শনিবার, 30 আগস্ট 2025
MENU
daily-fulki

অল্প ক’দিনে মিডিয়া জগত চেনা হয়ে গেছে : সর্ব মিত্র


স্টাফ রিপোর্টার : অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের মিডিয়া জগতকে চেনা হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের কার্যনির্বাহী সদস্য পদপ্রার্থী সর্ব মিত্র। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতৃত্বাধীন ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল থেকে নির্বাচন করছেন তিনি।


সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে নিজের সাক্ষাৎকারের অভিজ্ঞতা জানিয়ে এ মন্তব্য করেছেন সর্ব মিত্র। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে সর্ব মিত্র লিখেছেন, ‘আমি বুঝলাম, কীভাবে ফ্যাসিস্ট রেজিম মিডিয়াকে দিয়ে স্বপক্ষে সম্মতি উৎপাদন করতো।’

তিনি লিখেছেন, ‘একটা বামপন্থী মিডিয়ার সব প্রশ্ন ছিল শুধু মুক্তিযুদ্ধ ও পাহাড় নিয়ে। আমার আপত্তি এখানে নয়, আপত্তি এই জায়গায়, আমি ঢাবির জন্য কী করতে চাই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে আমার স্বপ্ন কী তারা জানতে চাইলো না। ওরা হামলে পড়ছিল আমার মুখ থেকে একটা বিতর্কিত বাক্য বের করে আনার জন্য। ইন্টেনশনালি বিতর্কিত করতে চান, করুন! আমি বিচলিত বা রাগান্বিত নই, সব সয়ে যাচ্ছি হাসিমুখে।’


এরপরই হলুদ সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে সর্ব মিত্র লিখেছেন, ‘স্রেফ বলবো, হলুদ সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে আমার যুদ্ধ ঘোষণা করলাম, আপনাদের ধ্বংস আমার হাত ধরেই হবে একদিন!’

এর আগে শিবিরের প্যানেলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে চমক হয়ে আসেন সর্ব মিত্র। নিজের প্রার্থীতার কথা জানিয়ে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘ডাকসু-২৫ নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট থেকে কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য পদে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমার চোখে একটি রাষ্ট্রের ভেতর আরেক রাষ্ট্র, যেখানে অর্ধ লক্ষের অধিক শিক্ষার্থী স্রেফ কোনো একভাবে দিনযাপন করে। না আছে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ, পুরো ক্যাম্পাস হন্যে হয়ে খুঁজেও একবেলা মানসম্মত-স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পাওয়া দুষ্কর, রয়েছে আবাসন সংকট, নেই গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত উপকরণাদি, চলছে স্বাস্থ্য বিমার নামে প্রহসন, অতঃপর চিকিৎসার অভাবে শিক্ষার্থীর মৃত্যু ইত্যাদি। পদে পদে অবহেলা-বঞ্চনা আর একরাশ হতাশা।’

সর্ব মিত্র লেখেন, কিন্তু এত শত অবহেলায় টিকে থাকা এই মানুষগুলোর মধ্যে আছে এক বিশেষ লুকায়িত শক্তি, যা রাষ্ট্রযন্ত্রকে সদা উদ্বিগ্ন রাখে। এই মানুষগুলো যে কোনো সময় রাষ্ট্রের ভিত নাড়িয়ে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। তার বড় এবং ঘনিষ্ঠ উদাহরণ হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান। সেই শঙ্কা থেকে এই মানুষগুলোকে দমিয়ে রাখার যত আয়োজন, তা রাষ্ট্রযন্ত্র করে। ফলস্বরূপ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী ৫৪ বছরে ডাকসু অনুষ্ঠিত হয়েছে মাত্র আট বার, যেখানে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল প্রতি বছর।

তিনি লেখেন, আমি সর্ব মিত্র , সমাজে প্রচলিত তথাকথিত ‘নেতা’ হয়ে সুপেরিয়রিটি চর্চার প্রয়াস বা বাসনা আমার নেই। এখানে যারা আসেন, সবাই নিঃসন্দেহে দেশসেরা মেধাবী, লাখ লাখ প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে লড়াই শেষে বিজয় ছিনিয়ে এ জায়গায় আসেন তারা, তাদের ওপর কর্তৃত্ব দেখানোর দুঃসাহস আমি ঘুণাক্ষরেও করি না।

তিনি আরও লেখেন, আপনাদের ভালোবাসা এবং সমর্থন পেলে আমি বড়জোর আপনাদের প্রতিনিধি হয়ে হাজার কণ্ঠের এক কণ্ঠ হয়ে উঠতে চাই। জ্ঞান হওয়ার পর থেকে একজন শিক্ষার্থীর মৌলিক অধিকার, নারীর অধিকার, আদিবাসী-সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার নিয়ে আমার কণ্ঠ সর্বদা সোচ্চার ছিল এবং আমৃত্যু সব অন্যায়-অবিচার-অনিয়ম-দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আমার অবস্থান অবিচল থাকবে। আমার বিশ্বাস, আমার স্বাতন্ত্র্য, সৎসাহসের সঙ্গে আপনাদের ভালোবাসা আমাকে উজ্জীবিত রাখবে। আমাদের সংগ্রাম জারি থাকবে!
 

 

সর্বাধিক পঠিত