1. dailyfulki04@gmail.com : dfulki :
  2. fulki04@yahoo.com : Daily Fulki : Daily Fulki
বৃহস্পতিবার, ১৮ অগাস্ট ২০২২, ১০:০৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবর
ইতালির বাংলাদেশ দূতাবাসে ভাংচুর, ১৫ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট না পেলে দলবদ্ধ আত্মহত্যার হুমকি হাজারও প্রবাসীর রাজধানীতে আওয়ামী লীগের ‘শোডাউন’, যানজটে দুর্ভোগ জাতিসংঘ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বিএনপির বৈঠক, যেসব তথ্য দিল বায়ুদূষণে ২০১৯ সালে ঢাকায় ২২ হাজার মানুষের মৃত্যু চুরি হওয়া রিকশা খুঁজতে গিয়ে চোর চক্র গড়ে তোলেন কামাল ‘হাওয়া’ সিনেমার পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা সাভারে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে পাশবিক নির্যাতন অভিযোগ আশুলিয়ায় কমার্স ব্যাংকে ডাকাতি ও খুন: ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্টে বহাল সিংগাইরে মরণ ফাঁদে প্রাণ গেল মাদরাসা ছাত্রীর! যাত্রাবাড়ীতে ইউনিট আওয়ামী লীগ সভাপতি খুন

সিংগাইর সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ

  • আপডেট : বুধবার, ৩ আগস্ট, ২০২২
  • ১৩৬ বার দেখা হয়েছে

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জ সিংগাইর সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার রেজাউল হকের বিরুদ্ধে এক নারীকে বিয়ে প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ ওঠেছে। ভুক্তভোগী ওই নারী মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেছেন। ঘটনার পর থেকে পালিয়ে রয়েছেন অভিযুক্ত সহকারী পুলিশ সুপার রেজাউল হক।
আজ মঙ্গলবার (২ আগস্ট) বিকেলে সিংগাইর থানা চত্ত্বরে একটি পোশাক কারখানায় উচ্চ পদে কর্মরত ওই তরুণী গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে পুলিশ কর্মকর্তা রেজাউল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, গত বছরের নভেম্বের মাসে তার ছোট ভাই নিখোঁজ হওয়ায় সিংগাইর থানায় একটি মিসিং ডাইরী করতে যান। সেখানে ওসির রুমে ওই পুলিশ কর্মকর্তার সাথে তার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ে কথা বলে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয় একাধিক বার। গত মার্চ মাসে তাদের সম্পর্কের বিষয়টি রেজাউলের স্ত্রী জেনে যায়। রেজাউল তাকে বলেছিলো তার সন্তান একটু বড় হলে স্ত্রীসহ সন্তানকে কানাডা পাঠিয়ে দিবেন। তাদের মাঝে-মধ্যে ঝগড়া হলেও আবার মধুর সম্পর্কের সৃষ্টি হয়। গত রোববার রাতে রেজাউলকে কয়েকবার ফোন করার পর সে বারবার কেটে দেয়। এরপর রাত ১টারদিকে আবার ফোন দেয়া হলে ওই ফোন রেজাউল হকের স্ত্রী ধরে।

এসময় তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে রেজাউলের স্ত্রী। পরেরদিন সোমবার সকাল ১০টারদিকে রেজাউলের বাসায় গেলে তার স্ত্রী মহিলা পুলিশ দিয়ে তাকে মারধর করে ও মোবাইল ফোন কেড়ে রাখে। পরে পুলিশ এসে তাকে থানায় নিয়ে যায়। বিকেলেরদিকে রেজাউল হক থানায় এসে ওসির রুমে ওসি ও তার মায়ের সামনে তাকে আগামী ৮ই আগস্ট বিয়ে করবেন ও রাত সাড়ে ৮টারদিকে তাদের বাড়িতে আসবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। তার ওই প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পর তিনি থানা থেকে বাড়ি চলে যান।
কিন্তু রাতে রেজাউল হক তাদের বাড়িতে না এসে চারিগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রিপন দেওয়ান ও সিংগাইর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সায়েদুল ইসলামকে পাঠান। তারা এসে তাকে টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেন। তাদের প্রস্তাবে রাজি না হওয়াতে রেজাউল হকের চাকরি রক্ষার স্বার্থে তার কাছ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ নেন রেজাউল হকের সঙ্গে তার কোন সম্পর্ক নেই।

চেয়ারম্যান রিপন দেওয়ান ও আওয়ামী লীগ নেতা সায়েদুল ইসলাম সহকারী পুলিশ সুপার রেজাউল হকের পক্ষে তাকেও একটি লিখিত দেন যে আগামী ৮ই আগস্ট রেজাউল বিয়ে করবেন, যদি বিয়ে না করেন তবে সে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

তিনি আরো জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকে সহকারী পুলিশ সুপার রেজাউল হকের ব্যক্তিগত ও সরকারি মোবাইল বন্ধ থাকার কারণে তিনি মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপারের সাথে কথা বলতে আসেন। কিন্তু পুলিশ সুপার মিটিংয়ে থাকার কারণে সেই সাক্ষাৎ হয়নি। এরপর তিনি সিংগাইর থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে তার মোবাইল ফোন ফেরত চান। ওই সময় সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ থানায় না থাকায় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ তাকে কোন সাহায্য করবে না। তিনি একদিনের জন্য হলেও সহকারী পুলিশ সুপার রেজাউল হককে বিয়ে করবেন। বিয়ে যদি না করেন তবে থানায় এসে গায়ে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যা করবেন। সেই সঙ্গে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে জানান।

সিংগাইর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সায়েদুল ইসলাম জানান, সহকারী পুলিশ সুপার রেজাউল হকের সঙ্গে কথা বলেই তিনি নাইমা ইসলাম রানু নামের ওই নারীর সঙ্গে কথা বলতে যান। রানুর সঙ্গে মীমাংসা করার জন্য সময়ে চেয়ে বিয়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিলো। পরে রানু অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়ে লিখিত দিয়েছে। কিন্তু সে সময় না দিয়েই সাংবাদিকসহ পুলিশ সুপাররের কাছে অভিযোগ করেছেন। নাইমা ইসলাম রানু নতুন করে পুলিশ কর্মকর্তাকে আবার ব্লেক মেইলের চেষ্টা করছেন। তার বিরুদ্ধে পেশাগত প্রতারণাসহ আরো একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এখন আইনগতভাবে যা হয় তাই হবে।

এদিকে মঙ্গলবার বিকেলে ওই ভুক্তভোগী নারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খানের অফিসে দেখা করেন। সেখানে তিনি পুলিশ সুপারের কাছে সমস্ত ঘটনা খুলে বলেন।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান সাংবাদিকদের জানান, ওই নারীর সঙ্গে তার কথা হয়েছে। ওই নারী মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছেন। তাকে লিখিতভাবে অভিযোগ দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এছাড়া অভিযুক্ত সহকারী পুলিশ সুপার রেজাউল হকের অফিসে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার সরকারী মোবাইল ফোনটি বন্ধ রয়েছে। তবে সোমবার তিনি বলেছিলেন ওই নারীর সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই। একটি ভুলবোঝা বুঝির কারণে ওই নারী তার বাসায় এসেছিলো। এসময় তার স্ত্রী’র সাথে একটু ঝামেলা হয়।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

সত্যের সন্ধানে নির্ভীক কিছু তরুণ সংবাদকর্মী নিয়ে আমাদের পথচলা

তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ডিএফপি’র মিডিয়া তালিকাভুক্ত ঢাকা জেলার একমাত্র স্থানীয় পত্রিকা