বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সর্বশেষ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সিনিয়র সহসভাপতি হয়েছিলেন আবদুস সালাম মুর্শেদী। কিন্তু এবার তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন আরেক তারকা ফুটবলার শেখ মোহাম্মদ আসলাম।

গত তিন মেয়াদে বাফুফের সদস্য পদে থাকা আসলাম এবার সিনিয়র সহসভাপতি প্রার্থী। পরিবারসহ করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন আসলাম। দুইদিন আগে করোনামুক্ত হয়েছেন। এখন তিনি বাফুফের ভোটের ময়দানে সালাম মুর্শেদীকে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত।

দুই জনের বাড়িই খুলনায়। অনেকে বলছেন, শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ে থাকবেন না আসলাম। তাদের সম্পর্ক নাকি মামা-ভাগ্নে। কিন্তু তা অস্বীকার করেছেন শেখ মোহাম্মদ আসলাম, ‘অনেকে এটা বলেন। কিন্তু তার সাথে আমার ওই ধরনের কোনো সম্পর্ক নেই। সে আমার মামার বাড়ির পাশে বাড়ি করেছেন বলে অনেকে এ কথা বলেন। তবে আমাদের সম্পর্ক ভালো।’

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত থাকা অবস্থায় আসলামকে ফোন দিয়েছিলেন সালাম মুর্শেদী। ‘আমাকে কল দিয়েছিলেন। তবে আমি রিসিভ করতে পারিনি। পরে আমি ফোন করে ধন্যবাদ জানিয়েছি। সে যাই হোক, ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও আমাদের সম্পর্কের কোনো অবনতি হবে না’-বলছিলেন শেখ মোহাম্মদ আসলাম।

নির্বাচনের ময়দানে শেষ পর্যন্ত থাকবেন উল্লেখ করে সাবেক এ তারকা ফুটবলার বলেন, ‘আমি যদি ১ ভোটও পাই ,তাহলেও শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাব। জানি আমার প্রতিপক্ষের অনেক টাকা। তবে আমি মনে করি, কাউন্সিলররা যদি সঠিক সিদ্ধান্ত নেন তাহলে আমাকেই ভোট দেবেন।’

গত এক যুগ বাফুফেতে ছিলেন। কিন্তু অনেকের অভিযোগ আপনাকে সেভাবে ফুটবলের কার্যক্রমে দেখা যায়নি। কেন? ‘আসলে আমাকে কোনো কাজ করতে দেয়া হয়নি। কোনো কমিটিতে রাখা হয়নি। দায়িত্ব পেলে কি কাজ করতে পারি সেটা তো স্কুল টুর্নামেন্ট করেই দেখিয়েছিলাম। স্কুল টুর্নামেন্টের জন্য ইসলামী ব্যাংক ৫ কোটি টাকা দিয়েছিল। সেটা বাফুফের মুখ দেখে দেয়নি, আমাকে দেখে দিয়েছিল।’

এই নির্বাচনেও যদি এমন হয় আপনি পাস করলেন এবং বাকিরা আগের মতোই প্রতিপক্ষ তাহলে তো একই ঘটনা ঘটতে পারে, আপনাকে কোনো কাজ করতে দেয়া হবে না। তাহলে কি করবেন? জবাবে শেষ মোহাম্মদ আসলাম বলেন, ‘যদি আমাকে কোনো কাজ করতে দেয়া না হয়, তাহলে এক মিনিটও চেয়ার আগলে থাকব না। পদত্যাগ করে চলে আসব।’

বিগত দিনে কোনো দায়িত্ব না দেয়ার পরও আপনি বাফুফে ছেড়ে যাননি। এমন অভিযোগও করছেন অনেকে। ‘না। কথাটা ঠিক নয়। একমাত্র আমিও পদত্যাগের উদাহরণ রেখেছি। দ্বিতীয় মেয়াদে আমি তো সদস্য পদ থেকে রিজাইন করেছিলাম। তাই আগামীতেও যদি এমন ঘটে আমি থাকব না’-বলেন শেখ মোহামম্মদ আসলাম।

ভোটে বিজয়ী হওয়ার জন্য আপনি কতটা আশাবাদী? বাফুফের বর্তমান এ সদস্য বলেন, ‘আমি শুধু টাকাকে ভয় পাই। কারণ, টাকার তুলনা করলে আমি প্রতিপক্ষের কাছে নস্যি। তবে আমি কাউন্সিলরদের কাছে অনুরোধ করব তারা যেন সঠিক সিদ্ধান্ত নেন। আর সেটা নিলেই আমি ভোট পাব। আমার আত্মবিশ্বাস আছে। কারণ আমার প্রতিপক্ষ দীর্ঘদিন ওই পদে থেকে ফুটবলের উন্নয়নের জন্য কি কাজ করেছেন সেটা সবাই জানেন।’