পারে এমপিও
daily-fulki

শূন্য পাসের ৩১২ প্রতিষ্ঠান নিয়ে তদন্ত, বাতিল হতে পারে এমপিও


স্টাফ রিপোর্টার : এবারের মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় কেন ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি সেটি খতিয়ে দেখছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরমধ্যে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দাখিল পরীক্ষায় যে ২২৬টি মাদরাসা থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি সেসব মাদরাসা প্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।


এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করে এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারাও প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে শিক্ষা বোর্ডগুলোও প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের ডেকে ফল বিপর্যয়ের কারণ জানার চেষ্টা করবে। কোনো প্রতিষ্ঠান সদুত্তর দিতে না পারলে এমপিও সুবিধা বাতিল হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।


চলতি বছর দেশের ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি। শতভাগ অকৃতকার্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় এবার ১৭৮টি বেড়েছে। গত বছর শূন্য পাস প্রতিষ্ঠান ছিল ১৩৪টি। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫৭টি, যা গতবার ছিল ৪৮টি।

 

মাদরাসা বোর্ডে এবার শূন্য পাস প্রতিষ্ঠান ২২৬টি। গতবার এ সংখ্যা ছিল ৮৬টি। এ ছাড়া গতবার কারিগরি বোর্ডে কোনো শূন্য পাস প্রতিষ্ঠান ছিল না। এবার এ সংখ্যা বেড়ে ২৯টিতে দাঁড়িয়েছে।

 

বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড থেকে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

 

এতে দেখা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগই এমপিওভুক্ত। তবে সেগুলোতে কাঙ্ক্ষিতসংখ্যক শিক্ষার্থী নেই। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান থেকে ১৫ জনের কম শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। শতাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র ৫ থেকে ৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক স্কুল ও মাদরাসা গড়ে উঠেছে শুধু সরকারি অনুদান পাওয়ার আশায়। এসব প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত অবকাঠামো নেই, নিয়মিত ক্লাস হয় না। অনেক সময় অন্য স্কুলের ফেল করা ও ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের টাকা দিয়ে এনে নিজেদের পরীক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধন করানো হয়। পড়াশোনার দিকে শিক্ষকদের নজর না থাকায় শূন্য পাস প্রতিষ্ঠান উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।

এদিকে চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় যে ২২৬টি মাদরাসা থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি, সেসব মাদরাসার প্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড।

নোটিশে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় যেসব মাদরাসা থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি সে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানকে লিখিত বক্তব্যসহ বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. ফারুক আহম্মেদের দপ্তরে সশরীরে উপস্থিত হতে হবে।

এ জন্য অঞ্চলভেদে মাদরাসাপ্রধানদের উপস্থিতির সময়সূচিও নির্ধারণ করে দিয়েছে বোর্ড। ঢাকা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের মাদরাসাপ্রধানদের আগামী ১৬ আগস্ট, রাজশাহী অঞ্চলের ১৭ আগস্ট এবং রংপুর অঞ্চলের প্রধানদের ১৮ আগস্ট উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের প্রধানদের ১৯ আগস্ট, খুলনা ও কুমিল্লা অঞ্চলের ২০ আগস্ট এবং বরিশাল অঞ্চলের প্রধানদের ২৩ আগস্ট লিখিত বক্তব্যসহ উপস্থিত হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের শূন্য পাস ৫৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৮টি প্রতিষ্ঠানই দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে। বোর্ডটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইলিয়াস আহমেদ বলেন, ‘এসব প্রতিষ্ঠানে আসলে শিক্ষার্থী হাতেগোনা। কোনোটিতে একজন, কোনোটিতে তিন-চারজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। এক কথায় প্রতিষ্ঠানগুলোর দুরবস্থা। তাদের শিগগির ডেকে কারণ জানতে চাওয়া হবে। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘এ শিক্ষার্থীরা করোনাকালে পড়াশোনা না করেই প্রাথমিক পাস করেছিল। মাধ্যমিকেও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় দুই বছর পড়াশোনা হয়নি। ২০২৫ সালের বই পেয়েছে এপ্রিলে। এসব সংকটের মধ্যেও তাদের এ ফলাফল অনেক ভালো। তবে যেসব প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি, তাদের বিষয়ে মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত দেবে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।’

মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খোন্দকার মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান বলেন, ‘কেন এত শূন্য পাস প্রতিষ্ঠান সেটি নিয়ে ভাবতে হবে। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে ডেকে কারণ জানতে চাওয়া হবে। তবে তার ব্যক্তিগত মত, পরীক্ষা ও মূল্যায়নে কড়াকড়ির কারণে অনেক শিক্ষার্থী ফেল করেছে।’

এ বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘যেসব প্রতিষ্ঠানে একাধিকবার শূন্য পাস আছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

সর্বাধিক পঠিত