ঢাকা মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৯, ২০২১
নিম্নমুখী ধারায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠা নতুন কোম্পানির শেয়ারদর
  • স্টাফ রিপোর্টার
  • ২০২১-১০-০৫ ১৩:১৫:০৪

দীর্ঘদিন ধরে চাঙা রয়েছে পুঁজিবাজার। প্রায় প্রতিনিয়ত সূচকের পাশাপাশি বাড়ছে তালিকাভুক্ত সিংহভাগ কোম্পানির শেয়ারদর। এ সুযোগে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে তালিকাভুক্ত নতুন কোম্পানির শেয়ার। একশ্রেণির বিনিয়োগকারী কোনো বাছবিচার ছাড়া অতিমূল্যায়িত করে ফেলে এসব শেয়ার। এ কারণে দ্রুত শেয়ারগুলোর মূল্য আয় অনুপাত বা পিই-রেশিও বেড়ে গেছে। তবে বর্তমানে হ্রাস পেতে শুরু করেছে এসব শেয়ারদর।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, শেয়ারের মূল্য আয় অনুপাতে (অডিটেট) বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠা কোম্পানিগুলো হচ্ছে-রবি আজিয়াটা, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স, ই-জেনারেশন, তাওফিকা ফুড় ও মীর আক্তার। এর মধ্যে বর্তমানে তালিকাভুক্ত এন ক্যাটেগরির বা নতুন কোম্পানি রবি আজিয়াটার শেয়ারের মূল্য আয় অনুপাত (অডিটেট) ১২৪ দশমিক ৫৫। একইভাবে বাজারে নতুন আসা কোম্পানি দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের মূল্য আয় অনুপাত দাঁড়িয়েছে ৪৮ দশমিক ৪৬। এছাড়া ইক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের মূল্য আয় অনুপাত ৪৬ দশমিক ৪৬, ই জেনারেশনের ৫০ দশমিক ৪৮, তাওফিকা ফুডের ৪৯ দশমিক ১৮ ও মীর আক্তারের শেয়ারের ২৯ দশমিক ৩৬ পয়েন্ট।

বর্তমানে এসব কোম্পানির শেয়ারদর নিম্নমুখী রয়েছে। সর্বশেষ গতকাল রবির শেয়ার লেনদেন হয় ৪১ টাকা ১০ পয়সায়। এছাড়া দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার ৪৪ টাকা ২০, ই-জেনারেশনের ৬২ টাকা ৬০, এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সের ৩৬ টাকা ৭০, মীর আক্তারের শেয়ার ৯১ টাকা ৩০ ও তাওফিকা ফুডের শেয়ার ৩৫ টাকা ৯০ পয়সায় কেনাবেচা হয়। বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, বারবার বিনিয়োগকারীদের একটি কথাই বলি, তা হচ্ছে কোম্পানি নতুন হোক আর পুরোনো হোক এখানে বিনিয়োগের আগে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ভালো করে খোঁজ নিতে হবে। কোনো কোম্পানির আর্থিক অবস্থা ভালো না হলে সেই কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা ঠিক নয়। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের পিই-রেশিওর দিকে নজর রাখা দরকার। শেয়ারের মূল্য আয় অনুপাত যত কম হবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে ঝুঁকি তত কম হবে। কিন্তু বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী এ কথাটি মাথায় রাখেন না।
তবে এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন কেউ কেউ।

তারা মনে করেন, নতুন কোম্পানি বাজারে এলে বিনিয়োগকারীদের এ শেয়ারের প্রতি আগ্রহ বেশি থাকে। কারণ তাদের ধারণা থাকে এসব কোম্পানি থেকে ভালো রিটার্ন পাওয়া যাবে। সেই আশায় শেয়ারদর বাড়তে থাকে। কারণ আগে রিটার্ন না দেয়ায় নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান শেয়ারহোল্ডারদের কতটা তুষ্ট করতে পারবে তা বোঝার উপায় থাকে না।

নতুন কোনো কোম্পানি বাজারে এলে সাধারণত প্রথম দিকে সেই শেয়ার অতিমূল্যায়িত হয়ে যায়। এ কারণে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের বিপরীতে প্রথম ৩০ দিন কোনো ঋণসুবিধা থাকে না। একই সঙ্গে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানির শ্রেণি পরিবর্তন হলে ওই কোম্পানির শেয়ারের বিপরীতেও ৩০ কার্যদিবসে কোনো ঋণসুবিধা মিলবে না। ২০০৯ সালের ১ অক্টোবর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরুর প্রথম ৩০ কার্যদিবস ও ক্যাটেগরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রথম ৩০ কার্যদিবস কোম্পানির শেয়ার ক্রয়ে মার্জিন ঋণসুবিধা বন্ধ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্টক এক্সচেঞ্জে নতুন তালিকাভুক্ত কোনো সিকিউরিটি ক্রয়ের জন্য তালিকাভুক্তির পর প্রথম ট্রেডিং দিবস থেকে ৩০তম ট্রেডিং দিবস পর্যন্ত কোনো মার্জিন ঋণ দেয়া যাবে না। পাশাপাশি কোনো কোম্পানির শেয়ারের ক্যাটেগরি পরিবর্তিত হলে নতুন ক্যাটেগরিতে লেনদেনের ক্ষেত্রেও এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

লোকসানের বৃত্তে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, আছে নানা অনিয়ম
জমে উঠেছে ফুটপাতের ব্যবসা
নিম্নমুখী ধারায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠা নতুন কোম্পানির শেয়ারদর