ঢাকা শনিবার, জুলাই ৩১, ২০২১
‘দ্বিধায়’ আটকে আছে ঢাকা মহানগর বিএনপির কমিটি!
  • স্টাফ রিপোর্টার
  • ২০২১-০৭-০৯ ০৮:১৫:৫৭

আগের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ায় ঢাকা মহানগর বিএনপির দুই শাখার নতুন কমিটি নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। ইতোমধ্যে দলীয় হাইকমান্ডের কাছে কমিটি নিয়ে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। তবে আহ্বায়ক কমিটি নাকি পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়া হবে তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েছে হাইকমান্ড।

দলের শীর্ষ পর্যায়ের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে যে কোনো সময় দেয়া হবে নগরীর দুই শাখার কমিটি।

ঢাকা মহানগরের দুই শাখার নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, শিগগিরই কঠোর আন্দোলনের পরিকল্পনা করছে বিএনপি। সে আন্দোলন সফল করতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপিকে দলীয় হাইকমান্ড সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ বিষয়টি মাথায় রেখে দুই শাখার নতুন কমিটি গঠনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এজন্য হাইকমান্ডের কাছে যেসব প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

এর আগে ঢাকার দুই প্রভাবশালী নেতা প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা এবং মির্জা আব্বাসকে ঢাকা মহানগরের দায়িত্ব দিয়েও আন্দোলনে সফল হতে পারেনি বিএনপি। সে অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে ২০১৭ সালে মহানগর দক্ষিণে হাবিব উন নবী খান সোহেল এবং উত্তরে এম এ কাইয়ুমকে নেতৃত্বে নিয়ে আসা হয়। এতেও সেভাবে নগর বিএনপি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।

এ পরিস্থিতিতে কীভাবে কমিটি গঠন করা হবে তা নিয়ে ভাবা হচ্ছে। কারণ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটিতে দেখা যায়, আহ্বায়ক কমিটি পূর্ণ মেয়াদোত্তীর্ণ করলেও নানা জটিলতায় কমিটি পূর্ণাঙ্গতা পায় না। ফলে সংগঠনের কার্যক্রম যেমন স্থবির হয়ে পড়ে তেমনি আন্দোলন সংগ্রামেও সেভাবে ভূমিকা রাখতে পারে না। সেজন্য নগর কমিটির জন্য সার্বিক দিক বিবেচনা করা হচ্ছে।

সূত্র মতে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সম্ভাব্য আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক পদে আলোচনায় রয়েছেন হাবিব উন নবী খান সোহেল এবং আমানউল্লাহ আমান। সদস্য সচিব পদে আলোচনায় রয়েছেন আগের কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, নবী উল্লাহ নবী, রফিকুল আলম মজনু এবং হাবিবুর রশিদ হাবিব।

আবার পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়া হলে সে ক্ষেত্রে সুপার ফাইভের আলোচনায় রয়েছেন সভাপতি পদে হাবিব উন নবী খান সোহেল, সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে নবী উল্লাহ নবী, সাধারণ সম্পাদক পদে হাবিবুর রশিদ হাবিব, প্রথম যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে তানভীর আহমেদ রবিন এবং প্রথম সাংগঠনিক সম্পাদক পদে প্রকোশীল ইশরাক হোসেন।

অন্যদিকে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সম্ভাব্য আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক পদে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রচার সম্পাদক এবং যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। সদস্য সচিব পদের আলোচনায় রয়েছেন সাইফুল আলম নীরব, আব্দুল আলীম নকী, শামসুল হক, বজলুল বাসিত আঞ্জু।

পূর্ণাঙ্গ কমিটি হলে তার সুপার ফাইভের আলোচনায় রয়েছেন সভাপতি পদে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল আলীম নকি, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নীরব, প্রথম যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক এবং প্রথম সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মামুন হাসান।

বিএনপির একটি দায়িত্বশীল নেতার ভাষ্য, দলের পক্ষ থেকে ‘গণতন্ত্র উদ্ধারে’ আরেকটি ‘যুদ্ধের’ কথা বলা হচ্ছে। সেই যুদ্ধের জন্য কমিটি প্রস্তুত করতে হবে। দক্ষিণে আলোচনায় থাকা আমানউল্লাহ আমান ’৯০ -এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির সচল ‘কামান’ হিসেবে নিজেকে দেখাতে পারলেও ২০১৪ সালের পরের আন্দোলনগুলোতে তিনি যেন ‘পরিত্যক্ত অচল’ কামানে পরিণত হয়েছেন।

অন্যদিকে গত ১২ বছরের রেকর্ড পর্যালোচনা করলে হাবিব উন নবী খান সোহেলকে বাদ দেয়ার ‘পর্যাপ্ত সুযোগ’ নেই। বর্তমান কমিটি নিয়ে সোহেল সেভাবে কিছু করতে না পারলেও তার অভিজ্ঞতা সামনে কাজে লাগানো যেতে পারে। আবার তিনি তেমন কিছু করতে না পারলেও নেতাকর্মীদের পাশে সার্বক্ষণিক সক্রিয় ছিলেন।

বিএনপির ওই নেতা বলেন, দলের দুই ব্যবসায়ী নেতা মহানগর দক্ষিণের তরুণ একজনকে কমিটির দায়িত্বশীল পদের জন্য উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন।

ঢাকা মহানগরের আরেকজন নেতা বলেন, প্রস্তাবিত যে কমিটির কথা শুনছি তা চূড়ান্ত হলে আব্বাস গ্রুপ এবং খোকা গ্রুপকে যেমন মূল্যায়ন করা হবে তেমনি অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বও নিরসন হবে। ফলে নগরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সত্যিকারের ঐক্যের প্রতিফলন দেখা যাবে।

অন্যদিকে উত্তরে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে নেতৃত্বে নিয়ে যে কমিটির আলোচনা চলছে তা চূড়ান্ত হলে সেটাও অত্যন্ত শক্তিশালী কমিটি হবে বলে মত ওই নেতার।

এ বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘করোনার কারণে আমাদের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া বলতে গেলে থমকে গেছে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আমরা সীমিত পরিসরে দল গোছানোর চেষ্টা করছি। এর অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর কমিটিও পুনর্গঠন করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকা মহানগর আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ইউনিট। তাই কোনো বলয় বা কারও আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ তৈরির জন্য মহানগর কমিটি পুনর্গঠন করা হবে না। যারা যোগ্য, ত্যাগী এবং আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা রাখছেন, তাদেরই নেতৃত্বে আনা হবে। এছাড়া পুরো বিষয়টি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান সরাসরি তদারকি করছেন।’

প্রসঙ্গত গত একাদশ জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে সংগঠন পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয় বিএনপি। করোনার কারণে পুনর্গঠন কার্যক্রমে ধীরগতি থাকলেও গত কয়েক বছরে ৮২টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ৩৭টি জেলা পুনর্গঠন সম্পন্ন হয়েছে। এসব জেলার আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি এখনও হয়নি।

আ.লীগের নাম ব্যবহার করে ৭৩ ভুঁইফোড় সংগঠন
এরশাদপুত্র এরিক জাপা কমিটি দিলেন রওশনকে চেয়ারম্যান করে
টিকা নিতে নিবন্ধন করলেন খালেদা জিয়া