1. dailyfulki04@gmail.com : dfulki :
  2. fulki04@yahoo.com : Daily Fulki : Daily Fulki
সোমবার, ০৮ অগাস্ট ২০২২, ০১:১৫ অপরাহ্ন

ধামরাইয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির জমি লিখে নেওয়ার চেষ্টার প্রতিবাদ করায় দুই ভাগ্নেকে পিটিয়ে জখম

  • আপডেট : সোমবার, ১ আগস্ট, ২০২২
  • ৩২ বার দেখা হয়েছে

 

ধামরাই প্রতিনিধি : মা-বোন ও ভাগিনাদের না জানিয়ে গোপনে ধামরাইয়ের কুল্লা গ্রামের শাজাহান মিয়া নামে ভারসাম্যহীন এক ব্যক্তির ৩ শতাংশ জমি প্রতিবেশী এক ব্যক্তি লিখে নেওয়ার সময় প্রতিবাদ করায় দুই ভাই হাবিবুর রহমান ও শহিদুল ইসলামকে পিটিয়ে জখম করেছে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য ও দলিল লেখকসহ কয়েকজনে। গতকাল সোমবার বিকেলে ধামরাইয়ের কালামপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের পাশে দলিল লেখকের চেম্বারে এ ঘটনা ঘটে। পরে ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় সোমবার সন্ধ্যায় ইউপি সদস্যসহ চার-পাঁচ জনকে আসামি করে ভারসাম্যহীন শাজাহান মিয়ার মা কমলা বেগম বাদী হয়ে ধামরাই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, ধামরাইয়ের কুল্লা গ্রামের তুফান আলীর ছেলে আব্দুস সামাদ একই গ্রামের মৃত বানেজ আলীর ছেলে মানসিক ভারসাম্যহীন শাজাহান মিয়ার তিন শতাংশ জমি গোপনে লিখে নেওয়ার জন্য গত কয়েক মাস ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। গতকাল সোমবার মা, বোন ও ভাগ্নেরা বাড়িতে না থাকার সুযোগে আব্দুস সামাদ স্থানীয় ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলামসহ কয়েকজনের সহযোগিতায় মানসিক ভারসাম্যহীন শাজাহান মিয়াকে কৌশলে কালামপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের পাশে দেলোয়ার হোসেন নামে এক দলিল লেখকের চেম্বারে নিয়ে যান।

সেখানে দলিল লেখা শেষে দলিলে শাজাহান মিয়ার স্বাক্ষর নেওয়ার সময় খবর পেয়ে তার ভাগ্নে হাবিবুর রহমান ও শহিদুল ইসলাম হাজির হন। এসময় দলিলে মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির স্বাক্ষর নিতে প্রতিবাদ করেন এবং মোবাইল ফোনে তা ধারণ করার চেষ্টা করেন হাবিবুর ও তার ভাই শহিদুল।

এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম, দলিল লেখক দেলোয়ার হোসেন, আব্দুস সামাদসহ কয়েকজন মিলে শাজাহান মিয়ার ভাগ্নে হাবিবুর রহমান ও শহিদুল ইসলামকে পকেট মার ও ছিনতাইকারী আখ্যা দিয়ে সড়কের ওপর ফেলে বেদম পিটিয়ে জখম করে। পরে ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে ধামরাই থানার এসআই তালুকদার সজীব হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। গুরুতর আহত হাবিবুর রহমানকে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্রো ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ চার-পাঁচ জনকে আসামি করে শাজাহান মিয়ার মা কমলা বেগম বাদী হয়ে ধামরাই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম হামলার কথা অস্বীকার করলেও দলিল লেখক দেলোয়ার হোসেন বলেন, শাহজাহানের স্বাক্ষর নেওয়ার দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করায় তাকে মার দিয়েছি। এদিকে প্রত্যক্ষদর্শী লোকমান হোসেন বলেন, ইউপি সদস্য শহিদুলও হাবিবুরকে মেরেছে।

আরেক অভিযুক্ত আব্দুস সামাদ মারধর করার কথা অস্বীকার করে বলেন, শাজাহান মিয়া ভারসাম্যহীন নয়। প্রতি শতাংশ ১ লাখ ৫ হাজার টাকা দাম নির্ধারণ করে তার ৩ শতাংশ জমি আমি কিনে নিতে চেয়েছি।

তবে শাজাহান মিয়ার মা কমলা বেগম, বোন সালেহা বেগম, ভাগ্নে হাবিবুর রহমান বলেন, শাজাহান মিয়া মানসিক ভারসাম্যহীন এলাকার সবাই জানে। তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে নিয়েও চিকিৎসা করানো হয়েছে।

ধামরাই থানার এসআই তালুকদার সজীব হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

সত্যের সন্ধানে নির্ভীক কিছু তরুণ সংবাদকর্মী নিয়ে আমাদের পথচলা

তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ডিএফপি’র মিডিয়া তালিকাভুক্ত ঢাকা জেলার একমাত্র স্থানীয় পত্রিকা