কক্সবাজার সংবাদদাতা : টানা বর্ষণের ফলে কক্সবাজারে পৃথক দুটি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে মেরিন ড্রাইভ সড়কের দরিয়ানগর এলাকায় পাহাড়ের মাটি ও পাথর সড়কে পড়ে সাময়িকভাবে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও সেনাবাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
অন্যদিকে শহরের কলাতলীর মেম্বারঘাটা এলাকায় পাহাড়ধসে চারটি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তিনজন আহত হন।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দরিয়ানগর এলাকায় পাহাড়ের একটি অংশ ধসে মেরিন ড্রাইভ সড়কের ওপর পড়ে। এতে সড়কে মাটি ও পাথর ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু সময়ের জন্য যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাহাড়ধসের খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সড়ক থেকে মাটি ও ধ্বংসাবশেষ অপসারণের কাজ শুরু করেন।
ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই যান চলাচল স্বাভাবিক করার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে একই দিন বেলা ২টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলীর মেম্বারঘাটা এলাকায় পাহাড়ধসে চারটি বসতঘরের ওপর মাটি চাপা পড়ে। এতে অন্তত তিনজন আহত হন।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউনূস জানান, সকাল থেকে টানা ভারী বৃষ্টির একপর্যায়ে হঠাৎ পাহাড় ধসে কয়েকটি বাড়ির ওপর পড়ে। আহতদের স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, বুধবার বেলা ১২টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১২১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ভারী বৃষ্টি আরো কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।
স্থানীয়দের মতে, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় ধসের ঝুঁকি বেড়েছে।
বিশেষ করে বর্ষা
মৌসুমে মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাহাড়ঘেঁষা বিভিন্ন অংশে এ ধরনের ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে।
এদিকে ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে পাহাড়ে বসবাসরত মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকায় অপ্রয়োজনে যাতায়াত না করা এবং চালকদের সতর্কতার সঙ্গে যানবাহন চালানোর পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
