1. dailyfulki04@gmail.com : dfulki :
  2. fulki04@yahoo.com : Daily Fulki : Daily Fulki
সোমবার, ০৮ অগাস্ট ২০২২, ০১:৪৯ অপরাহ্ন

সাভার একটা অভিশপ্ত জনপদে পরিণত হতে যাচ্ছে : ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী

  • আপডেট : সোমবার, ২৫ জুলাই, ২০২২
  • ১০৮ বার দেখা হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী বলেছেন, বিসিক চামড়া শিল্প নগরীরর সিইপিটিতে কোন ল্যাব নাই এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই এটি পরিচালিত হচ্ছে। এখানে ১৪০টি ট্যানারী আছে, কিন্তু একটি ল্যাবরেটরি স্থাপন করতে পারছে না। সোমবার দুপুরে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের পক্ষ থেকে ধলেশ্বরী নদী ও বংশী নদী দূষণের ফলের পরিবেশ বিপর্যয়ের বিষয়ে সরেজমিনে সাভার চামড়া শিল্প নগরীর সিইটিপি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সয়ম তিনি আরও বলেন, এখানে এক হাজার পনের কোটি টাকা দিয়ে একটি স্টেক স্টাবলিশ হয়, সেখানে যখন আমরা আসতেছি এখানে ল্যাবরেটরির যে ইনচার্য, যে টেষ্ট করবে সে কোথায়? সে যদি অসুস্থ্য হয় তাহলে সেকেন্টম্যান কে, যন্ত্রপাতি কোথায়? আপনারা তো নিজেরাই দেখলেন, এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। কেন এটা হবে, টাকার অভাব? এই চামড়া শিল্পের কারখানায় টাকার অভাব?

আমরা আরও জানতে পেরেছি, এরা নাকি এখানে কুটির শিল্প এবং চামড়া সংশ্লিষ্ট আরও দুটি প্রতিষ্ঠান করতে যাচ্ছে। আমরা সেগুলোকে নেগেটিভ বলবো যে, তাদের পক্ষে এগুলো করা সম্ভব না। কারণ তারা একটিতেই লেজেগোবরে অবস্থা করে ফেলেছে। আমি সরকারের উচ্চমহলে বিষয়টি বলবো যেন এখানে আধুনিক একটি ল্যাব স্থাপন করা হয় এবং যাবতীয় তথ্য উপাত্ত সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়।

সাভারের মাটি দূষিত হয়ে গেছে, দূষিত হয়ে গেছে সাভারের পানি, এখানকার বাতাসও দূষিত। এ ছাড়া সাভারের আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটারের কথা হচ্ছে, সেখানেও নাকি বর্জ্য ইনজেক্ট করা হয়। সুতরাং আমি মনে করি, সাভার একটা অভিশপ্ত জনপদে পরিণত হতে যাচ্ছে। এটা হতে দেয়া যাবে না। এর আগে তিনি কমিশনের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে একটি ট্যানারী পরিদর্শন করেন এবং ট্যানারী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে মতবিনিময় করেন।

এ বিষয়ে ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, আমরা এখানে সবচেয়ে যেটি ভালো প্রতিষ্ঠান সেটিই দেখেছি। কিন্ত সেখানে আমরা সন্তুষ্ট হতে পারেনি যে তারা কি পরিমাণ চামড়া প্রসেস করে। এখানে যে পরিমাণ চামড়া প্রসেস করা যায় তার চেয়ে বেশী চামড়া আসে। আমাদের কমিশনের লোকজন গত দুই সপ্তাহ ধরে এই এলাকা চষে বেড়াচ্ছে। আমাদের যা বোঝার, যা দেখার এবং যা জানার আমরা জেনেছি। কোথায় কোথায় দূষণ হচ্ছে আমাদের কাছে সব পয়েন্টের ভিডিও করা আছে।

সবকিছু মিলিয়ে চামড়া শিল্প নগরীর ব্যবস্থাপনা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এখানে অপরিশোধিত বর্জ্য যে নদীতে ফেলা হচ্ছে না সে বিষয়ে সিইটিপি কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে নিশ্চিত করতে পারেনি। আমরা আজকে পরিদর্শন করে গেলাম, আগামী ১০ দিনের মধ্যে স্টেক হোল্ডারদের সাথে মিটিং করে এবিষয়ে নির্দেশনা দিবো।

