ঢাকা বুধবার, নভেম্বর ২৫, ২০২০
সাভারে নব বধূর অনশন, স্বামী শ্বশুর ও শাশুড়ির পলায়ন
  • স্টাফ রিপোর্টার
  • ২০২০-১১-২২ ১৭:৪০:৫১

  সাভারে স্ত্রীর অধিকার দাবীতে শ্বশুর বাড়িতে অনশন করছেন নব বধূ শান্তা ইসলাম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে পরিচয়ের সুত্র ধরে শান্তার বিয়ে হয় সাভার পৌর এলাকার গেন্ডা সচিব রোডের নজরুল ইসলামের পুত্র দূর পাল্লার বাসের সুপারভাইজার সাগরের সাথে। দুই মাসের মাথায় শান্তাকে মারধর করে বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করে স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ী। কিন্ত শান্তা মারধর খেয়ে সাভার মডেল থানায় এ বিষয়ে অভিযোগ করতে গেলে খবর পেয়ে তার শ্বশুর, শাশুড়ি ও স্বামী বাড়ী তালাবদ্ধ করে পালিয়ে অন্যত্র অবস্থান করছে। গত ২দিন ধরে স্ত্রীর মর্যাদা দাবীতে আমরণ অনশন করছেন যশোরের ঝিকরগাছার কৃষ্ণনগরের খলিফা পাড়ার মেয়ে শান্তা ইসলাম।


শান্তা ইসলাম জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকের সূত্র ধরে পরিচয়ের কিছুদিনের মধ্যে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমিক সাগর বেশ কয়েকবার ঝিকরগাছায় শান্তাদের বাড়ীতে বেড়াতে যায়। তাদের বেশ কয়েকটি দুর পাল্লার বাস ও দোতলা বাড়ীসহ ইত্যাদি সম্পদ আছে বলে জানায় সাগর। সরল মনে শান্তা তা বিশ্বাস করে। পরে সাভারে সাগরদের বাসায় আসলে তার বাবা নজরুল ইসলামের পরামর্শে গত ১৬ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জে কাজী অফিসে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

বর্তমানে স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে মেনে নিতে চাচ্ছে না বলে জানান তিনি। তাকে বেশ কয়েক বার মারধর করে আহত করা হয়েছে। বাড়ী ছেড়ে চলে না গেলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়েছে। শান্তা ইসলাম আরও জানান, তাদের হুমকি ধমকিতে সে চলে না যাওয়ায় তার শ্বশুর নজরুল ইসলাম তাকে কুপ্রস্তাব দেয়।

কিন্তু নাছোড় বান্দা শান্তা স্ত্রীর অধিকার আদায়ে এক পাও নড়তে নারাজ। সে স্ত্রীর অধিকার চায় সাগরের নিকট। অনশন থেকে তিনি আরও জানান, তার বাবার বাড়ী থেকে চলে আসার সময় নগদ দুই লক্ষ টাকা ও প্রায় ৩ লক্ষ টাকার স্বর্নালংকারসহ মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে এসেছিল। সে টাকাও সাগর ও তার বাবা নিয়ে তাদের বাড়ী ছেড়ে চলে গেছে। শান্তা মনে করছে তার স্বামীকে শ্বশুর নজরুল ইসলাম দূরে কোথাও সরিয়ে রেখেছে অথবা গুম করেছে। ৩ দিন পূর্বে স্বামী তাকে এসএমএস দিয়ে জানিয়েছিল তার পিতা তাকে আটকে রেখেছে।

এ বিষয়ে সাগর ও তার পিতা নজরুল ইসলামের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ভুক্তভোগী অনশনরত শান্তা তার দাবির বিষয়টি সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানালে তিনি তাকে পুলিশ পাঠানোর আশ্বাস দেন এবং পুলিশ পাঠিয়ে তার খোঁজ খবর নেন। এ বিষয়ে সাভার মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে বলে জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএফএম সায়েদ।

 

সাভারে স্বাস্থ্য কৌশল নীতি নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
সাংবাদিক এইচ মিলন আর নেই
সাভারে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক