সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর সিনহা মো. রাশেদের মৃত্যুর ঘটনকে কেন্দ্র করে প্রকাশ পাচ্ছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। যার ধারাবাহিকতায় এবার জানা গেল ঘটনাস্থলে সাবেক ওসি প্রদীপের উপস্থিতি ও বিকৃত আচরণের কথা।

সিনহা নিহতের পর ৩ জনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন তৎকালীন বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের প্রধান লিয়াকত আলী। এরমধ্যে ওসি ও এসপিও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ঘটনাস্থল থেকে প্রথমেই টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশের সঙ্গে কথা হয় লিয়াকতের যার এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা জানান প্রদীপ কুমার।

ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত এক প্রত্যক্ষদর্শী সিএনজি চালক জানান সিনহাকে গুলি করে হত্যার কিছু সময়ের মধ্যেই সেখানে উপস্থিত হন টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার। এ সময় মাটিতে পড়ে থাকা নিহত সাবেক মেজরের লাশে কয়েকবার লাথি মেরে বিশেষ কোনো কারণে নিজের ক্ষোভ ঝাড়েন প্রদীপ। যা থেকে স্পষ্টত বোঝা যায় যে, সুনির্দিষ্ট কোনো কারণেই পরিকল্পিতভাবে সে রাতে পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে নির্মমভাবে খুন করা হয় মেজর (অব.) সিনহাকে।

প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য মতে, গাড়ি থেকে মাথার ওপর দু’হাত তোলা অবস্থায় বেরিয়ে আসতে আসতে চালকের আসনে থাকা লোকটি বলতে থাকেন- বাবা আমার সম্পর্কে আপনারা একটু জানুন…তবে তার বক্তব্য শেষ না হতেই গুলি চালান লিয়াকত।এরপর সে নিজের মোবাইল বের করে ফোন দেয় কোথাও তার মিনিট ১০/১২ পরেই সেখানে উপস্থিত হন প্রদীপ কুমার। এ সময় কিছু একটা বলতে বলতে দুই-তিনবার মৃত সিনহার লাশে সজোরে লাথি মারেন।

জানা গেছে, ৩১ জুলাই রাত ৯টা ৩০ মিনিটে তৎকালীন বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের প্রধান লিয়াকত তার ব্যক্তিগত মোবাইল থেকে তৎকালীন টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপের অফিসিয়াল নম্বরে ফোন করেন। তিন মিনিট কথা বলেন তারা।

এরপর ৯ টা ৩৩ মিনিটে মালখানার ইনচার্জ কনস্টেবল আরিফের ব্যক্তিগত নম্বরে ফোন করেন। তার সাথে ১ মিনিট কথা বলেন। এরপর ৯টা ৩৪ মিনিটে কক্সবাজারের পুলিশ সুপারের ব্যক্তিগত নম্বরে ফোন করেন লিয়াকত। সেখানে তাদের কথা হয় তিন মিনিট।