তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ডিএফপি’র মিডিয়া তালিকাভুক্ত ঢাকা জেলার একমাত্র স্থানীয় পত্রিকা

মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে নানা গুঞ্জন

- Advertisement -

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান গতকাল সরকারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করে নতুন নির্বাচন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার এ আহ্বান স্ব প্রণোদিত নাকি পশ্চিমা দেশগুলোর প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী দেওয়া তা নিয়ে রাজনীতিতে নানামুখী আলাপ আলোচনা চলছে। ৭ নির্বাচনের পর এই প্রথম বিএনপির কোনো নেতা নতুন নির্বাচনের দাবি উচ্চারণ করলেন।

বিভিন্ন সূত্র বলছে, এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো বিএনপিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি পরিত্যাগ করে নির্বাচনের জন্য একটি গ্রহণযোগ্য ফর্মুলা খুঁজে বের করার তাগিদ দিয়েছেন যে ফর্মুলায় নির্বাচন হতে পারে। পশ্চিমা দেশগুলো আওয়ামী লীগকে টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করায় যে স্বীকৃতি দিচ্ছে বা অভিনন্দন দিচ্ছে তার পিছনে অন্যতম কারণ হল বিএনপির নির্বাচন বর্জন।

বিএনপি এই নির্বাচনে না থাকার কারণে আওয়ামী লীগ এবং স্বতন্ত্ররা নির্বাচন করেছে। নির্বাচনে ছোটখাটো ত্রুটি বিচ্যুতি থাকলেও সাধারণ ভাবে এই নির্বাচন হয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং এখানে বড় ধরনের কোনো কারচুপির ঘটনা ঘটেনি। আর এ কারণেই পশ্চিমা দেশগুলো এই নির্বাচনকে ত্রুটিপূর্ণ বললেও একে পুরোপুরি ভাবে বাতিল করতে রাজি না। এই নির্বাচনকে তারা নাকচ করতেও আগ্রহী নয়। এ জন্য পশ্চিমা দেশগুলো মনে করে বিএনপি দায়ী।

বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করত এবং তখন যদি এই নির্বাচনে পক্ষপাতিত্ব, কারচুপি ইত্যাদি ঘটনা ঘটত তাহলে পশ্চিমা দেশগুলো সরকারের ওপর চড়াও হতে পারত। সরকারকে নানা রকম বিধি নিষেধাজ্ঞা বা অন্য রকম চাপও দিতে পারত। কিন্তু যেহেতু বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি, সেহেতু আওয়ামী লীগ একটি সহজ জয় নিয়েছে এবং এমন একটি নির্বাচন যে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করা যেতে পারে কিন্তু তাকে নাকচ করে দেওয়া যায় না। আর এই কারণেই বিএনপিকে অনেক দেশের কূটনীতিকরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে, তারা যেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি ছেড়ে দিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি করে এবং যেখানে আলাপ আলোচনা এবং সমঝোতার মাধ্যমে একটি সমঝোতার জায়গায় আসা যায় এবং জনগণের অভিপ্রায় ঘটে। এবং এরকম একটি নির্বাচন দেশবাসী দেখতে পারে।

তবে মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো ভাবনা নেই। আওয়ামী লীগের নেতারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কেবল একটি নির্বাচন হয়েছে এবং এই নির্বাচনে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনও এই নির্বাচনকে স্বীকৃতি দিয়েছে৷ কাজেই এখন মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি উদ্ভট, অযৌক্তিক এবং হাস্যকরও বটে। তবে কূটনীতিকপাড়ায় রাজনৈতিক সংকট অব্যাহত আছে বলে বিভিন্ন মহল মন্তব্য করছে এবং এই সংকট মোকাবিলা করার জন্য একটি রাজনৈতিক সমঝোতা এবং সহঅবস্থানের ওপর পশ্চিমা দেশগুলো গুরুত্ব আরোপ করছে। আর এ কারণেই তারা মনে করছে যে, একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই। আর মাঠে এখন সুশীলরাও ৭ জানুয়ারি নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে শুরু করেছেন। সকলে মিলে একটি মব্যবর্তী নির্বাচনের আওয়াজ তোলা শুরু করেছে।

- Advertisement -

এ বিভাগের আরও সংবাদ