বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
জ্বর-ব্যথায় প্যারাসিটামল খাচ্ছেন, মাত্রা না মানলে হতে পারে যে বিপদ
daily-fulki

জ্বর-ব্যথায় প্যারাসিটামল খাচ্ছেন, মাত্রা না মানলে হতে পারে যে বিপদ

 

জ্বর, মাথাব্যথা বা শরীরব্যথা হলেই অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই প্যারাসিটামল বা অন্যান্য ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে থাকেন। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ওষুধের মাত্রা ও ব্যবহারের নিয়ম না মেনে চললে অজান্তেই লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে একই উপাদানযুক্ত একাধিক ওষুধ একসঙ্গে খাওয়ার অভ্যাস বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।


চিকিৎসকদের মতে, লিভারের রোগের জন্য শুধু অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার, মদ্যপান বা অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনই দায়ী নয়। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বা দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করলেও লিভারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

মুম্বাইয়ের চিকিৎসক ডা. ভূষণ ভোলে বলেন, কোন ওষুধ, কত মাত্রায় এবং কতদিন খাওয়া হচ্ছে, সেই সঙ্গে রোগীর পূর্ববর্তী শারীরিক অবস্থা—এসব বিষয়ের ওপর লিভারের ক্ষতির ঝুঁকি নির্ভর করে। তার মতে, প্যারাসিটামল সাধারণত নিরাপদ ও কার্যকর একটি ওষুধ। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত মাত্রায় সেবন করলে বা অজান্তেই প্যারাসিটামলযুক্ত একাধিক ওষুধ একসঙ্গে গ্রহণ করলে লিভারের গুরুতর ক্ষতি হতে পারে। এমনকি অ্যাকিউট লিভার ফেইলিউর বা হঠাৎ লিভার বিকল হয়ে যাওয়ার মতো জটিল অবস্থাও তৈরি হতে পারে।

তিনি আরও জানান, আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক ও ন্যাপ্রোক্সেনের মতো নন-স্টেরয়ডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগস (এনএসএআইডি) সাধারণত পাকস্থলীর আলসার, কিডনি ও হৃদ্যন্ত্রের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার জন্য বেশি পরিচিত। তবে দীর্ঘদিন বা উচ্চমাত্রায় সেবন করলে এসব ওষুধও লিভারের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি আরও বেশি। যেমন—যারা প্রতিদিন নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি প্যারাসিটামল খান, একই সঙ্গে একাধিক প্যারাসিটামলযুক্ত ওষুধ সেবন করেন, নিয়মিত মদ্যপান করেন, আগে থেকেই লিভারের রোগে ভুগছেন অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহার করছেন।

চিকিৎসকদের পরামর্শ, যে কোনো ওষুধ সেবনের আগে এর লেবেল ও উপাদান ভালোভাবে পড়ে নেওয়া উচিত। বিশেষ করে বিভিন্ন সর্দি-কাশি বা জ্বরের ওষুধেও প্যারাসিটামল থাকতে পারে। তাই একই উপাদানযুক্ত একাধিক ওষুধ একসঙ্গে খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

তারা আরও বলেন, জ্বর বা ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে নিজে নিজে বারবার ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। সঠিক মাত্রায় ও প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহার করলে যেমন রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, তেমনি লিভারকেও অপ্রয়োজনীয় ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা যায়।

 

সর্বাধিক পঠিত