দেশে দেশে নিজের বিষাক্ত ছোবল বসিয়েছে সময়ের সঙ্গে মহামারি হয়ে গর্জে ওঠা প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। নিত্যদিন বিশ্বজুড়ে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এই মরণব্যাধির সংক্রমণ। এ দিকে, নিত্যদিন এই মরণ ভাইরাস নিয়ে গবেষণায় উঠে আসছে ভয়াবহ তথ্য।

ইতোমধ্যেই কিছু তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) মাধ্যমে করোনা ভাইরাস ছড়ায়। তবে এ বিষয়ে আরও ব্যাপক গবেষণার প্রয়োজন। গত জুলাইয়ে চীনা বিজ্ঞানীরা অনুসন্ধান করে দেখেছেন, করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত ১০ জন রোগীর সবাই একই রেস্টুরেন্ট থেকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। যদিও তারা একই পাশের টেবিলে বসে ডিনার সারছিলেন। কিন্তু টেবিলগুলো তিন ফুটের বেশি দূরত্বে অবস্থিত ছিল। তারা মনে করছেন, এয়ারকন্ডিশনার থেকে শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ একজন সংক্রমিত ব্যক্তি থেকে অন্যদের সংক্রমিত করেছে।

এ দিকে, ইউনিভার্সিটি অব নেব্রাস্কা মেডিক্যাল সেন্টারের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তির রুমের বায়ুতে এমনকি ছয় ফুট দূরত্বে সংগৃহীত নমুনা বায়ুতে ভাইরাসটির জিনগত উপাদান শনাক্ত হয়েছে। তবে এর মাধ্যমে অন্য ব্যক্তি সংক্রমিত হতে পারে কি না তা গবেষণা করা হচ্ছে।

সার্বিক অবস্থায় বিভিন্ন দেশের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এখন মনে করছেন, এয়ারকন্ডিশনারকে ভাইরাস ছড়ানোর একটি মাধ্যম হিসেবে বিচেনায় রাখা উচিত। যখন বাইরের তাপমাত্রা বেশি, তখন এয়ারকন্ডিশনারগুলো বাইরের এবং রুমের ভেতরের বায়ু মিশ্রিত করে। বাইরে যত বেশি গরম হবে এয়ারকন্ডিশনার তত বেশি বায়ুমিশ্রিত করবে এবং গরম বায়ুকে বাইরে প্রেরণ করে। যখন একই ছাদের নিচে কেউ করোনা সংক্রমিত থাকে, ফলে তার থেকে করোনা ভাইরাস বায়ুর মাধ্যমে খুব দ্রুতই ছড়িয়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস থেকে বাঁতচে হলে করণীয় কী? জেনে নিন-

* ঘরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ব্যবহার করলেও ঘরকে আবদ্ধ না রেখে বাইরের আলো-বাতাস চলাচলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করুন। বাসার দরজা-জানালা মাঝেমধ্যে খুলে রাখুন।

* ঘরকে ভাইরাসমুক্ত রাখার আরেকটি কৌশল হলো, বিশেষ দেয়াল বা সিলিং মাউন্টেড বক্স ব্যবহার করা, যা আলট্রা-ভায়োলেট রশ্মি বিকিরণ করে। এতে ক্ষতিকর জীবাণুগুলোকে মারা যায়, তবে ত্বকের কোনো ক্ষতি হয় না। এই সিস্টেম ব্যবহার করে অনেক বায়ুবাহিত ভাইরাস, যেমন যক্ষ্মা ইত্যাদির প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করা গেছে।

* ‘এয়ার ক্লিনার’ যন্ত্র ব্যবহার করে একই বাসায় কেউ অসুস্থ হলে ভাইরাস যেন না ছড়ায় তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। অনেকে বেশ ভালো ফলও পেয়েছেন এটা ব্যবহার করে। এ ব্যাপারে Association of Home Appliance Manufacturers থেকে ভালো পরামর্শ মিলবে।

* এয়ারকন্ডিশনার চালু রাখার সময়ও ফ্যান চালু রাখুন। এতে করে বায়ুপ্রবাহ বজায় থাকবে।

* রুমে লাগাতে পারেন এগজস্ট ফ্যান। তবে ফ্যান নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন। নিয়মিত এসি পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখুন।