1. dailyfulki04@gmail.com : dfulki :
  2. fulki04@yahoo.com : Daily Fulki : Daily Fulki
বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:৪০ পূর্বাহ্ন

মানিকগঞ্জে বাইচের জন্য প্রস্তুত সাত্তার মেকারের বাঁশের নৌকা

  • আপডেট : শুক্রবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ১১৬ বার দেখা হয়েছে

সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি : “কোন মিস্তরি নাও বানাইলো, কেমন দেখা যায় ঝিলমিল ঝিলমিল করেরে ময়ুর পঙ্খির নায় ” শাহ আব্দুল করিমের কালজ্য়ী এ গানের মতই একটি প্রশ্ন মানিকগঞ্জের সিংগাইরে অনেকের হৃদয়ে সাড়া জাগিয়েছে।

সিংগাইর উপজেলার কালিয়াকৈর এস এ খান উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে ৩ মাস ২৩দিন সময় ব্যয় করে তৈরি করা হয়েছে ৬৫ হাত দৈর্ঘ্য একটি বাঁশের নৌকা। বাবুই পাখির মত সুদক্ষ্ কারিগরিভাবে নির্মাণ করা হয়েছে এই নান্দনিক নৌকাটি । ওই এলাকায় আগত অনেক দর্শানার্থী এ নৌকাটি দেখতে ভীড় করছেন। সবার একই প্রশ্ন নৌকাটি কোন মিস্তরি তৈরী করেছেন ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সবাইর একই জবাব এই নান্দনিক নৌকার কারিগর সাত্তার মেকার । গ্রন্থগত বিদ্যায় পারদর্শী না হলেও শুধু মাত্র স্বাক্ষর জানা এই ব্যক্তিকে সৃষ্টিকর্তা দিয়েছেন অসাধারণ মেধা। এ নৌকাটির মতই নতুন কিছু সৃষ্টি করাই তার নেশা । সাত্তার মেকার ইতিপূর্বে তিনি বাহারি রকমের ঘুড়ি তৈরী করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ছিলেন। মেধা ও বুদ্ধিতে সাত্তার সৃষ্টি করতে পারেন নান্দনিক জিনিসপত্র । চোখ দিয়ে একবার দেখলেই যেন সেটা তার মাথায় ও বুদ্ধির নখদর্পণে চলে আসে তার।
দুই সন্তানের জনক (৩৫) বছর বয়সের সাত্তার মেকার কালিয়াকৈর গ্রামের নজুমদ্দিনের পুত্র। ওস্তাত ছাড়াই চোখের দেখায় সাইকেল মেকার হিসাবে জীবিকা নির্বাহ করছেন । অভাব অনটন থাকলেও স্ত্রী সন্তান নিয়ে সুখেই কাটছে তার সংসার ।

সাত্তার মেকার জানান , আল্লাহর অশেষ রহমতে আপনাদের দোয়ায় আমি কোনকিছু একবার দেখলেই সেটা তৈরী করতে পারি । আলোচিত এই নৌকাটি বাঁশ, কটসুতা ও পলিথিন দিয়ে তৈরী করা হয়েছে । চলতি মৌসুমে বিভিন্ন নদীতে আমার রকেট নামের এই নৌকাটি বাইচ খেলায় অংশ নিয়ে বিজয় হবে নিশ্চিত । পার্শ্ববর্তী বলধারা গ্রামের বাদশা মাঝির নেতৃত্বে ৩০—৩৫ জন মাল্লা নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করা হবে। নৌকাটি তৈরীতে তার সাথে ছিলেন ইটভাটার শ্রমিক লুৎফর রহমান। নৌকাটি তৈরীতে খরচ হয়েছে প্রায় ১লাখ টাকা। এর মধ্যে এনজিও থেকে ২৮ হাজার টাকা কিস্তি নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতীক নৌকা। দেশের বিভিন্ন নদীতে অনুষ্ঠিত বাইচগুলোতে তার এ নৌকাকে যাতে সুযোগ দেয়া হয়। আর সে প্রতিযোগিতা নিরপক্ষ হয়ে ঐতিহ্যবাহী বিনোদনটি বেঁচে থাকে এটাই তার প্রত্যাশা ।

সাত্তার মেকারের সহকারি লুৎফর রহমান বলেন, মূল উদ্যোক্তা আর্থিকভাবে দুর্বল হলেও মনের দিক দিয়ে অনেক বড় । এ পর্যন্ত কেউ তাকে সহায়তা করেনি ।

গত ২৯ আগস্ট শোক দিবসের আলোচনা সভায় মমতাজ বেগমের কাছে সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা ওবায়দুর রহমান সহায়তার কথা বললেও কোন আশ্বাস মিলেনি। আমি এ নৌকাটিকে গিনেসবুকে অন্তর্ভূক্ত করার দাবি জানাই।
এ ব্যাপারে বলধারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আব্দুল মাজেদ খান বলেন , কেয়ামতে পাড় হতে হবে নৌকায় চড়ে ,বঙ্গবন্ধুর প্রতীক নৌকা । সাত্তার মেকার তৈরী করেছেন নৌকা আমি খুশি ।তাকে এ জন্য আর্থিকভাবে সহায়তা করবো।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

সত্যের সন্ধানে নির্ভীক কিছু তরুণ সংবাদকর্মী নিয়ে আমাদের পথচলা

তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ডিএফপি’র মিডিয়া তালিকাভুক্ত ঢাকা জেলার একমাত্র স্থানীয় পত্রিকা