1. dailyfulki04@gmail.com : dfulki :
  2. fulki04@yahoo.com : Daily Fulki : Daily Fulki
বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:২৫ পূর্বাহ্ন

নিয়োগ বাণিজ্য: সাংসদ দুর্জয়ের বিরুদ্ধে ৩০০ কোটি হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

  • আপডেট : মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ৫৫ বার দেখা হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার : মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে বাসিন্দা সাব্বির আহমেদ (২৮)। তার জীবনে আশা ছিল সরকারি একটি চাকরি করবেন। এজন্য এসআই নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে চাইলেন। কিন্তু তার পাড়া-প্রতিবেশী এবং আত্মীয়-স্বজন তাকে পরামর্শ দিল যে, ঘুষ ছাড়া চাকরি হয় না। আর ঘুষ দিতে হবে প্রভাবশালীকে। এ কারণেই সাব্বির আহমেদ যোগাযোগ করলেন স্থানীয় এমপি নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের সঙ্গে। কিন্তু এমপির সঙ্গে দেখা করা কি চাট্টিখানি কথা! ধরলেন একজন দালাল। যিনি ওই এমপির ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। তার মাধ্যমে এমপি সঙ্গে দেখা করলেন। এমপিকে জানালেন তার স্বপ্নের কথা। এমপি তাকে বললেন, এসআই নিয়োগের জন্য সাত লাখ টাকা দিতে হবে এবং পুরো টাকা অগ্রীম। এমপির কথায় রাজি সাব্বির আহমেদ তার বাবাকে বললেন, বাবা অনেক কষ্টে তার জমি বিক্রি করে এই এসআই পদে নিয়োগের জন্য সাত লাখ টাকা জোগাড় করলেন। আবার ওই দালাল ধরেই এমপির কাছে যেতে চাইলেন। দালাল বললেন যে, এমপির কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাকে আরও এক লাখ টাকা দিতে হবে। অনেক কষ্ট শেষে সেই এক লাখ টাকা জোগাড় করলেন সাব্বির। অবশেষে বাবাকে নিয়ে এমপির সঙ্গে দেখা করলেন। এমপি তার টাকা নিলেন এবং জানিয়ে দিলেন যে তার চাকরি হয়ে যাবে।

পাঁচ বছর হয়ে গেছে। এসআইয়ের যারা ওই সময় আবেদন করেছিলেন, তাদের চাকরিও হয়ে গেছে। চাকরি হয়নি সাব্বির আহমেদের। চাকরি যেমন হয়নি তেমনি ওই নিয়োগ বাণিজ্যের জন্য দেয়া টাকাও ফেরত পাননি। এখন এমপির সঙ্গে তিনি দেখা করতেও পারেন না। এমপি সঙ্গে দেখা করতে চাইলে তার লোকজন দূর দূর করে তাড়িয়ে দেয়। এই পুরো অভিযোগটি নিয়ে তিনি স্থানীয় থানায় গিয়েছিলেন কিন্তু থানা মামলা গ্রহণ করেনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে এভাবেই মানিকগঞ্জ- ১ আসনের এমপির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তিনি। আমাদের সঙ্গে আলাপচারিতায় সাব্বির হু হু করে কেঁদে ফেললেন। জমি বিক্রি করার টাকা এখন পর্যন্ত এমপি সাহেব ফেরত দিচ্ছেন না। সাব্বির একা না। এরকম অসংখ্য লিখিত অভিযোগ জমা হয়েছে মানিকগঞ্জের শিবালয়, ঘিওর এবং দৌলতপুর এমপি জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের বিরুদ্ধে। মানিকগঞ্জ ১ আসন থেকে তিনি গত দু’বার এমপি হয়েছেন।

যেকোনো নিয়োগের খবর এলেই দুর্জয়ের লোকজন তার নির্বাচনী এলাকায় ছড়িয়ে পড়েন বলে লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা বিভিন্ন লোকজনকে চাকরির আশ্বাস দেখান, প্রলোভন দেখান এবং এই প্রলোভনের ফাঁদে পা দিয়ে যারা দুর্জয়ের দালালদের খপ্পরে পড়ে তাদের জীবন সর্বস্বান্ত হয়ে গেছে। মানিকগঞ্জের এই তিনটি এলাকায় পুলিশে নিয়োগ, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নিয়োগ, পরিবার পরিকল্পনায় নিয়োগ, স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগ ইত্যাদি নানা নিয়োগে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। যদিও এমপি এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, এগুলো তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার। একটি মহল তার ইমেজ নষ্ট করার জন্য পরিকল্পিত চক্রান্তে লিপ্ত বলেও দাবী করা হয়েছে।

