ধামরাই প্রতিনিধি : ধামরাই উপজেলার বাইশাকান্দা ইউনিয়নের চণ্ডীশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে এক প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশন করার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের জেরে সৃষ্ট এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হলেও শেষ পর্যন্ত দুই পরিবারের সমঝোতা ও সম্মতিতে বিয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বাইশাকান্দা ইউনিয়নের চণ্ডীশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে বসবাসকারী আলমগীর নামের এক যুবকের বাড়িতে গিয়ে অনশন শুরু করেন কল্পনা নামের এক কলেজছাত্রী। আকস্মিক এই ঘটনায় মুহূর্তেই আশপাশের লোকজনের মধ্যে ভিড় জমে যায় এবং এলাকায় নানা গুঞ্জন শুরু হয়।
অনশনরত কলেজছাত্রী কল্পনার দাবি, আলমগীরের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ও বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে আলমগীর তাঁকে বিয়ে করতে পরিষ্কার অস্বীকৃতি জানান। কোনো উপায় না পেয়ে এবং নিজের অধিকার আদায়ে তিনি বাধ্য হয়েই প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে অনশনে বসেন। এ সময় অটল অবস্থানে থাকা কল্পনা স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, আলমগীর তাঁকে বিয়ে না করলে তিনি ওই বাড়ি থেকে এক পাও নড়বেন না এবং প্রয়োজনে নিজের জীবন বিসর্জন দেবেন।
এদিকে বাড়িতে তরুণীর অনশনের খবর দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় উৎসুক জনতা সেখানে ভিড় জমান। পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করার উপক্রম হলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, মাতবর এবং উভয় পক্ষের পরিবারের সদস্যরা দ্রুত এগিয়ে আসেন। তাঁরা বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে একটি বৈঠকে বসেন এবং খোলামেলা আলোচনা শুরু করেন।
দীর্ঘ ও দফায় দফায় আলোচনার একপর্যায়ে প্রেমিক যুগলের সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে উভয় পরিবারের মুরব্বিরা ইতিবাচক সিদ্ধান্তে উপনীত হন। দুই পরিবারের সম্মতিতে কল্পনা ও আলমগীরের খুব শীঘ্রই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই অনশনরত কলেজছাত্রী শান্ত হন এবং উভয় পরিবারের পক্ষ থেকে বর্তমানে বিয়ের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, দুই পরিবারের এই সুন্দর ও দায়িত্বশীল সমঝোতার কারণে বর্তমানে এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে। তবে এই বিষয়ে অভিযুক্ত যুবক আলমগীরের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
