ঢাকা মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৩, ২০২১

গাইবান্ধায় অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ছড়াছড়ি
  • গাইবান্ধা প্রতিনিধি
  • ২০২১-০৪-০৭ ১৪:২৮:৩১

 


গাইবান্ধায় ব্যাঙের ছাতার মতো নামে-বেনামে গড়ে উঠেছে অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। আর এসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছেন রোগীরা। অনেক সময় ভুল রিপোর্টের কারণে চিকিৎসায় ব্যাঘাত ঘটছে। বেশির ভাগই ভাড়া বাসায় সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে চালাচ্ছে প্রতারণা।

কাগজপত্রে সাত উপজেলায় ১৬৭টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তথ্য থাকলেও বাস্তবে এর সংখ্যা দ্বিগুন। এর মধ্যে নিবন্ধন আছে মাত্র ৭১টির। আবার নিবন্ধন থাকলেও নবায়ন করা হয়নি অধিকাংশ ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের। ১০ বেডের অনুমতি নিয়ে কিছু ক্লিনিক খোলা হলেও অতিরিক্ত বেড বসিয়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ব্যবসা করছে অনেক ক্লিনিক। আর এসব চলছে প্রয়োজনীয় ডাক্তার, অবকাঠামো ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই। হরহামেশা গড়ে ওঠা কথিত এসব চিকিৎসা কেন্দ্রে নোংরা পরিবেশ, অদক্ষ নার্স ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াই চলছে মনগড়া চিকিৎসা ব্যবস্থা। এতে চরম ভোগান্তি, অর্থনৈতিকভাবে প্রতারিত ও স্বাস্থ্য শংকায় পড়েছে হতদরিদ্র ও বন্যা কবলিত এই জেলার প্রায় ১৮ লাখ মানুষ।

সারেজমিন ঘুরে দেখা যায়, একটি ক্লিনিক কিংবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের যে সমস্ত নিয়ম-কানুন মেনে চলা দরকার তা যেন শুধু কাগজ-কলমেই। বেশিরভাগ হাসপাতালগুলোতে নেই গাইনি বিশেষজ্ঞ, অ্যানেসথেসিয়া ডাক্তার, সার্বক্ষণিক ডাক্তার। আবার সার্জারি বিশেষজ্ঞ না হয়েও অনভিজ্ঞ কথিত ডাক্তার কিংবা আয়া-বুয়া দিয়ে করা হচ্ছে নানা ধরনের অপারেশন ও দেয়া হচ্ছে চিকিৎসা ব্যবস্থা। কোনো কোনো ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ মেডিকেলে পড়ুয়া ছাত্র কিংবা ফিজিও থেরাপিস্ট দিয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থা চালাচ্ছেন।

ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা অনুমোদনবিহীন হাসপাতালগুলো বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ওষুধের দোকানদার (ফার্মেসি মালিক) কিংবা দালাল নিযুক্ত করে কমিশনের মাধ্যমে রোগী হাতিয়ে নিচ্ছেন নিয়মিতভাবে। ভালো-মন্দ বিচার না করেই যত্রতত্র গড়ে ওঠা হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে রোগী পাঠাচ্ছে দালাল ও ফার্মেসিগুলো। ভুল চিকিৎসার কারণে প্রায়ই এসব চিকিৎসাকেন্দ্রে মারা যাচ্ছেন অসংখ্য রোগী। অনেকেই বিকলাঙ্গ কিংবা পঙ্গুত্ববরণ করছেন। যার ফলে মাঝেমধ্যে রোগীর স্বজনরা প্রায়ই হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করছে কথিত এসব চিকিৎসাকেন্দ্র। এতে জন হয়রানির পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা সিভিল সার্জন ডা. আ ম আখতারুজ্জামান জানান, কয়েকটি অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অবৈধ ডায়াগনস্টিক ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে এবং অনিয়ম পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

কুষ্টিয়ায় ফেসবুকে মামুনুল হককে নিয়ে পোস্ট দেওয়ায় আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ২৫
 গাইবান্ধায় সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ২
সাঘাটায় আওয়ামীলীগ নেতা খুন