জিয়াউর রহমান শাওন : সাভার ও ধামরাই উপজেলার অধিকাংশ গ্রামে বন্যার পানি ভয়াবহ রুপ ধারণ করেছে। বন্যার  পানিতে তলিয়ে গেছে ফসলের ক্ষেত, বাড়ির আঙ্গিনা। এসব অঞ্চলের  বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট, হাট-বাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানিতে একাকার হয়ে যাচ্ছে। যোগাযোগ ব্যাবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভোগান্তির চরমে পৌঁছেছে এসব এলাকার মানুষ। সামনে ঈদুল আযহার বেচাকেনা কম হওয়ায় ব্যাবসায়ীদেরও মাথায় হাত।
এছাড়া কৃষিনির্ভর এসব গ্রামে কুরবানির পশু বেঁচাকেনা নিয়েও বিপাকে পরেছে ক্রেতা-বিক্রেতারা। পর্যাপ্ত নৌকার অভাবে কর্মজীবী মানুষের কর্মস্থলে গমন করাও দূরুহ হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাভার পৌর এলাকার নামা গেন্ড, রাজাসন, ঘাসমহল, বেদেপাড়া, ভাগলপুরসহ সাভার উপজেলার কাউন্দিয়া, বনগাঁও, ভাকুর্তা, তেঁতুলঝোড়া, সাভার সদর ইউনিয়ন, বিরুলিয়া, পাথালিয়া, আশুলিয়া, ধমাসোনা, শিমুলিয়া ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নঅঞ্চল এবং ধামরাইয়ের অধিকাংশ গ্রাম এখন বন্যা কবলিত। এসব গ্রামের ছোটবড় প্রায় সব রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় যান চলাচল এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এছাড়া নৌকার দাম বেড়ে যাওয়ায় এবং পর্যাপ্ত নৌকা না থাকায় চলাচল কষ্টকর হয়ে গেছে বলে জানায় এসব এলাকার লোকজন। ফলে কর্মজীবী মানুষেরা সময়মতো কর্মস্থলে পৌছাতে বেগ পেতে হচ্ছে।
বন্যার পানির কবলে এসব এলাকার অর্থনীতিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানির নিচে বিলীন হয়ে গেছে ফসলি জমি, ডুবে গেছে পুকুর ও মাছের হ্যাচারিগুলো। কয়েকজন মৎসচাষীর সাথে কথা বলে জানা যায় শত চেষ্টা করেও মাছ আটকে রাখাতে না পাড়ায়  সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন তারা। নুর হোসেন নামে এক মৎসচাষী জানান এখনও মাছ আটকানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখলেও পানির ক্রমাগত বৃদ্ধির কারনে আশার আলো দেখছেননা তিনি তবুও হাল ছেড়ে দেননি । এছাড়া গরু পালনকারী কৃষকেরা কুরবানির গরু নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। পানিবন্দী হওয়ায় ক্রেতারা  বাড়িতে আসতে পারছে না, অাবার হাটে  নিতেও যথাযথ বেগ পেতে হচ্ছে। সীমিত অাকারে হাট বসলেও সেখানে উপযুক্ত দামে গরু বিক্রয় হচ্ছে না। সেখানে অারও জানা যায়, বন্যা কবলিত মানুষ কোরবানি না দেওয়ায় গরুর চাহিদাও  কমে গেছে।
এদিকে শিমুলিয়া, আমতলা, নাল্লাপোল্লা, কালিয়াকৈরসহ বেশ কয়েকটি বাজার এখন পানির নিচে। ফলে এসব বাজারের দোকানদার ও ব্যাবসায়ীরাও ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। দোকানে পানি উঠে যাওয়ায় ঈদের বেচাকেনা বন্ধ হয়ে গেছে অনেক ব্যাবসায়ীদের। কেউ অাবার দোকানের মালামাল একটু উচু রাস্তার পাশে বসে বিক্রি করছে। ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় গৃহহীন মানুষের ভোগান্তি অবর্ণনীয়।
https://www.youtube.com/watch?v=K_QyD8cEYfk