মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের ঘিওরে ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে চুরি যাওয়া প্রায় ১৩ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ও ব্যবসায়ীর মেয়ের জামাই মো. সামিউলকে (৪০) রাজশাহীর বোয়ালিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঘরজামাই হিসেবে শ্বশুরবাড়িতেই বসবাস করতেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঘিওর থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ কর্মকর্তারা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ আগস্ট ঘিওর উপজেলার বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের পাটাইকোনা এলাকায় ব্যবসায়ী আকবর আলী খানের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। ওই সময় আকবর আলী খান ও তাঁর স্ত্রী চিকিৎসার জন্য ঢাকায় ছিলেন। পরে তারা বাড়িতে ফিরে দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষের দরজা, ট্রাংক ও লকারের তালা ভাঙা দেখতে পান। এরপর ওই কক্ষে থাকা মালামাল তল্লাশি করে তারা দেখতে পান, তার স্ত্রীর বেশ কিছু স্বর্ণালংকার, চেকবই ও এটিএম কার্ড নেই। চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকারের মধ্যে ছিল তিনটি চেইন, পাঁচ জোড়া কানের দুল, দুটি বালা, একটি সিতাহার, দুটি আংটি, একটি ব্রেসলেট।
এ ঘটনায় ৮ সেপ্টেম্বর ঘিওর থানায় মামলা করেন আকবর আলী খান।
মামলার তদন্তে নেমে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সামিউলের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। পরে ঘিওর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল রাজশাহীর বোয়ালিয়া এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে সামিউলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের পর সামিউলের কাছ থেকে চুরি যাওয়া প্রায় সাড়ে ছয় ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এসব স্বর্ণালংকারের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১৩ লাখ টাকা।
সামিউল নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার জোনাকী এলাকার মৃত আজিজুল হকের ছেলে। তিনি মামলার বাদী আকবর আলী খানের মেয়ের জামাই।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করছিলেন।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকার মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার সামিউলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মুহব্বত কবীর বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে রাজশাহীতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকারও উদ্ধার করা হয়েছে। আসামির বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই চুরির ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
