ঢাকা শনিবার, জুলাই ৩১, ২০২১
মসলার দোকানে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়
  • স্টাফ রিপোর্টার
  • ২০২১-০৭-২০ ০২:২৭:৪১

রাত পোহালেই পালিত হবে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সবথেকে বড় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ। এই ঈদের আগের দিন মঙ্গলবার (২০ জুলাই) রাজধানীর মসলার দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে।

বিভিন্ন দোকানে ভিড় করে দারুচিনি, জিরা, এলাচ, লবঙ্গ, পেস্তা বাদাম, কাজু বাদাম, হলুদের গুঁড়া, শুকনা মরিচসহ বিভিন্ন মসলা কিনছেন ক্রেতারা। বিক্রি বহুগুণ বাড়লেও গরম মসলার দাম নতুন করে বাড়েনি। তবে চীনা আদা ও রসুনের দাম বেড়ে গেছে।

রামপুরার মোল্লাবাড়ি বাজারে পাশাপাশি তিনটি মসলার দোকান আছে। সকাল ১০টার দিকে বাজারটিতে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। পরিস্থিতি এমন যেন দোকানের সামনে তিল ধারণের জায়গা নাই। দীর্ঘ সময় দোকান তিনটির সামনে দাঁড়িয়ে থেকে একই ধরনের ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

একটি দোকান থেকে গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে মসলা কেনা আলেয়া বেগম বলেন, আগামীকাল ঈদ। এখনো কোনো মসলা কেনা হয়নি। মাংস রান্না করতে গেলে মসলা কিনতেই হবে। দোকানে ভিড়, এতে কিছু করার নাই।

তিনি বলেন, আমরা কোরবানি দিচ্ছি না। কিন্তু আগামীকাল মাংসের অভাব হবে না। বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রচুর মাংস আসবে। পরিবারের সবাই মিলে তৃপ্তি করে আগামীকাল মাংস খাব।

বাজারটির মসলার ব্যবসায়ী মো. আলামিন বলেন, দুই-তিন দিন ধরে ভালো বিক্রি হচ্ছে। তবে ক্রেতাদের ভিড় আজ সব থেকে বেশি। আজ না কিনলে তো আর কেনার সুযোগ নেই, তাই সবাই একসাথে এসে ভিড় করছে।

খিলগাঁও তালতলা মার্কেটে গিয়ে মসলার দোকানে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। মার্কেটটির ব্যবসায়ী জহির বলেন, করোনা হোক আর যাই হোক কোরবানি আটকে থাকবে না। আর কোরবানির দিন সবার ঘরে ঘরে মাংস থাকবে। মাংস রান্না করতে হলে মসলা লাগবে।

তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে মনে হচ্ছিল এবার মসলার বাজারে মন্দা যাবে। তবে দুই-তিন দিন ধরে সেই শঙ্কা কেটে গেছে। মানুষ প্রচুর মসলা কিনছে। যদিও এবার মসলার দাম বাড়েনি।

তালতলা মার্কেট থেকে বিভিন্ন মসলা কেনা আরিফ হাসান বলেন, আল্লাহর রহমতে এবার কোরবানি দিচ্ছি। ইচ্ছা আছে কোরবানির মাংস অধিকাংশই মানুষের মাঝে বিলিয়ে দেব। নিজেদের খাওয়ার জন্য অল্প কিছু মাংস রাখবো। যেহেতু আগামীকাল ঈদ, তাই মাংস রান্না করতেই হবে। ঢাকার কিছু আত্মীয়-স্বজনকে দাওয়াত দিয়েছি। এজন্যই একটু বাড়তি পরিমাণে মসলা কিনছি।

এদিকে ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, খুচরা পর্যায়ে শুকনা মরিচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৪০ টাকা। হলুদের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৮০ টাকায়। ভারতীয় জিরার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে। দারুচিনির বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা কেজিতে। এলাচ বিক্রি হচ্ছে ২৬০০ থেকে ২৮০০ টাকা কেজি। লবঙ্গের কেজি ১০৫০ থেকে ১১০০ টাকার মধ্যে। গত এক সপ্তাহের মধ্যে এ পণ্যগুলোর দাম বাড়া-কমার ঘটনা ঘটেনি।

তবে সপ্তাহখানেক আগে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া চীনা আদার দাম বেড়ে ২০০ থেকে ২৩০ টাকা হয়ে গেছে। এর সঙ্গে বেড়েছে চীনা রসুনের দাম। চীনা রসুনের কিছু বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, যা সপ্তাহখানেক আগে ছিল ১২০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে।

অবশ্য খুচরা বাজারের মতো পাইকারি বাজারেও গরম মসলার দাম স্থিতিশীল রয়েছে। পাইকারিতে ভারতীয় জিরা বিক্রি হচ্ছে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে। চারুচিনি কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৩১০ থেকে ৩৬০ টাকা। এলাচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭৫০ থেকে ২৪৫০ টাকা। আর লবঙ্গের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ৯৪০ টাকা।

মৌলভীবাজারের মসলার পাইকারি ব্যবসায়ী মো. রুবেল বলেন, কোরবানির ঈদকেন্দ্রিক যে সময় আমাদের বিক্রি হওয়ার কথা, সে সময়টাই লকডাউনের মধ্যে পড়ে গেছে। তারপরও কয়েকদিন ধরে ভালো বিক্রি হয়েছে। এবার কোনো মসলার দাম বাড়েনি।

১ আগস্ট থেকে রফতানিমুখী শিল্পকারখানা খোলা
সেফুদার সঙ্গে লেনদেন ছিল হেলেনা জাহাঙ্গীরের : র‌্যাব
এনআইডি না থাকা ব্যক্তিরা টিকা পাবেন বিশেষ প্রক্রিয়ায়