বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
সাভারে ‘ছাদ থেকে পড়ে’ ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর ঘটনায় রংপুরের ৪ পুলিশ প্রত্যাহার
daily-fulki

সাভারে ‘ছাদ থেকে পড়ে’ ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর ঘটনায় রংপুরের ৪ পুলিশ প্রত্যাহার


রংপুর সংবাদদাতা : সাভারে পুলিশের অভিযানের সময় ছাত্রদল নেতা মনোয়ারুল ইসলাম বকশীর (২৯) মৃত্যুর ঘটনায় রংপুরের পীরগাছা থানার চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তে ঢাকা ও রংপুরে পৃথক দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।


প্রত্যাহার হওয়া চার পুলিশ সদস্য হলেন পীরগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কনক রঞ্জন বর্মন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. ওসমান আলী এবং কনস্টেবল প্রশান্ত কুমার ও সুমী আক্তার। তাঁরা নিখোঁজ এক কিশোরীকে উদ্ধারে সাভারে পরিচালিত অভিযানে ছিলেন।


মনোয়ারুল সাভার থানা ছাত্রদলের সহসভাপতি ছিলেন। তাঁর বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ হাতীবান্ধা গ্রামে। পরিবার নিয়ে তিনি সাভারে বসবাস করতেন।


পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, পীরগাছার কৈকুড়ি ইউনিয়নের ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী গত ২৩ জুলাই নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় তার বাবা পীরগাছা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় কিশোরীর অবস্থান সাভারে শনাক্ত করে পুলিশ।


এরপর গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পীরগাছা থানার এসআই কনক রঞ্জন বর্মনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সাভারের লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) স্টাফ কোয়ার্টারে মনোয়ারুলের বাসায় অভিযান চালায়। অভিযানে সাভার থানা-পুলিশও সহযোগিতা করে।


পুলিশের ভাষ্য, অভিযান চলার সময় ভবনের ছাদ থেকে নিচে কিছু পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনতে পান সদস্যরা। পরে সেখানে গিয়ে মনোয়ারুলকে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।


তবে পুলিশের এ বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মনোয়ারুলের পরিবার। তাঁর ভাই মমদেল হোসেনের দাবি, তাঁদের ভাগিনা শাহরিয়ার কবির সৌমিকের সঙ্গে নিখোঁজ কিশোরীর সম্পর্ক ছিল এবং তাঁরা স্বেচ্ছায় বিয়ে করেছেন। কিশোরীকে উদ্ধারের জন্য তাঁর বাবা ও আরও একজন ব্যক্তি পুলিশের পোশাকে অভিযান পরিচালনাকারী দলের সঙ্গে ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।


মমদেল হোসেনের অভিযোগ, অভিযানের সময় বাসার ছাদে মনোয়ারুলের সঙ্গে অভিযানকারী দলের সদস্যদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়।


এদিকে গত শনিবার সকাল ৮টার দিকে মনোয়ারুলের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে পীরগাছা থানার সামনে নিয়ে আসেন স্বজনরা। সেখানে মরদেহ রেখে তাঁরা বিক্ষোভ করেন। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।


ঘটনার বিষয়ে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বলেন, ‘এ বিষয়ে ঢাকা ও রংপুরে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই অভিযানে অংশ নেওয়া পীরগাছা থানার চার পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।’
 

তদন্তের মাধ্যমে মনোয়ারুলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও অভিযানের সময় কী ঘটেছিল, তা স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
 

সর্বাধিক পঠিত