নোয়াখালী সংবাদদাতা : ধর্ষণের অভিযোগে থানায় সাধারণ ডায়েরি (ডিজি) করার পর ভুক্তভোগী পরিবারকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী পৌরসভার সোনাইমুড়ী পশ্চিম পাড়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা রবিবার (২ আগস্ট) রাতে সোনাইমুড়ী থানায় অভিযোগ দিলেও, মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসা করতে পুলিশের কাছ থেকে দুই দিনের সময় নেন। এদিকে অভিযুক্ত শহীদের পক্ষের লোকজন তাদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, সোনাইমুড়ী পশ্চিম পাড়ার ওই মেয়েটির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে একই এলাকার নূর মোহাম্মদের ছেলে শহিদ (২৩)। মেয়েটিকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে। ঈদের পরদিন রবিবার রাত ৮টার দিকে ওই মেয়েটি বড় বোনের সঙ্গে পাশের বাড়িতে সুপারি আনতে গেলে তাকে মুখ চেপে ধরে ঘরের পেছনে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। প্রতিবেশী লোকজন ঘটনাটি দেখে ফেলায় তাদের আটক করে পরে ছেড়ে দেয়।
মেয়েটির মা জানায়, এ ঘটনার পর রবিবার রাতেই তিনি শহিদের বিরুদ্ধে সোনাইমুড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগটির তদন্ত ভার দেওয়া হয় এসআই আমির হামজাকে। তবে স্থানীয় সাবেক আনসার কমান্ডার আবু তাহেরসহ শহিদের পক্ষের লোকজন এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিয়ে কালক্ষেপণ করে। সোমবার (৩ আগস্ট) বিকালে আবু তাহের তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে শহিদ, তার অভিভাবক ও তাকে ডেকে শালিস বৈঠক বসায়। সেখানে তার মেয়ে জানায়, শহিদের সঙ্গে এর আগে দু’বার শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে তার। যদিও শহিদ সভায় উপস্থিত লোকজনের সামনে মেয়েটিকে চেনে না ও তার সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই বলে দাবি করার সঙ্গে সঙ্গে বৈঠক শেষ করেন আবু তাহের।
কান্নাজড়িত কন্ঠে মেয়েটির মা বলেন,  ‘আমার মেয়ের সম্মান গেলো। এখন বাসা ছেড়ে দেওয়ারও হুমকি দিচ্ছে। শহিদ, তার ভাই এবং তাদের লোকজন আজকের মধ্যে এলাকা ছেড়ে না গেলে, রাস্তার ওপর লাশ ফেলে দেবে বলে হুমকি দেয়। এরপর থেকে দুই মেয়েকে নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
আবু তাহেরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে, সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
সোনাইমুড়ী থানার এসআই আমির হামজা বলেন, রবিবার রাতে তিনি অভিযোগের তদন্ত ভার পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনাটি স্থানীয় পর্যায়ে মীমাংসার করতে বাদী দুই দিনের সময় চেয়েছেন। যার কারণে মামলা রেকর্ড করতে দুই দিন দেরি হয়।
সোনাইমুড়ী থানার ওসি গিয়াস উদ্দিন বলেন, রবিবার রাতে করা অভিযোগ যাচাই-বাছাই শেষে, মঙ্গলবার (৪ জুলাই) দুপুরে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ এনে নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন বলেন, যেহেতু বাদী সামাজিকভাবে মীমাংসার জন্য তদন্ত কর্মকর্তা থেকে দুই দিনের সময় নিয়েছেন এখানে পুলিশের কিছুই করার ছিল না।