আপাতত এখানে সিইটিপির ক্যাপাসিটি অনুযায়ী রেশনিং করে চালাতে হবে। কোনভাবেই যেন ২৫ হাজার কিউবিক মিটারের বেশী বর্জ্য না হয়। আমরা কখনই কোন কারখানা বন্ধ করার পক্ষে না, তার মানে এই না, যে ম্যানেজমেন্ট চেঞ্জ হতে পারে না। যদি এই ম্যানেজমেন্ট না পারে নতুন রিকুমেন্ট করবো, নতুন ম্যানেজমেন্ট আনা হোক। যাতে চামড়া শিল্প নগরীকে আরও বেশী আধুনিক করা যায়।

নদী দখল ও পরিবেশ দূষণের কারণে সাভার এখন বসবাসের অনুপযোগী। তিনি আরও বলেন, সাভারের তুরাগ, বংশী ও ধলেশ্বরী নদীসহ যেসব খাল রয়েছে ট্যানারী এবং শিল্প দূষণের ফলে এসব জায়গায় গোসল করার কোন উপযোগী নাই। সাভারে ট্যানারী ছাড়াও অনান্য শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিবেশ দূষণ করছে। পরবর্তীতে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী সাভার উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত উপজেলা নদী রক্ষা কমিটির বিশেষ সভায় যোগ দেন।

এসময় জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী শিল্প নগরী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও সিইটিপির কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনাকালে বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চান। বিশেষ করে নদী ও পরিবেশ দূষণ, সিইটিপ’র কার্যক্ষমতাসহ ট্যানারি সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুর ওপর জোর দিয়ে এ সংক্রান্ত সমস্যা ও এর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চান।

তবে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজস্ব অবস্থান ও কাজের অগ্রগতি তুলে ধরার চেষ্টা করলেও তাতে সন্তুষ্ট হতে পারেননি জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী।

চামড়া শিল্প নগরীর সিইটিপি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ঢাকা ট্যানারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট ওয়েস্টেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট কোম্পানির সিনিয়র প্রসেস ইঞ্জিনিয়ার সঞ্জয় ঠাকুর সিইটিপিকে সম্পূর্ণ কার্যকর দাবি করে এর বিভিন্ন কার্যক্ষমতা ও সিইটিপি থেকে কোনো অপরিশোধিত তরল বর্জ্য নদীতে অপসারণ করা হয় না দাবি করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা নিয়মিত আমাদের ল্যাবে সিইটিপি আউটলেটের পানি পরীক্ষা করি এবং তাতে দেখা যায় বিভিন্ন প্যারামিটারে এর মান নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ডের মধ্যেই থাকে।’
এ সময় এই কর্মকর্তা দাবি করেন, ‘সিইটিপি থেকে পরিশোধিত যে তরল নদীতে অপসারণ করা হয়, তার মান নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী শোধনের পর নদীতে রিলিজ করা হয় এবং নিয়মিত নিজস্ব ল্যাবে তা পরীক্ষা করা হয়।’

তবে এই কর্মকর্তার এই দাবি ভিত্তিহীন উল্লেখ করে সভায় উপস্থিত পরিবেশ অধিদপ্তরের (ঢাকা অঞ্চল) উপ-পরিচালক জহিরুল ইসলাম তালুকদার কমিশনকে জানান, সিইটিপির আউটলেটের পানিতে যে পরিমাণ দ্রবীভূত অক্সিজেন থাকার কথা দাবি করা হচ্ছে, পরিবেশ অধিদপ্তরের ল্যাবে পরীক্ষায় এর মাত্রা স্ট্যান্ডার্ড মানের চেয়ে অনেক কম পেয়েছেন তারা। এ ছাড়াও, বিভিন্ন প্যারামিটারে এর মান পরীক্ষা করে ক্রোমিয়ামসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে এর উপস্থিতি বেশি পেয়েছেন তারা। এ সময় উভয়পক্ষের উপস্থাপিত সিইটিপির তরল পরীক্ষার ফলাফলে অমিল দেখা যায়।

সিইটিপির সক্ষমতা প্রসঙ্গে ঢাকা ট্যানারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট ওয়েস্টেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট কোম্পানির সিনিয়র প্রসেস ইঞ্জিনিয়ার সঞ্জয় ঠাকুর কমিশনকে জানান, সিইটিপিতে ২৫ হাজার কিউবিক মিটার তরল বর্জ্য পরিশোধনের সক্ষমতা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে ট্যানারিগুলোতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করার কারণে এর পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়।

