ঢাকা মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৩, ২০২১

নারায়ণগঞ্জের সব থানা-ফাঁড়িতেও এলএমজি চৌকি
  • ফুলকি ডেস্ক
  • ২০২১-০৪-০৮ ২৩:২২:৩৫

 

নারায়ণগঞ্জ জেলার সাত থানা ও আটটি ফাঁড়িতে এলএমজি বিশেষ নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন করা হয়েছে। বুধবার রাত থেকে থানায় নিরাপত্তার অংশ হিসেবে গুরুত্ব অনুসারে থানা, ফাঁড়ি ও তদন্ত কেন্দ্রে এলএমজি পোস্ট ও সিমেন্টের বস্তা দিয়ে বিশেষ ধরনের প্রতিরোধ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।

 

পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে পুলিশ সদস্যের সংখ্যা। এসব চৌকিতে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাতে ফতুল্লা মডেল থানায় গিয়ে দেখা যায়, থানার ছাদের ওপর গোলঘরে সিমেন্টের বস্তা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে চৌকি। সেখানে দায়িত্বরত পুলিশের এক সদস্য এলএমজি তাক করে বসে আছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম জানান, পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনায় দেশব্যাপী জেলার সাতটি থানা ও আটটি ফাঁড়িতে ওই বিশেষ চৌকি স্থাপন করা হয়েছে। বাড়তি নিরাপত্তার অংশ হিসেবে পুলিশের আওতাধীন সব থানা, ফাঁড়ি, তদন্ত কেন্দ্র ও স্থাপনাগুলোতে এলএমজি পোস্ট স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জর বিভিন্ন থানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন করা হয়েছে। আমরা যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে প্রস্তুত রয়েছি। তাণ্ডব সৃষ্টিকারীরা সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি করায় সাধারণ মানুষও এখন এসব দুষ্কৃতিকারীদের ব্যাপারে সচেতন। আমরা নারায়ণগঞ্জে যে কোন মূল্যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে দিবো না।

সরেজমিনে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা, ফতুল্লা থানা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটি থানার প্রবেশ অভিমুখে বালুর বস্তার সাহায্যে স্থাপন করা হয়েছে নিরাপত্তা বাঙ্কার। এমনকি থানা ভবনের ছাদেও একই কায়দায় নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে ভারী অস্ত্র নিয়ে প্রহরা দিচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা।

এদিকে বুধবার রাত থেকে হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুল হকের গ্রেফতারের গুজবের পরের দিন পুলিশের এমন রণসাজে সজ্জিত নিরাপত্তা বলয় দেখে থানায় আগতরা কৌতূহলী হয়ে উঠেছেন। অনেকে আবার ভবিষ্যৎ সহিংসতার আশঙ্কায় আতঙ্ক প্রকাশও করেছেন।

তবে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, হেফাজত ইস্যুতে ‘হার্ডলাইনে’ অবস্থান নিয়েছেন তারা। হরতাল ও মামুনুল হকের সোনারগাঁয়ে অবরুদ্ধ হওয়ার ঘটনায় সৃষ্ট তাণ্ডবের পর থেকেই তারা সতর্ক।

জানা গেছে, কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় একের পর এক সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, ভূমি অফিস, থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পুলিশের হেফাজত থেকে মামুনুল হককে ছিনিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন।

গত ৭ এপ্রিল পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল সভায় খোদ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ এসব ঘটনা কঠোরভাবে দমন করতে সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাবার বুলেটে সহিংসতা দমানো না গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্র চালাতে হবে। একইসঙ্গে ওই সভায় পুলিশকে মনোবল শক্ত রাখারও তাগিদ দেন তিনি।

এছাড়াও আইজিপির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে শনিবার হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হকের ঘেরাওয়ের প্রসঙ্গটিও আসে। তিনি বলেন, মামুনুলকে পুলিশের কাছ থেকেই নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে নিরাপত্তায় ঘাটতি ছিল। এ কারণেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ পুলিশের একটি সূত্র জানান, আমরা গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছি। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মামুনুলের গ্রেফতারের গুজব ছড়িয়ে পরলে আমরা ও আমাদের গোয়েন্দা বিশেষভাবে মাঠে ছিলাম। সন্দিগ্ধ লোকদের ওপরও বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি চলছে।

 

 

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফিরছেন মানুষ
সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী
চট্টগ্রামে ২ হাজার ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার