রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
লেগে থেকে কাজ করার সুফল
daily-fulki

লেগে থেকে কাজ করার সুফল


ফুলকি ডেস্ক : ‘লাগি থাকলে ভাগি হয়’ বাংলা ভাষায় একটি জনপ্রিয় প্রবাদ, যার অর্থ হলো কোনো কাজে নিয়মিত চেষ্টা বা সাধনা চালিয়ে গেলে তার সুফল বা অংশ পাওয়া যায়। কিছু মানুষকে দেখা যায়, প্রতিদিন নতুন পরিকল্পনা, নতুন চিন্তা।


এতে সময় নষ্ট হয়, কোনো কাজেই স্থিরতা আসে না। অথচ ইসলামের শিক্ষা হলো, যে কাজে আল্লাহ বরকত দিয়েছেন, সেটিকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরতে হবে এবং অবিচল থাকতে হবে। কারণ এতে আছে প্রাচুর্যপূর্ণ কল্যাণ, সুন্দর পরিণতি, প্রশান্ত জীবন, সহজ অগ্রগতি এবং আল্লাহর সেই নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য, যার মাধ্যমে তিনি প্রত্যেক সৃষ্টি যেই কাজের জন্য সৃষ্টি হয়েছে, তার দিকে সহজ করে দেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো কাজে সফলতা বা কল্যাণ লাভ করে, সে যেন সেটিকে আঁকড়ে ধরে।

’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২১৪৭)
ওমর (রা.) বলেছেন, ‘যার কোনো কাজে রিজিক নির্ধারিত হয়েছে, সে যেন সেই কাজেই অবিচল থাকে।’

কাজি আবু ইয়ালা (রহ.) বলেছেন, ‘যদি কেউ কোনো বিশেষ ব্যবসায় কল্যাণ দেখতে পায়, তবে তার জন্য সেই ব্যবসায় স্থির থাকা মুস্তাহাব।’

মহান আল্লাহ কাউকে কোনো কাজে স্থায়ীভাবে নিয়োজিত রাখছেন এটা প্রমাণ যে তিনি তাকে ওই কাজে প্রতিষ্ঠিত রাখতে চান। আল্লাহর অসীম প্রজ্ঞা ও রহমতের একটি দিক হলো, তিনি মানুষের ক্ষমতা, আগ্রহ, সুযোগ ও রিজিককে সমান রাখেননি।


এর মাধ্যমে মানুষ একে অপরের প্রয়োজন পূরণ করে এবং সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতা গড়ে ওঠে। আল্লাহ তাআলা বলেন : ‘তারা কি তোমার রবের রহমত বণ্টন করে? আমিই তাদের মধ্যে দুনিয়ার জীবিকার বণ্টন করেছি এবং কাউকে কারো ওপর মর্যাদায় উন্নীত করেছি, যাতে তারা একে অপরকে কাজে লাগাতে পারে। আর তোমার রবের রহমত তারা যা সঞ্চয় করে তার চেয়ে উত্তম।’ (সুরা : জুখরুফ, আয়াত : ৩২)
আল্লাহ যদি কাউকে কোনো বিশেষ ইবাদত বা নেক কাজের তাওফিক দেন, তাহলে সেটি তার ওপর আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের নিদর্শন। আহলে ইলম এই সত্যটি উপলব্ধি করেছিলেন।


তাই আল্লাহ তাদের জন্য যে কল্যাণের দরজা খুলে দিয়েছিলেন, তারা সেটিকে আঁকড়ে ধরেছিলেন। এর ফলেই তাদের জীবনে বরকত এসেছে, তাদের উপকারিতা বিস্তৃত হয়েছে এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে দুই জোড়া (সম্পদ) ব্যয় করবে, তাকে জান্নাতের দরজাগুলো থেকে ডাকা হবে। যে নামাজে অগ্রগণ্য ছিল, তাকে নামাজের দরজা থেকে; যে জিহাদে অগ্রগণ্য ছিল, তাকে জিহাদের দরজা থেকে; যে রোজায় অগ্রগণ্য ছিল, তাকে রাইয়ান দরজা থেকে; আর যে সদকায় অগ্রগণ্য ছিল, তাকে সদকার দরজা থেকে ডাকা হবে।’

তখন আবু বকর (রা.) জিজ্ঞেস করলেন : ‘হে আল্লাহর রাসুল! এমন কি কেউ থাকবে, যাকে সবগুলো দরজা থেকেই ডাকা হবে?’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, হ্যাঁ, এবং আমি আশা করি তুমি তাদেরই একজন হবে।’ (বুখারি ৩৬৬৬)

মুসলিম মনীষীদের এই উপলব্ধি শুধু ইবাদতের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল না; দুনিয়াবি জীবিকা ও নৈতিক গুণাবলির ক্ষেত্রেও তারা একই নীতি অনুসরণ করতেন। আল্লাহ যদি কোনো হালাল উপার্জনের মাধ্যমে কাউকে বরকত দিতেন, তবে তারা সেটিকেই আঁকড়ে ধরতেন এবং এমন নতুন কিছু যোগ করতেন না, যা সেই বরকতকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

মানুষের উচিত যে কাজ করছে, তাতে অবিচল থাকা। অলসতা করে কাজটি ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। প্রতিদিন নতুন নতুন সিদ্ধান্ত নিয়ে দিক পরিবর্তন করা অনুচিত—যতক্ষণ না ভুল প্রমাণিত হয়, ততক্ষণ নিজের পথেই চলা উচিত।
 

সর্বাধিক পঠিত