মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
সাভারে আটক প্রধানমন্ত্রীর ভুয়া এপিএস
daily-fulki

সাভারে আটক প্রধানমন্ত্রীর ভুয়া এপিএস


স্টাফ রিপোর্টার : নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস), সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে আসছিলেন আব্দুল্লাহ আল মামুন (৪৬)। এই ভুয়া পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে কোটি কোটি টাকার প্রতারণা ও তদবির বাণিজ্য চালিয়ে আসছিলেন তিনি। তবে শেষরক্ষা হয়নি তার। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এক বিশেষ অভিযানে অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছেন এই সুচতুর প্রতারক।


বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত ১১টার দিকে সাভার পৌরসভার জালেশ্বর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার উয়াইল গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে। বর্তমানে তিনি সাভারের জালেশ্বর এলাকায় বসবাস করছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামুনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই চেক জালিয়াতিসহ ৬ টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে দুটিতে তিনি সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি।


শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। অভিযানের সময় মামুনের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মুঠোফোন, ভুয়া সাংবাদিকের পরিচয়পত্র, ইংরেজিতে ‘চজঊঝঝ’ লেখা একটি জিপ গাড়ি, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীর প্রচারপত্র এবং জমি ক্রয়-বিক্রয়ের দলিলের ফটোকপি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, মামুন দীর্ঘদিন ধরে জমি ও ফ্ল্যাট ব্যবসার আড়ালে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। নিজেকে ভিআইপি পরিচয় দিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের কাঙ্ক্ষিত স্থানে বদলি ও পদোন্নতির প্রলোভনে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া গত বছরের জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী বিভিন্ন মামলার আসামিদের নাম থেকে অব্যাহতি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েও মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি গত ১৮ মে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এবং খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে (ডিজি) নিজের ব্যক্তিগত মুঠোফোন থেকে কল দিয়ে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব পরিচয় দেন মামুন। বিষয়টি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর এপিএস-১-এর নজরে আসলে তিনি ১৯ মে ঢাকার ধানমন্ডি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের তৎপরতায় এই চাঞ্চল্যকর প্রতারণার রহস্য উন্মোচিত হয়। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম (বিপিএম-সেবা)-এর দিক-নির্দেশনায় মাঠে নামে গোয়েন্দা পুলিশ। ডিবি-র ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মানবেন্দ্র বালো-এর তত্ত্বাবধানে একটি দল আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করে এবং সাভারে সফল অভিযান পরিচালনা করে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম জানান, আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে মোট ৬টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২টি মামলার রায়ে তিনি সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। দীর্ঘদিন ধরে ছদ্মবেশে পালিয়ে বেড়ানো এই প্রতারকের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
 

সর্বাধিক পঠিত