মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
ভূরুঙ্গামারীতে জমি নিয়ে সংঘর্ষে যুবক নিহত, ২ নারীসহ গ্রেপ্তার ১৭
daily-fulki

ভূরুঙ্গামারীতে জমি নিয়ে সংঘর্ষে যুবক নিহত, ২ নারীসহ গ্রেপ্তার ১৭

 

কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় ৮ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে শহিদুল ইসলাম (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ২ নারীসহ মোট ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার খামার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের রায়গঞ্জ ব্রিজসংলগ্ন কানিপাড়া গ্রামে বিরোধপূর্ণ জমিতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শহিদুল ইসলাম ওই এলাকার মৃত আব্দুলের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিরোধপূর্ণ ৮ শতক জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। শহিদুল ইসলাম জমিটি ভোগদখল করে আসছিলেন। কয়েক মাস আগে জমিটি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা হলে তিনি স্থানীয়ভাবে অভিযোগ করেন। পরে সচেতন ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠকে শহিদুলের কাগজপত্র সঠিক বলে প্রমাণিত হলেও প্রতিপক্ষ তা মেনে নেয়নি।

সোমবার (    ১০ আগস্ট) দুপুরে শুকুর আলী বাহির থেকে ৩৫-৪০ জন লোক এনে জমি দখলের চেষ্টা করেন। এ সময় শহিদুল ইসলাম, তার মা ও বোনসহ পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে তাদের ওপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। হামলায় শহিদুল ইসলাম গুরুতর আহত হন।

পুলিশ জানায়, সংঘর্ষের একপর্যায়ে শুকুর আলী মাছ ধরার কোঁচ (সুড়কি) দিয়ে শহিদুল ইসলামের বুকে, পেটের ডান পাশে ও পিঠে আঘাত করেন। পরে স্বজনরা তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় শহিদুল ইসলামের ভাই মবদুল ইসলাম ও বোন সাবিনা আক্তারও আহত হয়েছেন।

ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়।

সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুনতাসির মামুন মুনের নেতৃত্বে সাঁড়াশি অভিযানে সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন প্রধান অভিযুক্ত শুকুর আলীসহ ১৫ জন পুরুষ ও ২ জন নারী। পুলিশের দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন এবং তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, “ঘটনার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

 

সর্বাধিক পঠিত