ফুলকি ডেস্ক : অস্ট্রেলিয়ায় বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের বাধ্যতামূলক ভাবে থাকতে হচ্ছে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে। আর এই কোয়ান্টোইনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে দেশটির বিভিন্ন হোটেলে। তবে করোনা সংক্রমণ রোধে নেয়া এই পদক্ষেপ যেন আরো কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশটির জন্য। হোটেলগুলোতে থাকা লোকজন কোনো বিধি-নিষেধের তোয়াক্কা না করে মেতে উঠেছে উদ্দাম যৌনতায়। আর এর ফলে সেখানে ফের বেড়ে গেছে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা।

অস্ট্রেলিয়ায় করোনা পরিস্থিতি বেশ সফলতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণে আসার পর গত জুন মাস থেকে মেলবোর্ন শহরসহ বেশ কিছু অঞ্চলে ফের বেড়ে গেছে করোনার সংক্রমণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ঘটনার সঙ্গে কোয়ারেন্টাইনে থাকা লোকজনের নিয়মকানুন অমান্য করাসহ উদ্দাম যৌনতার সম্পর্ক রয়েছে।

দেশটির প্রশাসন জানিয়েছে, যেসব হোটেলে কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম ভঙ্গের ঘটনা ঘটছে, সেসব হোটেলের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেয়া হবে।

সম্প্রতি মেলবোর্নের একটি নামী হোটেল থেকে একদিনে ৩১ জন করোনা পজিটিভ চিহ্নিত হয়েছেন। অন্য আরো দুটি হোটেল থেকেও বেশ কয়েক জন শনাক্ত হয়েছেন। পরবর্তীতে তারা প্রত্যেকেই স্বীকার করেছেন যে কোয়ারেন্টাইন সময় কাটাতে নিজেরা যৌনতায় ব্যস্ত ছিলেন।

যেহেতু করোনার প্রকোপে অনেক মানুষ চাকরি খুইয়েছেন তাই অনেকেই যৌনতায় মজেছেন সেই দুঃখ ভুলতে। আর কিছু হোটেলও এ ব্যাপারে সাহায্য করেছে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন জানিয়েছেন, এই ঘটনায় দোষী প্রমাণিত হলে উপযুক্ত শাস্তি দেয়া হবে।

মেলবোর্নে নতুন করে আবার লকডাউন শুরু করা হয়েছে। আগামী দুসপ্তাহের জন্য বাইরের দেশ থেকে কোনো অতিথি অস্ট্রেলিয়ায় ঢুকতে পারবেন না। এছাড়াও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে বসবাসকারী কেউ মেলবোর্নে আসতে চাইলে অনুমতি লাগবে।

তবে এই ঘটনা একটি নতুন প্রশ্ন তৈরি করে দিল। বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, করোনা আবহে যৌনসঙ্গম করা নিরাপদ। তাহলে কীভাবে ছড়াল করোনা সংক্রমণ?

সূত্র: সিএনএন, সংবাদ প্রতিদিন