ঢাকা শনিবার, জুলাই ৩১, ২০২১
গরু পালনে খরচ দুই লাখ, দাম উঠছে সোয়া লাখ
  • স্টাফ রিপোর্টার
  • ২০২১-০৭-২০ ০৭:৩৮:৫৮

রাত পোহালেই পবিত্র ঈদুল আজহা। ধর্মীয় রীতি মেনে সকাল থেকেই পশু কোরবানি করবেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। তবে ঈদের আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি থাকলেও এখনো রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে ক্রেতার থেকে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। ক্রেতা সংকটে কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না ব্যাপারীরা। ফলে হতাশ হচ্ছেন তারা।

মঙ্গলবার (২০ জুলাই) রাজধানীর আফতাবনগর এবং বনশ্রী মেরাদিয়া অস্থায়ী পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, লোকে লোকারণ্য। কিন্তু এর সিংহভাগই এসেছেন হাটে ঘোরাঘুরি করতে।

গরু-ছাগলের দরদাম করছেন খুব কম সংখ্যক মানুষ। আবার যারা দরদাম করছেন, তারা ব্যাপারীরা যে প্রত্যাশা করছেন তার চেয়ে অনেক কম দাম বলছেন।

বাজার পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে অনেক ব্যাপারীরা বলছেন, বাজারে যে হারে পশুর উঠেছে, ক্রেতা তার থেকে অনেক কম। ফলে তারা লোকসানে গরু ও ছাগল বিক্রি করে দিচ্ছেন। বিশেষ করে বড় গরুর ক্রেতা খুবই কম।

আফতাবনগর হাটে বরিশাল থেকে গত শনিবার ৫টি গরু নিয়ে এসেছেন আশরাফ উদ্দিন। তিনি বলেন, দু’টি ছোট এবং তিনটি বড় গরু এনেছিলাম। ছোট গরু দু’টি ৮৫ ও ৯২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। কিন্তু বড় তিনটি গরু বিক্রি করতে পারছি না।

তিনি বলেন, রোববার একটি গরুর দাম এক লাখ ৯০ হাজার টাকা একজন দাম দিয়েছিলেন। কিন্তু এই গরুর পেছনে আমার খরচ পড়েছে দুই লাখ টাকার বেশি। আজ দু’জন এসে দরদাম করেছেন। একজন এক লাখ ২০ হাজার, আর একজন এক লাখ ৩০ হাজার টাকা দাম বলেছেন। এত লোকসানে কীভাবে গরু বিক্রি করব।

তিনি আরও বলেন, আমি সাত বছর ধরে ঢাকায় কোরবানির সময় গরু নিয়ে আসছি। এর আগে কখনো গরুর দাম এতো পড়ে যায়নি। গত বছর যে গরু ৪ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেই গরু এবার দুই লাখ টাকাতেও বিক্রি হচ্ছে না। সব ব্যাপারীর এবার মাথায় হাত।

বাজারটিতে কুষ্টিয়া থেকে ২০টি গরু নিয়ে আসা মো. জহিরুল বলেন, ২০টি গরু নিয়ে এসেছিলাম। আমাদের সবগুলো গরু মাঝারি সাইজের। ১৮টি বিক্রি হয়ে গেছে। এখন এই দু’টি বাকি আছে। গরু বিক্রি করতে পারলেও গত বছরের তুলনায় দাম কম পেয়েছি।

তিনি বলেন, আমাদের এই গরু গত বছর এক লাখ ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। এবার মাত্র দু’টি গরু এক লাখ টাকা করে বিক্রি করতে পেরেছি। বাকিগুলো ৯০-৯৫ হাজার টাকা করে বিক্রি হয়েছে। এখন যে দু’টি আছে এর দাম ৭০-৭৫ হাজার টাকা করে বলছে। অথচ গতকালও বেশ কয়েকজন ৮৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম দিয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, এবার হাটে যে হারে গরু উঠেছে, ক্রেতা তার তুলনায় অনেক কম। কাল ঈদ অথচ আজকেও হাটে যারা এসেছেন, তাদের বেশিরভাগই ঘুরতে এসেছেন। হাতে যত মানুষ আছে, এর অর্ধেকও যদি গরু কিনতেন, তাহলেও গরুর দাম পাওয়া যেত।

মেরাদিয়া হাটে গিয়েও মানুষের প্রচন্ড ভিড় দেখা যায়। তবে এ হাটে গরু ও ছাগল নিয়ে আসা ব্যাপারীরা অভিযোগ করেছেন ক্রেতা কম এবং তারা প্রত্যাশিত দাম পাচ্ছেন না।

সিরাজগঞ্জ থেকে হাটে ১০টি গরু নিয়ে আসা টিটু বলেন, ১০টা গরু নিয়ে এসেছিলাম। এরমধ্যে চারটি বিক্রি করতে পেরেছে। সবগুলো গরুই কোনো রকম আসল টাকায় বিক্রি হয়েছে, লাভ করতে পারিনি। বাজারের যে অবস্থা তাতে মনে হচ্ছে, বাকিগুলো লোকসানে বিক্রি করতে হবে।

তিনি বলেন, এবার বড় গরুর চাহিদা একেবারেই নেই। ৭০ হাজার থেকে এক লাখ টাকার মধ্যে থাকা গরু বেশি বিক্রি হচ্ছে। ছোট ও মাঝারি সাইজের এসব গরু থেকেও ব্যাপারীরা তেমন লাভ করতে পারছেন না। গত বছর যে গরু দেড় লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, এবার তা এক টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। ঢাকার হাটে দাম না থাকলেও, গ্রাম থেকে ব্যাপারীরা ঠিকই বেশি দামে গরু কিনেছেন।

এই হাটে ১০০টি ছাগল নিয়ে আসা মিজানুর রহমান বলেন, এবার ছাগলের ক্রেতা অনেক কম। ১০০টি ছাগলের মধ্যে ৪৫টি বিক্রি করেছি। ৮ থেকে ১৬ হাজার টাকার মধ্যে এসব ছাগল বিক্রি হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার ছাগলের দাম বেশ কম।

মেরাদিয়া হাট থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কেনা মহিউদ্দিন বলেন, এবার গরুর দাম তুলনামূলক অনেক কম। গতবছর এ রকম একটি গরু কিনেছিলাম এক লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে। এবার এক লাখ ২০ হাজার টাকায় পেয়ে গেছি। এবার যে অবস্থা দেখছি তাতে মনে হচ্ছে অনেক গরু অবিক্রিত থেকে যাবে।

আফতাবনগর হাট থেকে ৮২ হাজার টাকা দিয়ে গরু কেনা জামিরুল ইসলাম বলেন, গত বছর ৯০ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনেছিলাম। সেটি এর থেকেও ছোট ছিল। সেই হিসেবে এবার অনেক কম দামে গরু কিনতে পেরেছি। এবার কোরবানির জন্য এক লাখ টাকা বাজেট রেখেছিলাম। ৮২ হাজার টাকাতেই পছন্দের গরু পেয়ে গেছি।

সেফুদার সঙ্গে লেনদেন ছিল হেলেনা জাহাঙ্গীরের : র‌্যাব
এনআইডি না থাকা ব্যক্তিরা টিকা পাবেন বিশেষ প্রক্রিয়ায়
নিস্তব্ধ হেলেনা জাহাঙ্গীরের গুলশানের বাসা