চলমান করোনা পরিস্থিতিতে সৃষ্ট আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকার  কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি (সিএমএসএমই) খাতের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করলেও ঋণের টাকা ফেরত না পাওয়ার আশঙ্কায় এ খাতে ঋণ দেওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছে না ব্যাংকগুলো। এ কারণে এসব খাতের ঋণে নিশ্চয়তা দিতে ২ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই সিদ্ধান্তের অনুমোদন হয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সিএমএসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের যে ঋণ দেয়, এর নিশ্চয়তাদানকারী (গ্যারান্টার) হিসেবে থাকবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অতীতে কোনও সময়ে ক্রেডিট গ্যারান্টি দেওয়া হয়নি। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি মাইলফলক। করোনায় দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তা কাটিয়ে উঠতে এই সুযোগ দেওয়া হলো।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত নীতিমালা অনুযায়ী, যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের বেশি তারা এই সুবিধা পাবে না। ফলে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকের পাশাপাশি বেসরকারি অনেক ব্যাংকও এ সুবিধার বাইরে থাকবে। ব্যাংকগুলো কুটির, ক্ষুদ্র ও ছোট উদ্যোক্তাদের নতুন করে যেসব ঋণ দেবে, তার বিপরীতে নিশ্চয়তা নিতে পারবে। এ জন্য প্রথম বছরে ১ শতাংশ হারে গ্যারান্টি মাশুল দিতে হবে। পরের বছরগুলোতে ৫ শতাংশের নিচে খেলাপি ঋণ থাকা ব্যাংকগুলো দশমিক ৫ শতাংশ হারে মাশুল দেবে। এর বেশি খেলাপি থাকা ব্যাংক মাশুল দেবে দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে।

নীতিমালা অনুযায়ী, যেসব ঋণে নিশ্চয়তা দেওয়া হবে, ওই ঋণের ওপর নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখতে হবে না। শুধু নতুন ঋণেই এই নিশ্চয়তা দেওয়া হবে। নিশ্চয়তা থাকা কোনও ঋণ আদায়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসলে, পুরো টাকা ফেরত দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সিএমএসএমই খাতের জন্য যে ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল— এ খাতের প্রণোদনার ঋণে নিশ্চয়তার মেয়াদ হবে ৩ বছর। প্রণোদনার বাইরে ঋণে নিশ্চয়তার মেয়াদ হবে ৫ বছর।