1. dailyfulki04@gmail.com : dfulki :
  2. fulki04@yahoo.com : Daily Fulki : Daily Fulki
মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:২১ অপরাহ্ন

গোয়েন্দা প্রতিবেদন : চট্টগ্রাম বন্দরে নাশকতার শঙ্কা

  • আপডেট : বুধবার, ৩১ আগস্ট, ২০২২
  • ৬৪ বার দেখা হয়েছে

আমদানি ব্যয় বাড়ার সংকটকে কাজে লাগিয়ে নাশকতাকারী একটি মহল পরিস্থিতি উসকে দিতে পারে। এ কাজে বন্দরের শ্রমিক, পরিবহণ শ্রমিক ও বন্দরের অদূরে ইপিজেডে কর্মরত শ্রমিকদের বেছে নেওয়া হতে পারে। এটা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পরে। চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে এ ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা। আশঙ্কার কথা জানিয়ে ইতোমধ্যে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে সংস্থাটি। প্রতিবেদনে বন্দরের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি ১৩টি চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে ১৯ দফা সুপারিশ বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়।

এছাড়া বন্দর এলাকা এবং জ্বালানি তেলের ডিপোসহ স্পর্শকাতর এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, বন্দরে মদ, সিগারেটের চালান ধরা পড়ছে। এর মানে, জালিয়াতি করে বন্দর দিয়ে অনেক চালান বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য বিপজ্জনক পণ্যের চালানও বেরিয়ে যেতে পারে। বন্দরের ২০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো অফডক ইনল্যান্ড ডিপো থাকার কথা নয়। কিন্তু চট্টগ্রামে অবস্থিত ১৯টি কনটেইনার ডিপোর মধ্যে প্রায় সবগুলোই বন্দরের একেবারে কাছাকাছি এলাকায়। বিপদজ্জনক দ্রব্য ও কাভার্ডভ্যানের যত্রতত্র বিচরণের কারণে বন্দর এলাকায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের ধারণ ক্ষমতা ৫৩২ হাজার টিইউইএস এবং দৈনিক মালামাল লোড-আনলোডের সক্ষমতা ৩৫০০ টিইউইএস। পাঁচ হাজার ৫০০ জনবলের বিপরীতে বন্দরের কনটেইনার জেটি আছে ১৩টি। বন্দরে একসঙ্গে জাহাজ ভেড়ানো যায় ১১টি। বন্দরের নিরাপত্তার জন্য নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষী রয়েছেন ৬৫০ জন। এছাড়া এক হাজার ৫০ জন আনসার, ২০০

সেনা সদস্য, ২০ পুলিশ সদস্য (সার্বক্ষণিক সহায়তা দেন ৫৯৩ জন) ও নৌবাহিনীর একজন সদস্য রয়েছে। এছাড়া বন্দরের মালামালবাহী পরিবহণগুলোর ট্রাফিক ব্যবস্থায় প্রতিদিন ২০০ জন ট্রাফিক পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। বন্দরের অভ্যন্তরে কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার জন্য অফিস রুম থাকলেও বিশেষ একটি সংস্থার জন্য রুম বরাদ্দ নেই। এ বিষয়ে বন্দর চেয়ারম্যানের কাজে বারবার আবেদন করেও ফল আসেনি। তাই বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ওই গোয়েন্দা সংস্থা যথাযথ ভ‚মিকা রাখতে পারছে না বলে প্রতিবেদনে উলে­খ করা হয়।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বন্দরের নানা চ্যালেঞ্জের কথা উলে­খ করে বলা হয়, প্রতিবছর দুই ঈদের আগে জাহাজজট হয়। জাহাজজটের কারণে আমদানিকারকদের পণ্য পেতে সময় লাগে। বর্তমান পণ্য আমদানি কমতির দিকে। সরকার বিলাসীপণ্য ও তুলনামূলক কম প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি নিয়ন্ত্রণ করায় আমদানি কিছুটা কমছে। তবে শিল্পের ও খাদ্যপণ্যের আমদানি বাড়ছে। প্রতিবেদনে পতেঙ্গা টার্মিনাল নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনা, সমন্বিত বন্দর ব্যবস্থাপনা, মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি ও রপ্তানির বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। বলা হয়, মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানিতে ধরা খাওয়ার পর ব্যবসায়ীরা সব সময় অস্বীকার করেন। এ কারণে বিআইএন, আইপি ও এলসি থাকলেও প্রকৃত অপরধীদের আইনের আওতায় আনতে বেগ পেতে হয়।