তবে এই বেড়ে যাওয়ার কারণে তরল বর্জ্য অপরিশোধিত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘নির্দিষ্ট সক্ষমতার বাইরে অতিরিক্ত বর্জ্য সিইটিপি প্রবেশ করলে সেক্ষেত্রে এর মানে কিছুটা ভিন্নতা এলেও অপরিশোধিত অবস্থায় কোনো তরল পরিবেশে অপসারণ করা হয় না।’

চামড়া শিল্প নগরী পরিদর্শন শেষে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘অপরিশোধিত তরল বর্জ্য নদীতে অপসারণ প্রসঙ্গে তাদের যে বক্তব্য, তা আমাদের সন্তুষ্ট করতে পারেনি। আমি বিশেষভাবে তাদের (সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা) প্রতি বলব, যেন রেশনিংয়ের মাধ্যমে ২৫ হাজার কিউবিক মিটার, অর্থাৎ সক্ষমতার অধিক তরল বর্জ্য যেন কোনোভাবেই উৎপন্ন না হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, আগামী ১০ দিনের মধ্যে ট্যানারি সংশ্লিষ্ট যারাই আছেন, সব স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আমরা সভা করব কীভাবে এটিকে আরও উন্নত করা যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা জানেন-লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের যে সনদ সেটি যদি পাওয়া যেতো, তাহলে এই চামড়া খাত কয়েক ধাপ এগিয়ে যেত। কিন্তু আমি এখানে এসে, লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের সনদ পাওয়ার জন্য তাদের তেমন কোনো আগ্রহ, অগ্রগতি লক্ষ করলাম না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা সরকারের উচ্চ মহলে সুপারিশ করব, কীভাবে এই খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়, কারণ আমরা কেউই চাই না শিল্প বন্ধ হয়ে যাক, প্রয়োজনে ম্যানেজমেন্ট চেঞ্জ করে হলেও এটিকে কীভাবে আরও আধুনিক করা যায়, এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, সেজন্য আমরা সুপারিশ করব। শুধু তো ট্যানারি নয়, সাভারে আরও অনেক শিল্প কলকারখানা আছে যারা পরিবেশ দূষণ করে যাচ্ছে, বর্তমানে সাভারের পানি দূষিত, মাটি দূষিত, বসবাসের অযোগ্য নগরীতে পরিণত হয়েছে এই সাভার।’

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘২০২৩ সনের ১৭ মার্চের মধ্যে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের আগে ঢাকার চারপাশের সকল নদ-নদী দূষণমুক্ত করব। আমরা সেই লক্ষে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এখন প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে নদ-নদী দূষণমুক্ত করা।’

পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জহিরুল ইসলাম তালুকদার জানান, সাভার বিসিক চামড়া শিল্প নগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) এখনো পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পায়নি। এছাড়া সাভার বিসিক চামড়া শিল্প নগরীর অধীনস্থ কোনো কারখানারই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই।

কতদিন নাগাদ সিইটিপি পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পাবে এমন প্রশ্ন করা হলে ঢাকা ট্যানারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট ওয়েস্টেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর মুস্তাক আহমেদ কোনো উত্তর দেননি।

আলোচনা সভায় সাভারের মাটি দূষণ, পানি দূষণ, বাতাস দূষণ, সর্বপরি শিল্প কারখানার বর্জ্য দিয়ে ভূগর্ভস্থ্য পানি দূষণ এবং পৌরসভার বর্জ্য দিয়ে নদী-খাল দখল এবং দূষণের বিষয়টিও উঠে আসে।

এসময় বিশেষ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, সাভারকে বাঁচাতে হলে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালাতে হবে। তবে পৌরসভার বর্জ্য দিয়ে নদী ভরাট এবং দূষণের বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে জানতে চেয়ে পৌর মেয়র হাজী আবদুল গনির বক্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
এ ঘটনায় আগামী একমাসের মধ্যে পৌরসভার বর্জ্য নদীতে ফেলা বন্ধ করার পাশাপাশি দখল এবং দূষণের বিষয়ে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। অন্যথার তার বিরুদ্ধে জাতীয়ভাবে সংবাদ সম্মেলন করার আল্টিমেটাম দেন।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

সত্যের সন্ধানে নির্ভীক কিছু তরুণ সংবাদকর্মী নিয়ে আমাদের পথচলা

তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ডিএফপি’র মিডিয়া তালিকাভুক্ত ঢাকা জেলার একমাত্র স্থানীয় পত্রিকা