কোহিনূর বেগম একজন অভিযোগকারী। তিনি লিখিত অভিযোগে দাবী করেছেন, পরিবার পরিকল্পনার কর্মী হওয়ার জন্য আবেদন করেন। তখন তাকে বলে দেওয়া হল এমপি সঙ্গে যোগাযোগ করতে। কারণ জেলা কোটা নির্ধারণ করবেন এমপি। যথারীতি তাকে এই পরামর্শ দিলেন দুর্জয়ের একজন দালাল। সেই দালালের মাধ্যমে তিনি দুর্জয়ের কাছে গেলেন। এমপি তাকে ৫ লাখ টাকা জোগাড় করতে বললেন। তিনি অনেক কষ্ট করে সুদে ধার দেনা করে টাকা নিয়ে এমপিকে টাকা দিলেন। কিন্তু পরিবার পরিকল্পনা কর্মী নিয়োগ পেলেন না। কোহিনূর এই অভিযোগে জানান যে, এখন দুর্জয়ের লোকজন তার ফোন ধরেন না, তার সঙ্গে যোগাযোগও করা যায় না। দুবার তিনি দুর্জয়ের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন কিন্তু ব্যর্থ হয়ে ফিরে এসেছেন। কোহিনূর বেগম এটাও দাবী করেন যে, যখন আমি এটা নিয়ে এলাকার লোকজনকে বলতে গেছি তখন এমপির লোকজন তাকে এসে শাসিয়ে গেছেন, তাকে ভয় দেখিয়েছে এবং এ নিয়ে যদি কেউ কিছু বলে তাহলে পরে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘিওরের একজন আব্দুল কুদ্দুসও স্থানীয় এমপির বিরুদ্ধে প্রায় এক রকম লিখিত অভিযোগ করেছেন। দুনীর্তি দমন কমিশনে জমা দেয়া চিঠিতে তিনি দাবী করেছেন যে, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরির জন্য নানারকম চেষ্টা করতেন। তিনি একটি মেডিকেল ইন্সটিটিউট থেকে প্যাথলজির ওপর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। হেলথ টেকনিশিয়ান পদে কোভিডের সময় সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হল। তিনি চাকরির জন্য আবেদন করলেন। তাকেও জানানো হলো যে, যদি চাকরি পেতে চায় তাহলে এমপির সুপারিশ লাগবে। এমপির সুপারিশ যখন তিনি নিতে গেলেন তখন এমপির লোকজন তার কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করলো। অনেক কষ্টে সৃষ্টে ৫ লাখ টাকা যোগাড় করলেন। এমপি টাকা নিয়েছেন কিন্তু তার চাকরি হয়নি।

শিবালয়, ঘিওর এবং দৌলতপুর জুড়ে বহু মানুষ প্রতারিত হয়েছেন বলে অভিযোগকারীরা দাবী করেছেন। চাকরিপ্রত্যাশী নি:স্ব হয়েছেন সেখানকার বহু মানুষ। চাকরি না হলেও এই টাকাগুলো ফেরত পাচ্ছেন না বলে দাবী করেছেন।

এমনি একজন আব্বাস উদ্দীন। তিনি সাত লাখ টাকা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি চাকরির জন্য। কিন্তু এই টাকা যখন তিনি ফেরত চাইলেন, টাকা ফেরতের জন্য যখন তিনি বিভিন্ন মহলে তদবির করলেন, তখন তার বিরুদ্ধে উপর্যুপরি চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দেয়া এক অভিযোগ দাবী করেছেন।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ১১৭ জন প্রতারিত ব্যক্তি। সেই অভিযোগে তারা কিভাবে নি:স্ব হয়েছেন, কিভাবে তারা টাকা দিয়ে টাকা পাননি সেব্যাপারে সবিস্তারে উল্লেখ করেছেন। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এই অভিযোগটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তদন্তের জন্য দিয়েছে । সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এটি তদন্ত করছে বলে সর্বশেষ প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

সত্যের সন্ধানে নির্ভীক কিছু তরুণ সংবাদকর্মী নিয়ে আমাদের পথচলা

তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ডিএফপি’র মিডিয়া তালিকাভুক্ত ঢাকা জেলার একমাত্র স্থানীয় পত্রিকা