ঢাকা সোমবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১
এক-দুই টাকার কয়েনে মেহেরপুরবাসীর অনীহা
  • মেহেরপুর সংবাদদাতা
  • ২০২১-০৯-১৫ ০১:৪৫:০৯

আইন অনুযায়ী বিনিময়ের সময় কাগজি নোটের পাশাপাশি বাজারে প্রচলিত সব মূল্যমানের কয়েন নিতে সবাই বাধ্য। কিন্তু বাস্তবে লেনদেনের সময় এক ও দুই টাকার কোয়েন নিতে মেহেরপুরবাসীর অনীহা। ফলে এসব খুচরা পয়সা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন জেলার ব্যবসায়ীসহ সব পর্যায়ের মানুষ।

ব্যবসায়ীদের কাছে হাজার টাকার কয়েন পড়ে রয়েছে। রিকশা বা বাস ভাড়া, মুদি দোকানের কেনাকাটায় কয়েন নিতে অনীহা। এমনকি ভিক্ষুকরাও এক-দুই টাকার কয়েন নিতে নারাজ। তবে এসব কয়েনের বদলে দোকানিরা ক্রেতাদেরকে দেন চকলেট।

দেশে মূল্যস্ফীতির কারণে অনেক আগেই হারিয়েছে ১, ৫, ১০, ২৫ ও ৫০ পয়সার কয়েন। তবে লেনদেনে পাঁচ টাকার কয়েনের ব্যবহার থাকলেও এক ও দুই টাকার কয়েনের প্রচলন একেবারই নেই। চার টাকা মূল্যের কোনো পণ্য কিনে পাঁচ টাকার কয়েন বা নোট দিলে দোকানিরা ভাংতি নেই বলে এক টাকা ফেরত দেন না। আবার অনেক সময় এক টাকার বদলে ধরিয়ে দেওয়া হয় একটি চকলেট।

কয়েনের ব্যাপারে পাওয়া গেছে বিচিত্র সব তথ্য। মেহেরপুর পপি লাইব্রেরির স্বত্বাধিকারী সৈয়দ মেহেদী ঈমাম বলছেন, পকেটে বা টাকা রাখার ব্যাগে কয়েন রাখতে সমস্যা হয় বলে মানুষের মধ্যে খুচরা পয়সা ব্যবহারের আগ্রহ কমেছে।

তিনি বলেন, অনেক ব্যবসায়ী আবার দায়ী করছেন ব্যাংকগুলোকে। ব্যাংকগুলো কোনো কারণ ছাড়াই সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কয়েন নিতে চায় না। কয়েনের বদলে কাগজের নোট ব্যবহারেই সাধারণ মানুষের আগ্রহ বেশি। যদিও লেনদেনে এক ও দুই টাকার কয়েনের গুরুত্ব কোনো অংশেই কম নয়। এরপরও কয়েন নিতে আগ্রহ দেখান না কেউ।

কুষ্টিয়ার ফিলিপনগর থেকে আসা ব্যবসায়ী তুজাম হোসেন জানান, মুদির দোকান থেকে পণ্য কিনে এক ও দুই টাকার কয়েন দিলে দোকানি তা নিতে অস্বীকার করেন। দোকানির ভাষ্য, এসব কয়েন মেহেরপুরে চলে না।

মেহেরপুর বড় বাজারের কসমেটিক্স ব্যবসায়ী এস এ খান শিল্টু জানান, কয়েনের প্রচলন একেবারই নেই। ফকিররাও ভিক্ষা নিতে চান না। তাই কয়েনের বদলে এখন দোকানিরা ব্যবহার করে চকলেট।

মাই মোবাইলের স্বত্বাধিকারী আজিজুর রহমান জানান, এক ও দুই টাকার কয়েন কোনো ক্রেতা ও বিক্রেতা নেন না। তাই কয়েন জমিয়ে ঢাকা থেকে ছয় হাজার টাকার মোবাইলের মালামাল কিনেছি। এরপর থেকে আর কোনো কয়েন নিই না।

মেহেরপুর বড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মনিরুজ্জামান দ্বিপু জানান, ব্যাংকগুলো সঠিক সময়ে বাজারে সরবরাহ করতে না পারায় কয়েনের সংকট তৈরি হয়েছে। বাজারে এক ও দুই টাকার কয়েন না থাকার কারণে ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পাশাপাশি ক্রেতারাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এক টাকার কোনো পণ্য ক্রয় করলে ক্রেতাকে যেমন দুই টাকা পরিশোধ করতে হয়। তেমনি বিক্রেতাকে চার টাকার পণ্য কিনলে দুই টাকা দিতে হয়।

মেহেরপুর সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার (ক্যাশ) সেলিম আজাদ জানান, মানুষের জীবন যাত্রার মান অনেক ভালো। যার কারণে এক ও দুই টাকার কয়েনের ব্যবহার নেই।

মেহেরপুর ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মামুনার রশিদ জানান, ব্যাংকে এক ও দুই টাকার পর্যাপ্ত কয়েন রয়েছে। জেলায় সরকারের পক্ষ থেকে এক এবং দুই টাকার কয়েন চালুর বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। কারণ সরকারের অলস টাকা পড়ে রয়েছে ব্যাংক এবং মানুষের বাসা বাড়িতে। কয়েন বাড়িতে পড়ে থাকার কারণে অর্থনেতিক গতিশীলতা কমেছে।

মেহেরপুর সোনালী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক গুলশান আরা জানান, এক ও দুই টাকার কয়েন সরবরাহের কোনো সংকট থাকার কথা নয়। ব্যাংকে কয়েন জমা নেওয়া হয়। মূলত টাকার মান কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা কয়েন নিতে চান না। এমন কী ভিক্ষুকরাও নেন না।

১৯৭৩ সালে দেশে সর্বপ্রথম ৫, ১০, ২৫ এবং ৫০ পয়সা মূল্যের ধাতব মুদ্রার প্রচলন হয়। এরপর ১৯৭৪ সালে ১ পয়সা এবং তারও পরে ১৯৭৫ সালে ‘নিকেল কপার’ দিয়ে তৈরি ১ টাকার কয়েন ইস্যু হয়। এরপর ২০০৪ সালে ‘স্টিল’ দুই টাকার কয়েন ইস্যু হয়। পরে প্রচলিত হয় ৫ টাকার কয়েন।

কালিয়াকৈরে মদপানে বাধা দেওয়ায় পিটিয়ে হত্যা
সুনামগঞ্জে হঠাৎ বাস ধর্মঘটে ভোগান্তিতে মানুষ
দেড় বছর পর দর্শনা দিয়ে যাত্রী পারাপার শুরু