ঢাকা শনিবার, জুলাই ৩১, ২০২১
পৌর আদালত শক্তিশালী করতে আইন সংস্কারের দাবি মেয়রদের
  • স্টাফ রিপোর্টার
  • ২০২১-০৬-২২ ০৯:৫৪:৫৮

 

‘বিরোধ মীমাংসা (পৌর এলাকা) বোর্ড আইন ২০০৪’  সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন পৌর মেয়ররা। তারা বলেছেন, যেখানে গ্রাম আদালতে বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষতিপূরণ ৭২ হাজার টাকা ধরা আছে, সেখানে পৌরসভা আইনে ক্ষতিপূরণ সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা। যা বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্রহণযোগ্য আইন হতে পারে না।

মঙ্গলবার (২২ জুন) চারটি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক ওয়েবিনারে তারা এ দাবি জানান। সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে— মাদারীপুর লিগ্যাল এইড অ্যাসোসিয়েশন (এমএলএএ), বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), নাগরিক উদ্যোগ এবং এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্লাটফর্ম, বাংলাদেশ।

এ সময় বক্তারা বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পতিতে সালিশ ব্যবস্থার পাশাপাশি ইউনিয়ন পর্যায়ে গ্রাম আদালত এবং পৌরসভা পর্যায়ে বিবোধ মীমাংসা (পৌর এলাকা) বোর্ড আইন ২০০৪ বিদ্যমান। পৌর মেয়র, কাউন্সিলর ও পৌর কর্মকর্তারা নাগরিক সেবার পাশাপাশি  অনানুষ্ঠানিকভাবে বিরোধ নিষ্পত্তিতে প্রতিনিয়ত ভূমিকা রাখছেন। কিন্তু পৌর বোর্ডের  আর্থিক এখতিয়ার খুবই সীমাবদ্ধ থাকায় পৌরসভাগুলো আইনের আওতায় বিরোধ নিষ্পত্তিতে জোরালো ভূমিকা রাখতে পারছে না। সরকারি ও বেসরকারি নানা উদ্যোগের কারণে গ্রাম আদালত আইনটির একাধিক সংশোধন হলেও পৌর বোর্ড আইনটি মূলত অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে।

সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে  মিউনিসিপাল অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ম্যাব) ও নীলফামারী পৌরসভার মেয়র  দেওয়ান কামাল আহমেদ বলেন, ‘বিরোধ মিমাংসা পৌর আইনে সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ ২৫ হাজার টাকা। আর গ্রাম আদালত আইনে ক্ষতিপূরণ ৭২ হাজার টাকা। যেটা পৌর শহরের মূল্যায়ন হয় না। এই আইন সংস্কার জরুরি। না হয় দরিদ্র জনগোষ্ঠী ন্যায়বিচার হতে বঞ্চিত হবে। তবে তিনি আইন  সংস্কারে কয়েকটি প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।’

ম্যাবের মহাসচিব ও মাদারীপুর পৌরসভার মেয়র খালিদ হোসেন ইয়াদ বলেন, ‘পৌরসভাকে শক্তিশালী করতে হলে পৌর আদালত সংক্রান্ত বিরোধ মিমাংসা আইন সংশোধন করতে হবে। কেননা, বিদ্যমান দুর্বলতা রেখে সামনে এগোনো সম্ভব হবে না।’

তিনি বলেন, ‘আইন মোতাবেক পৌরসভায় সিইও (প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা) নিয়োগের বিধান রয়েছে। আবার সার্ভিস বুক অনুযায়ী,  এসব কর্মকর্তা মেয়রদের হাতে থাকছেন না। এটা হলেতো পৌর সংস্থাগুলো শক্তিশালী হবে না।’ 

লাকসাম পৌরসভার মেয়র অধ্যাপক আবুল খায়ের বলেন, ‘গ্রাম আদালত আইনের নীতিমালা রয়েছে, কিন্তু পৌর আইন যেটা রয়েছে সেটা দুঃখজনক। অথচ গ্রামের তুলনায় শহরের জনসংখ্যা অনেক বেশি। মানুষের আয়ও বেশি। তাহলে কেন গ্রাম আদালতের চেয়ে বিরোধ মীমাংসা পৌর আইনের ক্ষতিপূরণ কম।’

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হলে পৌর আদালতের কাঠামোর দুর্বলতাগুলোও দূর করতে হবে। এ আইনটিকে কার্যকরভাবে ব্যবহারের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।’

ওয়েবিনারে আলোচনায় অংশ নেন-সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আইনুন নাহার সিদ্দিকী ও নরসিংদী পৌরসভার প্যানেল মেয়র ইয়াছমিন সুলতানা প্রমুখ।  ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা করেন নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী জাকির হোসেন।  পৌর এলাকার বিরোধ মীমাংসা (পৌর এলাকা) বোর্ড আইন, ২০০৪ এর সীমাবদ্ধতা ও সুপারিশ নিয়ে তথ্যচিত্র উপস্থাপনা করেন মাদারীপুর লিগ্যাল এইড অ্যাসোসিয়েশনের (এমএলএএ) প্রধান সমন্বয়ক মো. শহিদ।

 

 

 

১ আগস্ট থেকে রফতানিমুখী শিল্পকারখানা খোলা
সেফুদার সঙ্গে লেনদেন ছিল হেলেনা জাহাঙ্গীরের : র‌্যাব
এনআইডি না থাকা ব্যক্তিরা টিকা পাবেন বিশেষ প্রক্রিয়ায়