ঢাকা বুধবার, জুন ২৩, ২০২১
সিংগাইরে দু’সন্তানের পিতৃ পরিচয়ের দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন মা
  • সিংগাইর(মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
  • ২০২১-০৬-০৫ ০৯:৪১:১১

 


মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের চর-নয়াডাঙ্গী গ্রামে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের শিকার হয়ে মা হন এক নারী। ধর্ষণের সময় জন্ম নেয়া ওই নারীর সন্তানের পিতৃ পরিচয়ের জন্য সমাজপতিদের দ্বারস্থ হলে অভিযুক্ত ধর্ষণকারী নুরু মিয়ার সাথে তার বিয়ে দেয়া হয়। অভিযুক্ত নুরু মিয়া একই ইউনিয়নের দক্ষিণ নয়াডাঙ্গী গ্রামের মৃত মাহামের পুত্র ও ৫ সন্তানের জনক। 


নুরু মিয়া বছর না যেতেই জন্ম নেয়া ওই সন্তানকে অস্বীকার করে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটান। নুরুর ঔরষজাত মেয়েটির নাম নদী (১০)। সে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।


এদিকে, ভূক্তভোগী নারী সন্তান মানুষ করতে কখনো গার্মেন্টস আবার কখনো ঝিয়ের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে থাকেন। বর্তমানে সে পল্লী কর্মসংস্থান ও মেরামতের নারী শ্রমিক হিসেবে জয়মন্টপ ইউনিয়নের অধীনে কাজ করছেন। ওই নারী অভিযোগ করে বলেন,পূর্বের স্বামী নুরু মিয়া তালাক দেয়ার পর ও আমাকে বিভিন্ন সময় উত্যক্ত করতে থাকে। গেল বছরের ৭ অক্টোবর রাত ৮ টার দিকে পার্শ্ববর্তী কিটিংচর প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মুদি দোকানে মরিচ কিনতে গেলে আমাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। পরবর্তী সময়ে আমাকে বিভিন্ন প্রলোভনে সুযোগ বুঝে একাধিকবার ধর্ষণ করে নুরু। যার ফলে আরেকটি পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। বর্তমানে তার বয়স ২ মাস । সন্তানদ্বয়ের পিতৃ পরিচয় না পাওয়ায় সমাজচ্যুত হয়েছেন ওই নারী। পৈতিৃক ভিটা ছাড়া হয়ে বর্তমানে ওই গ্রামের হাশেমের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছেন। তিনি সন্তানদ্বয়ের পিতৃ পরিচয় ও স্বামী সংসার ফিরে পেতে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের গ্রাম আদালতে লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানান। ওই নারীর বড় সন্তান নদী বলেন, মায়ের কাছে বাবার পরিচয় জেনে তাকে আব্বু ডেকে কাছে গেলে তিনি আমাকে তাড়িয়ে দেন এবং আমাকে তার সন্তান বলে অস্বীকার করেন। নদী তার পিতৃ পরিচয় পেতে চান।


ভূক্তভোগী নারীর বাবা অভিযোগ করে বলেন, আমি ছাড়া এ হতভাগা মেয়ে ও তার দু’সন্তানের পাশে কেউ নেই। সমাজের চোখে দোষী হয়ে তাকে অন্যের বাড়িতে থাকতে হচ্ছে। মেয়ের স্বামী সংসার ফিরে পেতে ও নাতী নাতনির পিতৃ পরিচয় প্রতিষ্ঠার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।


অভিযুক্ত নুরু মিয়া বলেন, প্রায় ১০ বছর আগে সন্তান গর্ভাবস্থায় আমাকে দায়ী করে বিয়ে করতে বাধ্য করা হয়েছিল। পরবর্তীতে আমি ৫০ হাজার টাকা দিয়ে তালাক দিয়েছি। গত দু’বছর আগে আরেক সন্তান জন্ম নিলেও আমাকে দায়ী করা হচ্ছে। দু’সন্তানেরই বাবার পরিচয় তিনি অস্বীকার করেন।


জয়মন্টপ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইঞ্জি: শাহাদৎ হোসেন বলেন, ওই নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত নুরুকে ডেকে আনা হয়েছিল। সে অস্বীকার করেছেন। তাই ভিকটিমকে আইনগত প্রক্রিয়ায় ওসিসিতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।


উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ ইমানুর রহমান বলেন, অভিভাবকহীন শিশুদের দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হয়। পিতৃ পরিচয় প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে নির্যাতিত নারী প্রচলিত আইনে মামলা করতে পারেন। 


উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রওশন আরা বলেন, প্রথমত দু পক্ষকে ডেকে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। মিমাংসা না হলে সন্তান দু’টির পিতৃ পরিচয় প্রতিষ্ঠার জন্য ডিএনএ টেস্টের ব্যবস্থা করা হবে।


এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার ওসি সফিকুল ইসলাম মোল্লা বলেন, এ ধরনের কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

মানিকগঞ্জে তিন বছরের মাথায় ধসে পড়লো ব্রিজ
অল্প সময়ে অধিক লাভ, সিংগাইরে পেঁপে চাষে আগ্রহ বাড়ছে
পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ফেরিতে বাস পারাপার