আরও বলা হয়েছে, শিপিং কোম্পানির অনীহার কারণে রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরকার বৈদেশিক মুদ্রা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যার সমাধান বাণিজ্য ও নৌ মন্ত্রণালয়ের হাতে। তারা নানা কৌশলে শিপিং কোম্পানিকে এ ধরনের কনটেইনার পরিবহণে বাধ্য করতে পারে। এছাড়া আমদানি ব্যয় বাড়ার কারণে বন্দরে নাশকতার আশঙ্কা আছে। নানা ধরনের পণ্যের সংকট দেখা দিতে পারে। আর সরকারবিরোধী চক্র এই সুযোগকে কাজে লাগাতে পারে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনের সুপারিশে খাতভিত্তিক পণ্য ছাড়ে অগ্রাধিকার দেওয়া, কানেকটিং পোর্ট নেটওয়ার্ক তৈরি করা, মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি ও রপ্তানি রোধ এবং বিপজ্জনক পণ্যের পৃথক জোন তৈরির কথা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, রপ্তানি প্রক্রিয়া গতিশীল করতে হবে। সরেজমিন পরীক্ষার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অনলাইন ব্যবস্থাপনা চালু করতে হবে। এতে মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানির হার কমে যাবে। খাদ্যশস্য আমদানিতে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং কনটেইনার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি নীতিমালা অনুযায়ী ইনল্যান্ড ডিপো পরিচালনার সুপারিশ করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্দর শ্রমিকরা নোঙর অপারেটর ও সাইফ পাওয়ারটেক অপারেটর কোম্পানি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। সাইফ পাওয়ারটেক ২০০৮ সাল থেকে একচেটিয়াভাবে বন্দর অপারেটর হিসাবে কাজ করছে। তারাই একমাত্র বন্দর অপারেটর, যারা বর্তমানে প্রতিযোগী কাউকে কাজের অনুমতি দিচ্ছে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি, বন্দরের অনিয়ম বন্ধ, চোরাচালান তালিকাভুক্ত সিএনএফ এজেন্ট সিন্ডিকেট দমন, বন্দরের অফিসিয়াল কাজে ব্যবহৃত সার্ভারের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কাস্টম হাউজ সপ্তাহের ৭ দিনই ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার সুপারিশ করা হয়।

বন্দরে বহিরাগতরা প্রবেশ করে চুরিসহ নানা ধরনের অপকর্ম চালাচ্ছে উলে­খ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালে চোর সন্দেহে বন্দরের অভ্যন্তরে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাও ঘটেছে। বন্দরে কে যাচ্ছে, কে আসছে এবং কতক্ষণ অবস্থান করছে সে তথ্য সংরক্ষণের সুব্যবস্থাপনা বন্দর কর্তৃপক্ষের নেই। তথ্যপ্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে প্রো-অ্যাকটিভ ব্যবস্থা গ্রহণের সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি বন্দর কর্তৃপক্ষ। মোশন অ্যান্ড ফেস ডিটেকটিভ ক্যামেরা ও জিপিএস সংবলিত আইডি কার্ডের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। কনটেইনার নিরাপত্তা নিশ্চিতে সমস্যা হলে অটো অ্যালার্ম ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করা হয় প্রতিবেদনে।

এতে বলা হয়, পণ্য আমদানি ও রপ্তানির ৯৩ শতাংশ একং কনটেইনার পণ্যের ক্ষেত্রে ৯৮ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়। এটিকে বাংলাদেশের লাইফ লাইন বলা হয়। চট্টগ্রাম বন্দর ও এর আশপাশের এলাকাকে ঘিরে সরকার যুগান্তকারী কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এসবের মধ্যে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু টানেল, ৩০ হাজার একরজুড়ে মীরসরাই ইকোনমিক জোন (বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর) এবং প্রস্তাবিত বে-টার্মিনালসহ বেশকিছু উদ্যোগ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অভ‚তপূর্ব অগ্রগতি সাধন করবে। এই অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতেই একটি চক্র সক্রিয় আছে।

 

 

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

সত্যের সন্ধানে নির্ভীক কিছু তরুণ সংবাদকর্মী নিয়ে আমাদের পথচলা

তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ডিএফপি’র মিডিয়া তালিকাভুক্ত ঢাকা জেলার একমাত্র স্থানীয় পত্রিকা