মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
ধামরাইয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে গলা কেটে হত্যা, আদালতে দোষ স্বীকার
daily-fulki

ধামরাইয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে গলা কেটে হত্যা, আদালতে দোষ স্বীকার



ধামরাই প্রতিনিধি : ধামরাইয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী নাহিদা আক্তারকে হত্যার ঘটনার দোষ স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আসামি শামীম। শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট আফরোজা সুলতানা সুইটির আদালতে তিনি এ জবানবন্দি দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলা তদন্ত কর্মকর্তা ধামরাই থানার এসআই এসএম কাউসার সুলতান। 


তিনি জানান, শামীম তার অপরাধ স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সেখানে তিনি ঘটনার আদোপান্ত বিবরণ দেন। এ ঘটনায় একমাত্র আসামি শামীম ওরফে স্বপন। ফলে আদালতে বিচারকার্য শীঘ্্রই শুরু হবে। শনিবার শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। এরআগে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন শামীম। এ ঘটনায় মামলার বাদি হয়েছেন নিহতের মামা খোকন হাওলাদার।  


শামীম গত চার মাস আগে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েন। এ জুয়ার টাকা জোগাড় করতে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী নাহিদা আক্তারকে নির্মমভাকে খুন করে শামীম ওরফে স্বপন (৩৩)। শামীম তার স্ত্রীকে নিয়ে ধামরাই পৌরসভার পশ্চিম লাকুরিয়াপাড়ার দুবাই প্রবাসী হিমেলের তিনতলা ভবনের নিচতলায় দুটি কক্ষে ভাড়া থেকে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। তার স্ত্রী স্থানীয় এক পোশাক কারখানার শ্রমিক। 


শামীমের পাশের কক্ষেই নানী দেলোয়ারা বেগমকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন এসএসসি পরীক্ষার্থী নাহিদা আক্তার। 


ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ নাজমুল হুদা খান শনিবার সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, শামীম সঙ্গ দোষে রাজমিস্ত্রির কাজ বাদ দিয়ে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েন। 


এই জুয়ার টাকা জোগাড় করতে শামীম তার পাশের কক্ষের অপর ভাড়াটিয়া এসএসসি পরীক্ষার্থীর স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নেওয়ার ফন্দি আটে। পরামর্শ অনুয়ায়ী কাজও তাই। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে পাশের কক্ষের নাহিদার নানী দেলোয়ারা নাহিদাকে কক্ষে রেখে দুধ আনতে বাসা থেকে বের হন। এ সুযোগে শামীম নাহিদাকে দরজা খোলা জন্য কড়া নাড়ে। শামীম পূর্ব পরিচিত হওয়ায় সরল বিশ্বাসে কক্ষের দরজা খুলে দেয় নাহিদা। এ সময় কক্ষের ভিতরে প্রবেশ করে নাহিদার কাছে কিছু টাকা চায়। এতে দিতে অস্বীকার করলে কিছু বুঝে উঠার আগেই নাহিদার ওড়না গলায় পেঁচিয়ে মেঝেতে ফেলে দেয়। পরে শামীমের পকেটে থাকা কাটার দিয়ে গলার আংশিক কেটে ফেলে। বুকে কাটার দিয়েই পার মারে। 


কিন্তু মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য পাশে থাকার মসলার পেষার পুতা দিয়ে মাথায় আঘাত করে থেতলিয়ে দেয়। এরপর নাহিদার কানে স্বর্ণের দুল, গলার চেইন ও হাতের আঙ্গুলের আংটি নিয়ে পালিয়ে যায় শামীম। কিন্তু সিসি টিভিতে ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে তার কপাল পুড়ে যায়। পুলিশ খুনি হিসেবে শামীমকে সনাক্ত করে। তাকে ওই রাতেই আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে নাহিদাকে খুনের কথা স্বীকার করে শামীম। উদ্ধার করা হয় স্বর্ণালঙ্কার ও হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত সিমেন্টের পুতা। কিন্তু কাটারটি এখনো উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। তবে শামীমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ও তার দেখানো মতে শরীফাবাগ এলাকায় বংশী নদীতে ফেলে দেওয়া কাটারটি ডুবুরি দিয়ে তল্লাশী করলেও উদ্ধার করা যায়নি। 


শামীম হোসেন (৩৩) আশুলিয়া থানার রহিমপুর গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে। তাকে শনিবার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির জন্য আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ।  
নাহিদা আক্তার ঝালকাঠি জেলার নলছিটি থানার ষাটপাইকা গ্রামের নুর হোসেনের মেয়ে। মা লিজা আক্তার সৌদিতে থাকেন। নাহিদা তার নানী দেলোয়ারা বেগমকে নিয়ে ধামরাই পৌরসভার লাকুরিয়াপাড়ায় ভাড়া থেকে ধামরাই সেন্ট্রাল স্কুলে লেখাপড়া করতেন। ওই স্কুল থেকেই এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। বৃহস্পতিবারও পরীক্ষা দিয়ে বাসায় ফিরছিলেন নাহিদা। 


খুনী শামীম নাহিদার নানীর আপন ভাই কনস্ট্রাকশন ঠিকাদার মনু মিয়ার সাইডে গত এক বছর ধরে রাজমিস্ত্রির কাজ করে আসছিলেন। কিন্তু সে চার মাস ধরে রাজমিস্ত্রির কাজ বাদ দিয়ে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েন।

 

সর্বাধিক পঠিত